শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২২:৫৩

শেষ বিদায় কবি বেলাল চৌধুরীকে

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

শেষ বিদায় কবি বেলাল চৌধুরীকে
Google News

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে ফেনীর শর্শদীর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি বেলাল চৌধুরী। এর আগে গতকাল বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমাগার থেকে তার লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় এ সময় সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা জানায় কবির কফিনে। শুরুতেই শ্রদ্ধা জানান ইমেরিটাস প্রফেসর আনিসুজ্জামান। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, কবি রবিউল হুসাইন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ, মুহাম্মদ নূরুল হুদা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক অজয় রায়, সাংবাদিক হারুন হাবীব, আনোয়ারা সৈয়দ হক, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, কবি নাসির আহমেদ, স্থপতি শামসুল ওয়ারেস, নাট্যাভিনেতা ইনামুল হক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, কবি নূহ-উল-আলম লেনিন, কবি কামাল চৌধুরী প্রমুখ। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে শ্রদ্ধা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাসদ, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, রাইটার্স ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, উদীচী, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, কথা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র, ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, জাতীয় কবিতা পরিষদ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, ভারতীয় হাইকমিশনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে কবিপুত্র আবদুল্লাহ ইউসুফ প্রতীক চৌধুরী বলেন, বাবা অসুস্থ থাকার সময় অনেকে সহযোগিতা করেছেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও বিশিষ্টজনদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। আনিসুজ্জামান বলেন, বেলাল চৌধুরী বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি। তিনি আমাদের প্রিয় মূল্যবোধগুলো তুলে ধরেছেন। তার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সখ্য। তিনি দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কবি বেলাল চৌধুরী ছিলেন ‘সাহিত্যের বটবৃক্ষ’। তার কবিতায়, লেখনীতে বার বার বাংলার মাটি, মানুষ ও আকাশের কথা উঠে এসেছে। তিনি শুধু বাংলাদেশেই নন, কলকাতায়ও সমান জনপ্রিয় ছিলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও কবিতা আন্দোলনে কবি বেলাল চৌধুরী অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের কবিদের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের সেতুবন্ধ তিনি রচনা করে গেছেন। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আপাদমস্তক বাঙালি এই মানুষটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীরা যখন কোনো বিপদে পড়তেন, তখন সর্বাগ্রে কবি বেলাল চৌধুরীর দ্বারস্থ হতেন। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলাল চৌধুরীর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বেলাল চৌধুরীর মৃত্যুতে সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি যেমন বড় মাপের সাহিত্যিক ছিলেন তেমনি বড় মাপের সাংবাদিকও ছিলেন।

সম্পাদনা ও অনুবাদ সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল ও শৈল্পিক।

শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধার পর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ফেনীর শর্শদীতে নেওয়া হয় বেলাল চৌধুরীর লাশ। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বেলাল চৌধুরী।

ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ২৪ এপ্রিল দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি বেলাল চৌধুরী। এরপর বাদ মাগরিব পল্টন জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে কবির লাশ রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের হিমাগারে। প্রসঙ্গত, ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর ফেনীর শর্শদীতে জন্মগ্রহণ করেন কবি বেলাল চৌধুরী। ’৬৩ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান তিনি। ’৭৪ সালে কলকাতা থেকে দেশে ফিরে আসেন কবি। কলকাতায় থাকাকালে সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’ সম্পাদনায় যুক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর তিনি সম্পাদনা করেন পল্লীবার্তা, সচিত্র সন্ধানী, ভারত বিচিত্রাসহ বিভিন্ন পত্রিকা। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পরিষদ সম্মাননা, জাতীয় প্রেস ক্লাব সম্মাননা, কৃত্তিবাস ষাট বছর পূর্তি সম্মাননা, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন।