Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ০২:২৬

জঙ্গি শফিকুলের ‘ভয়ঙ্কর’ তথ্য দিলেন সহযোগী মিলন

নাজমুল হুদা, সাভার

জঙ্গি শফিকুলের ‘ভয়ঙ্কর’ তথ্য দিলেন সহযোগী মিলন

ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলামের আশ্রয়দাতা হিসেবে মিলন হোসেন নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার নিপু শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আটক মিলন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা এলাকার বেতকিবাড়ী গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকার পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক। এর আগে শনিবার  রাতে আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকার ভাদাইলের লালপাহাড় মহল্লা থেকে মিলনকে আটক করে পুলিশ।

ওসি বলেন, আটক মিলন কয়েক বছর আগে আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকার মাদারী মাদবর একাডেমি নামের একটি স্কুলে চাকরি করতেন। পরে তিনি গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি শফিকুল ইসলামকে ওই স্কুলে চাকরি দেন। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় চাকরি করার পর গত বছর ডিসেম্বর মাসে শফিকুল চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। এদিকে শনিবার গভীর রাতে আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকার ভাদাইলের লালপাহাড় মহল্লা থেকে মিলনকে আটক করে পুলিশ। পরে সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে এসব ঘটনা ও নিহত শফিকুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকার করেছেন মিলন। তবে আটক শিক্ষক মিলনের স্ত্রী জোহুরা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে নিহত জঙ্গি শফিকুলের সম্পর্ক ছিল। তবে এর অর্থ তার স্বামী জঙ্গি নন। তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে নিয়ে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা থানাধীন কেতকি গ্রামে তার বাবা আবদুল জলিল, মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে ঈদ করতে যান। পরে তাকে গ্রামে রেখে মিলন ১৩ জুলাই বিদ্যালয়ের এসে যোগ দেন। ওই দিনই তাকে বিদ্যালয় থেকে আটক করে পুলিশ।  জানা গেছে, মিলনের আহ্বানেই শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নূর মোহাম্মদও ছিলেন। গুলশান হামলার ঘটনায় শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নিহত হন এবং নূর মোহাম্মদকে পুলিশ আটক করে। এদের সঙ্গে আরও দুজন শিক্ষক ছিলেন। তাদের নাম ইলিয়াস ও আমিরুল ইসলাম। তারা কোথায় আছেন তা তিনি জানেন না।

পিয়ার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক শাহিনুর রহমান বলেন, যাচাই না করে শফিকুলকে নিয়োগ দেওয়াটা তাদের ঠিক হয়নি। তবে স্কুলের হিসাবরক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক শফিকুলের কাছে স্কুলে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন লোকজন আসতেন। তবে তিনি জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতায় জড়িয়ে পড়েছেন এ বিষয়টি তারা বুঝে উঠতে পারেননি।

আশুলিয়া থানার ওসি মহসিনুল কাদির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আশুলিয়া এলাকায় কয়েক শ কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে কয়েকটির বিরুদ্ধে জামায়াত ও জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্কুলগুলোকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান সফিউল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে জঙ্গি তত্পরতায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জঙ্গি শফিকুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকার করেছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর