শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:১০

বিহারে বিধানসভার নির্বাচন বুধবার

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বিহারে বিধানসভার নির্বাচন বুধবার
সোমবারই প্রথম পর্বের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন

করোনাভাইরাসের মধ্যেই ভারতের বিহার রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন হতে চলেছে। রাজ্যটিতে বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৪৩টি। এর মধ্যে প্রথম পর্বে আগামীকাল বুধবার রাজ্যটির ৭১ বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই পর্বে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১৪ লাখ  ৮৪ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৬ জন। আর নারী ভোটার ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ১০১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫৯৯।

 প্রায় ১০,০৬৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে এই পর্বে। এর মধ্যে ৯৫২ জন পুরুষ ও ১১৪ জন নারী প্রার্থী। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্যটির ছয় মন্ত্রী। ভোট গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে ৩১ হাজার ৩৮০টি।

এবারের নির্বাচনে প্রধান লড়াই হবে শাসক জোট এনডিএ ও বিরোধী মহাজোটের মধ্যে। এনডিএ জোটে রয়েছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ), বিজেপি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জিতেন রাম মাঝির দল হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা। 

এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি) এবার একাই লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

অন্যদিকে বিরোধী জোটে রয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), কংগ্রেস ও বাম দলগুলো। এ ছাড়া নির্বাচনী লড়াইয়ে আছে লোকতান্ত্রিক জনতা দল, শিবসেনা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, এআইএমআইএম’র মতো দলগুলোও।
 
শীর্ষ দলগুরোর মধ্যে জেডিইউ ৩৫টি আসনে, বিজেপি ২৯টি, আরজেডি ৪২টি, কংগ্রেস ২১টি এবং বামেরা ৮টি আসনে লড়াই করছে।

সোমবারই ছিল প্রথম পর্বের নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তরফেই নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী প্রচারণা চালিয়েছে। ক্ষমতায় এলে বিহারবাসীর জন্য আগাম গাল-ভরা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও দিয়ে রেখেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। 

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বুথ ফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে যে, বিহারে নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটই ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বার্তা দিয়েছিলেন বিহারে এবার বিজেপি জোটের এনডিএ সরকার হবে। তবে গত নির্বাচনের তুলনায় এবারে ভালো ফল করতে পারে বিরোধী জোটের অন্যতম শরিক দল আরজেডি। বিশেষ করে ভোট ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে কড়া টক্কর দিতে তৈরি আরজেডি নেতা ও লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব।
 
তবে নির্বাচন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিহারে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। মঙ্গলবার চার মিনিটের একটি ভিডিওবার্তায় সোনিয়া বলেন, ‘নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বিহারের সরকার ক্ষমতা ও অহংকারে মত্ত হয়ে রয়েছে, এরা এখন অন্য পথে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের কাজ ও কথায় অনেক ফারাক রয়েছে। রাজ্যের শ্রমিকরা অসহায় বোধ করছেন, কৃষকরা বিপর্যস্ত, যুবসমাজও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের মানুষকে ভঙ্গুর অর্থনীতির জ্বালা সহ্য করতে হচ্ছে।’ 

এ সময় দিল্লি ও বিহারের সরকারের বিরুদ্ধে নোট বাতিল, লকডাউন, অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে ‘নতুন বিহার’ গঠনের আহ্বান জানান সোনিয়া।

তার দাবি ‘বিহারের মানুষ কংগ্রেস তথা মহাজোটের সঙ্গে আছে এবং এটাই বিহারের আওয়াজ। রাজ্যে পরিবর্তনের সময় এসেছে।’ করোনা মহামারির মধ্যেই নির্বাচন, তাই সেকথা মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যেই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
 
করোনাকালে ভোটের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হচ্ছে না। প্রতিটি বুথেই থাকছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইউনিট, ফেস মাস্ক, হাতের গ্লাভস, পিপিই কিট, ফেস শিল্ড।
 
রাজ্যে বাকি দুই পর্বের ভোট আগামী ৩ এবং ৭ নভেম্বর হবে। ভোট গণনা আগামী ১০ নভেম্বর। আগামী ২৯ নভেম্বর বিহারের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন বিধানসভা গঠন করতে হবে। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
 
 
 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর