শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২০:২৯
আপডেট : ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ২১:১০
প্রিন্ট করুন printer

করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি

উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই : মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই : মমতা

করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় সোমবার রাত ১০টা থেকে আগামী ছয় দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে দিল্লিতে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ সরকার। প্রতিদিনই ভারতের রাজধানীতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫,৪৬২ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে। এমন অবস্থায় সোমবার রাত থেকে আগামী ২৬ এপ্রিল সকাল ৫টা পর্যন্ত ছয় দিনের লকডাউনের ঘোষণা দেন কেজরিওয়াল।

তিনি বলেন ‘প্রতিদিন এই ভাইরাসে ২৫ হাজার মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন। আমরা এখনই যদি লকডাউনের পথে না হাঁটি তবে বড়সড় বিপদের মুখে পড়তে পারি। কারণ তা না হলে স্বাস্থ্য পরিষেবা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। আমি সকলকে আহ্বান জানাবো যে, এটা একটা ছোট লকডাউন, মাত্র ছয় দিনের জন্য। আপনাদের কাউকে দিল্লি ছাড়তে হবে না। আমার বিশ্বাস এই সময়সীমা আর বাড়াতে হবে না। সরকার আপনাদের পাশে আছে, সবরকম সাহায্য করা হবে।’

লকডাউন চলাকালীন জরুরি পরিষেবা, খাদ্য, ওষুধ পরিষেবা চালু থাকবে। মাত্র ৫০ জন মানুষ নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানও করা যেতে পারে। এর জন্য আলাদা অনুমতি নিতে হবে। বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিস যদিও খোলা থাকবে।

করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশের পাঁচটি শহর-লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারানসী, কানপুর ও গোরখপুরে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। লকডাউনের সময় সমস্ত শপিংমল, রেস্তোরাঁ, হোটেল, মুদির দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। যদিও যাবতীয় জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে।

এদিকে চলমান বিধানসভার নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গেও করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী সভা-মিটিং-মিছিল থেকে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ রোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন মালদহে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে রোজ একাধিক বৈঠক করছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও মুখ্যসচিবের অধীনে করোনা প্রতিরোধে বিশেষ টাস্কফোর্স তৈরি করা হয়েছে। অকারণে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। আমরা করোনার বেড ও সেফ হোমের সংখ্যা বাড়িয়েছি।’

তবে এখনই নাইট কার্ফু বা লকডাউন চালু করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকার নাইট কার্ফু করোনা প্রতিরোধের উপায় বলে মনে করে না। বদলে নির্বাচনী প্রচারণার রাশ টানা প্রয়োজন বলে মনে হয়। তাই আমি নিজেও প্রচারণা কমিয়ে দিয়েছি। কলকাতায় আমি আর কোনো সভা করবো না। কেবলমাত্র ২৬ এপ্রিল শেষ দিনে কলকাতায় আমার একটা সভা আছে।’ তার প্রশ্ন লকডাউন করলেই কি সব কমে যাবে? মানুষকে একটু সময় দিতে হবে না?’

রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীকেই দায়ী করেছেন মমতা। তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৬ মাস ধরে তিনি (মোদি) কেন পদক্ষেপ নেননি? ওকে এর উত্তর দিতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীই দায়ী। তিনি যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতেন, তবে পরিস্থিতি এতটা উদ্বেগজনক হতো না। পরবর্তী তিন দফার ভোটগ্রহণ একটি মাত্র দফায় করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। 

রাজ্যের ২৯৪টি আসনে মোট আট দফায় নির্বাচন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ শেষ। বাকি রয়েছে আরও তিনটি দফার (২২ এপ্রিল, ২৬ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল) ভোট। ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই ইতিমধ্যেই রাজ্যটিতে সমস্ত নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। করোনার কথা মাথায় রেখে কলকাতাতে নিজের সমস্ত সভা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জিও। 

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সিনিয়র কংগ্রেস নেতা মনমোহন সিং। এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ তাকে দিল্লির ‘অল ইন্ডিয়া মেডিকেল ইন্সটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস’ (এইমস)-এ ভর্তি করানো হয়। সোমবারই তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে বলে জানা গেছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল উভয়েই টুইট করে মনমোহনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর