Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:৩৯

কৃষি সংবাদ

ঢাকায় জমেছে সবজি মেলা

মোস্তফা কাজল

ঢাকায় জমেছে সবজি মেলা

ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় গতকাল দ্বিতীয় দিনে মুখর হয়ে উঠে জাতীয় সবজি মেলা। এবারের মেলায় ৭২টি স্টলে ১১২ প্রকার সবজি থাকলেও অনেকেই কিনতে পারছেন না পছন্দের সবজি। কারণ বেশির ভাগ স্টলেই সবজির প্রদর্শনী চলছে। বিক্রি করা হচ্ছে হাতে গোনা কয়েকটি স্টল থেকে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আয়োজিত এ মেলা ও প্রদর্শনী আগামীকাল শেষ হবে। মেলায় চই মরিচ, পঞ্চমুখী কচু, সুগন্ধী কচু, টক বেগুন, তিঁত বেগুন, সীতা লাউ, বিনি কচু, সাতকড়াসহ অসংখ্য পরিচিত-অপরিচিত সবজির দেখা মিলছে জাতীয় সবজি মেলা ও প্রদর্শনীতে। এ ছাড়া এমন অনেক সবজি আছে যার নাম একটি কিন্তু জাত ১৫ থেকে ২০ ধরনের। পুরনো ও নতুন এসব সবজি দেখে কারও কারও তো চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে। ৪০ কেজির মিষ্টি কুমড়া দেখে দর্শনার্থীরা বিড়বিড় করে বলেই ফেলছেন, এও কি সম্ভব? রাজধানীর খামারবাড়ির আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী মিলনায়তন চত্বরে জাতীয় সবজি মেলায় সরেজমিন দেখা যায়, দর্শনার্থীরা সবজির প্রকারভেদ দেখে মুগ্ধ। কেউ যদি সবজি কিনতে চান, সে সুযোগও আছে সীমিত আকারে। প্রদর্শনী প্রাঙ্গণের মূল ফটক পার হলেই দেখা যায় সবুজ গাছে লক লক করছে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি। কয়েক ধাপ এগোলে চোখে পড়বে বিশাল আকৃতির নানা সবজি দিয়ে তৈরি পিরামিডের। সবজির এই পিরামিড ঘিরে দর্শনার্থীদের উৎসাহ ও কৌতূহলের যেন শেষ নেই। আলু, শিম, ফুলকপি, টমেটো, মূলা, বেগুন, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি দিয়ে সাজানো হয়েছে এ পিরামিড। বাম পাশে রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্যাভিলিয়ন। এতে দেখানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাষ করা সবজির চিত্র। একেবারে শেষ কর্নারে রয়েছে বসত বাড়ি ও আঙিনায় সবজি ও মাছ চাষের একটি চিত্রায়ন। এ ছাড়া দেশের সবজি বাজারে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণও যে অনেক বড় অবস্থানে আছে, তার প্রমাণও মিলছে এ মেলা ও প্রদর্শনীতে। নামকরা সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিজেদের পণ্যের পরিচিতি ও গুণগত মান তুলে ধরা হচ্ছে মেলায়। শুধু সবজি প্রদর্শনী নয়, এখান থেকে সবজি চাষিরাও পাচ্ছেন নানা তথ্য। এ ছাড়া গাছে ধরা এসব সবজির দেখা পেয়ে দর্শনার্থীরাও অনেক খুশি। মাটি ছাড়া সবজি উৎপাদন, মাশরুমের নানা ব্যবহার, স্টলের মাধ্যমে সবজি বিক্রি—সব কিছুরই দেখা মিলছে এতে। পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব পদ্ধতিতে সবজির চাষে যে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে তার প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়েছেন উদ্যোক্তারা। যেখানে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে বাংলাদেশ সেখানে রপ্তানিতেই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? আর তাই সবজি রপ্তানিতে কী কী করতে হবে তার তথ্যও মিলছে এ মেলায়। হর্টেক্স ফাউন্ডেশন এমন সব নানা আয়োজন নিয়ে দর্শনার্থীদের তথ্য সরবরাহ করছে। মেলায় হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের স্টলের হাসিমুন্নাহার জানান, তাদের স্টলে অনেকে কিনতে আসেন। কিন্তু তারা বিক্রি করেন না। আবার অনেকে অচেনা সবজি সম্পর্কে জানতে চান। আমাদের স্টলে ৩৭ প্রকার সবজি রয়েছে। স্টলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ‘সাতকরা’ কেনার খুবই আগ্রহ প্রকাশ করেন তেজগাঁও কলেজের একজন শিক্ষক। হাসিমুন্নাহার জানান, বেশিরভাগ দর্শনার্থী এসে ‘সাতকরা’ ও ‘তৈকর’ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এগুলো পাহাড়ি এলাকায় পাওয়া যায়। আমরা সিলেট থেকে সংগ্রহ করেছি। এগুলো আচার তৈরি বা তরকারিতে দিয়ে খাওয়া যায়।


আপনার মন্তব্য