শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৫৬
প্রিন্ট করুন printer

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতদের পরিবারকে বিচারের আশ্বাস মমতার

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতদের পরিবারকে বিচারের আশ্বাস মমতার
নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতদের পরিবারের স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ মমতার।

পশ্চিমবঙ্গে চলমান বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোচবিহার জেলার শীতলকুচিতে সহিংসতার ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিবারের স্বজনদের সাথে দেখা করলেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার মেয়াদ শেষ হতেই বুধবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় যান মমতা। মাথাভাঙা হাসপাতালের পাশের মাঠে তৈরি হয় শহিদ মঞ্চ। সেখানেই নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করলেন তৃণমূল নেত্রী। চতুর্থ দফার ভোটে নিহত ভোটার আনন্দ বর্মনের মামা ও দাদুও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

নিহতদের স্বজনদের সাথে দেখা করার পর ওই ঘটনায় সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সবার পরিবারের সাথে দেখা করেছি। আনন্দ বর্মনের স্বজনদের সাথেও দেখা করেছি। নির্বাচন মিটে গেলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যা যা তদন্ত করার দরকার, তা করবো। দোষীদের সাজা হবে। আনন্দকে কারা মেরেছে, সেই খুনিদেরও ধরা হবে।’ নির্বাচনের পর শীতলকুচিতে গণহত্যার শহিদদের জন্য শহিদ বেদি বানিয়ে দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মমতা।

তিনি আরও বলেন, ‘যারাই দোষী, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমি করবোই। আমি মনে করি এই ঘটনার বিচার হওয়ার দরকার। নিহতদের পরিবার ন্যায্য বিচার পাবে। আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না। দোষী যত বড়ই হোক না কেন, তাদের বিচার হবেই।’

তৃণমূল নেত্রী আরও জানান, ‘নিহত এক ব্যক্তির স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আরেক নিহত ব্যক্তির একটা ছোট সন্তান আছে। এগুলো কে করেছে? তাই আমরা সকলকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবো।’

মমতার বক্তব্য, ‘রাজ্যের মানুষই এই অপরাধের জবাব দেবে।’ নিহতদের পরিবারের পক্ষেও বলা হয় তারা মুখ্যমন্ত্রীর ওপরই আস্থা রাখছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে শীতলকুচি। ভোট চলাকালীন সকাল ১০টা নাগাদ শীতলকুচি বিধানসভার ১২৬ নম্বর বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর (সিআইএসএফ) গুলিতে চারজন নিহত হয়। জখম হয় আরও কয়েকজন। তারও আগে শীতলকুচিতেই আরও একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

পাঠানটুলির ২৮৫ নম্বর বুথে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ১৮ বছর বয়সী আনন্দ বর্মন নামে নতুন এক ভোটারের। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুর্বৃত্তরাই গুলি চালিয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষে ওই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এই ঘটনার পরই ১১ এপ্রিল ওই সহিংসতা কবলিত এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল মমতা ব্যানার্জির। কিন্তু ওই সহিংসতার ঘটনায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয় আগামী ৭২ ঘণ্টা ওই জেলায় এলাকায় কোনো রাজনৈতিক নেতা যেতে পারবেন না। সেই নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য হন মমতা।

এদিকে, মমতার শীতলকুচি সফর নিয়ে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার জানান ‘শীতলকুচি নিয়ে তদন্ত তো হবেই। তবে যখন বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, তখন যারা মঞ্চের ওপর থেকে উসকানি দিয়েছিল, তারাও সেই তদন্তের আওতায় আসবে।’

পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ টি আসনের জন্য আট দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চম দফায় আগামী ১৭ এপ্রিল ৪৫টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। বুধবার সন্ধ্যায় এই কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন ছিল। শেষ দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল। গণনা আগামী ২ মে। পশ্চিমবঙ্গের সাথেই আসাম, কেরেলা, তামিলনাড়ু ও পডুচেরিতেও বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর