Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০

দখলবাজদের কবলে শীতলক্ষ্যা

জরিমানা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না * বালু তোলার নামে নদীতে স্থাপনা

দখলবাজদের কবলে শীতলক্ষ্যা

রাজধানীর উপকণ্ঠে শীতলক্ষ্যায় ফের শুরু হয়েছে নদী তীরের সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলে দখলের প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা এসব দখল কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত। কয়েক দিনের মধ্যেই নদী তীরের কাঁচপুর ও সুলতানা কামাল ব্রিজের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা চলে গেছে অবৈধ দখলদারের কব্জায়। ফলে দিন দিন বাড়ছে এই দুই ব্রিজের নিরাপত্তা ঝুঁকি।

দখলে যাওয়া নদী তীরের এসব জায়গায় নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে অর্ধশতাধিক ইট, সুরকি, সিমেন্ট ও বালু বেচাবিক্রির টংঘর। এ ছাড়া ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরিবেশ অধিদফতরের এনফোর্স বিভাগ নদী দখল ও দূষণের অভিযোগে ২২ অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে নানা ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিগত তিন বছরে ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে সরকারি এ সংস্থাটি। এ ছাড়া ২২টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, যে কোনো অবস্থাতেই নদী দখল রোধ করব। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কমপক্ষে ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই নদীকে গ্রাস করছে। নদীবিষয়ক টাস্কফোর্সের বিগত ১৯তম সভায় এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার অবহেলায় কাঁচপুরের শীতলক্ষ্যার নদী তীরের প্রায় ৪৪ বিঘা জমি চলে গেছে অবৈধ দখলে। এই বিতর্কিত কার্যক্রম ঢাকতে বিগত দেড় বছরে কাঁচপুর ব্রিজ থেকে শীতলক্ষ্যা নদী তীরের সোয়া চার কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় হাঁটার পথ বা 'ওয়াকওয়ে' নির্মাণ করা হয়। আট ফুট প্রশস্ত এই পথ নির্মিত হচ্ছে নদীর ঢাল (ফোরশোর) থেকে প্রায় ৬০ ফুট ভেতরে।

গতকাল সরেজমিন ডেমরার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করিম জুট মিলের কাছে শীতলক্ষ্যা তীরে কয়েকশ 'ব্লক' রাখা। হাঁটার পথ নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ায় সেখানে টংঘর বানিয়ে দেদার চলছে শীতলক্ষ্যার তীর দখলের উৎসব। এমনকি আশপাশে কিছু অবৈধ স্থাপনাও সম্প্রতি গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া সারুলিয়া বাজারের পেছনে নদী তীরে বালু ও পাথরের ব্যবসা চলছে। নদীর পানির কাছাকাছি 'ওয়াকওয়ের' লাল খুঁটি পোতা। আশপাশে রাখা বালু ও পাথরের কারণে 'ওয়াকওয়ে' নির্মাণের প্রাথমিক কাজ চোখে পড়ে না। ৬০ ফুট ভেতরে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে নৌ-পরিবহন সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা বালু ব্যবসাকে আপাতত পুরোপুরি নিরুৎসাহিত করছি না। এ ছাড়া জায়গা যাতে দখল না হয় সে জন্য বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি থাকবে। কিন্তু ২০০৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পারে কেরানীগঞ্জ মান্দাইল মাতৃসদন থেকে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের সময় তা নদীর সীমানার ৫০-১০০ ফুট ভেতরে হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ। নদীবিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় বিআইডবি্লউটিএর প্রতিনিধিরা এই আপত্তি জানান। তবে সভায় পাউবোর প্রতিনিধি জানান, প্রচুর টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় বাঁধ নির্মাণকাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (বন্দর) মো. আবুল বাশার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অবৈধ দখল এড়াতে ওই জায়গায় বৃক্ষ রোপণ করার প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীর তীর থেকে শীতলক্ষ্যা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ পাউবোর বাঁধ নির্মাণের পর বাঁধ থেকে তীর পর্যন্ত ভেতরের জায়গাটুকুও অবৈধ দখলে চলে গেছে। হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা উল্লেখ করে সিনিয়র আইনজীবী ড. তুহিন মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নদীর ঢাল (ফোরশোর) থেকে ৫০ মিটার বা ১৫০ ফুট দূর পর্যন্ত কোনো খুঁটি বসানো বা হাঁটার পথ করা যাবে না। কারণ নদীর জায়গা ওই পর্যন্ত। সরকার কোনো খুঁটি স্থাপন বা হাঁটার পথ করতে চাইলে ঢালের ৫০ মিটার দূরে করতে হবে। সেখানে ব্যক্তিমালিকানার জমি থাকলে জমি তারই থাকবে। কিন্তু স্থাপনা করা যাবে না। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর ২৭ কিলোমিটার অংশে পাঁচ হাজার ৮৮১টি খুঁটি বসানো হয়। বরাদ্দ ছিল আট কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বশীল সূত্রমতে, কর্তৃপক্ষের কাছে শীতলক্ষ্যা-বালু নদীর প্রায় ২১০ একর অংশ বেহাত হওয়ার হিসাব আছে। শীতলক্ষ্যার পূর্ব পাড়ে ১৩ শতাধিক এবং পশ্চিম পাড়ে সাত শতাধিক খুঁটি নতুন করে না বসালে বেহাত হওয়া জায়গা স্থায়ীভাবে হাতছাড়া হবে।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অবৈধ ভরাট ও দখলের বিরুদ্ধে দফায় দফায় নোটিস করা হয়। উচ্ছেদও হয়, কিন্তু আবার দখল হয়ে যায়। শীঘ্রই কঠোরভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

 


আপনার মন্তব্য

Works on any devices

সম্পাদক : নঈম নিজাম

ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট নং-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট নং-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : পিএবিএক্স-০৯৬১২১২০০০০, ৮৪৩২৩৬১-৩, ফ্যাক্স : বার্তা-৮৪৩২৩৬৪, ফ্যাক্স : বিজ্ঞাপন-৮৪৩২৩৬৫।

E-mail : [email protected] ,  [email protected]

Copyright © 2015-2019 bd-pratidin.com