শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০৫

বেনাপোল বন্দরে ভয়াবহ আগুন

শত কোটি টাকার ক্ষতি, গাজীপুরে পুড়ল স্পিনিং মিল

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

বেনাপোল বন্দরে  ভয়াবহ আগুন
বেনাপোল বন্দরে গুদামে গতকাল আগুন লাগে —বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলের ২৩ নম্বর শেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়েছে। গতকাল ভোররাতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভারত ও বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। আগুন পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওপেন ইয়ার্ডের বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়। বন্দর-সংলগ্ন থানা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ থানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে বলে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানান। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরের দিকে হঠাৎ আগুন লাগে শেডে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শেডের আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশে খোলা আকাশের নিচে রাখা বিভিন্ন মেশিনারি, টায়ার, সুতা, কাগজ, কেমিক্যাল এবং অন্যান্য আমদানিপণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ২৩ নম্বর শেডের পাশে অবস্থিত বন্দর থানার সামনে রাখা বেশ কয়েকটি ভারতীয় ট্রাক ও বিভিন্ন সময় জব্দ করা প্রাইভেট কারও পুড়ে গেছে। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুন পুরোপুরি নিভলে ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ জানানো যাবে।

বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান জানান, বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ও ভারতের একটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করে। প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। তবে বন্দরের নিজস্ব ১০টি ফায়ার ফাইটার ইউনিট অকেজো থাকায় তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো যায়নি বলে তিনি জানান। ১৯৯৬ সালে বেনাপোল বন্দরে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ২০০ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। ওই সময় আমদানিকারকরা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বন্দরের নিজস্ব কোনো বীমা না থাকায় সে সময় কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। গতকালের আগুনের ঘটনায় বন্দর, কাস্টমস এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর বন্দরের সহকারী পরিচালক আবদুল হান্নানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন আরও চার সদস্য। তারা সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন। এ ছাড়া একজন যুগ্ম-সচিবকে প্রধান করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তিন সদস্যবিশিষ্ট অপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে হেলিকপ্টারে বেনাপোল বন্দরে আসেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

গাজীপুরে স্পিনিং মিলে আগুন : গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে ডেনিম রিসাইক্লিং প্লান্টের একটি সুতার কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে কারখানার বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোর সোয়া ৫টার দিকে একতলা টিনশেড ভবনের ডেনিম রিসাইক্লিং প্লান্টের মারগাছা থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তে আগুন ফিনিশিং, নিটিং, তুলা ও সুতার গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে কারখানার নিজস্ব ফাইটিং ব্যবস্থায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রথমে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদর দফতর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, জয়দেবপুর, শ্রীপুর, টঙ্গী, সাভারের ইপিজেড, মিরপুর, ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের আরও ১২টি ইউনিটের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। কারখানার ফায়ার অ্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাধারণ ব্যবস্থাপক মো. হরমুজ আলী জানান, কারখানার ভিতর বিপুল পরিমাণ ফিনিশিং গুডস, সুতা তৈরির কাঁচামাল, কেমিক্যাল, সুতা, তুলা, আমদানি করা সুতা তৈরির পলিয়েস্টার ও মেশিনপত্র ছিল। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি তিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) মো. মোজাম্মেল হক জানান, ভবনটি একতলা হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ভবনটি স্টিল স্ট্রাকচার হওয়ায় আগুনে টিন গলে যাওয়ার কারণে পানি পৌঁছাতে সমস্যা হয়। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লাগে। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদিকে আগুনের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসক এস এম আলম জানান, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন) মো. জহুরুল আমিন মিয়াকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। উভয় কমিটিকে ডেনিম রিসাইক্লিং প্লান্টে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে বলা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য