শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৪

ভাঙন এবার বরিশালে

রাহাত খান, বরিশাল

ভাঙন এবার বরিশালে
সুগন্ধা নদীর তীব্র ভাঙনে বাবুগঞ্জের মহিষাদী এলাকায় রশিদ মোশারফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনের একাংশ — বাংলাদেশ প্রতিদিন

বরিশাল জেলার অর্ধশত পয়েন্টে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি, কৃষি জমি, গাছপালাসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে এখন নিঃস্ব। নদী ভাঙনে সহায়-সম্বল হারানো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে। তারা নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর পূর্বপ্রান্তও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত হুমকিতে রয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙনকবলিত এলাকা চিহ্নিত করে নদী ভাঙন প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জানা যায়, প্রতিবছর বরিশালে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু এবার ভাঙন তীব্র হয়েছে আগস্টের মাঝামাঝিতে। তখনই বাবুগঞ্জের মহিষাদী এলাকায় সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় রাশিদা-মোশারফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন। এখনো সেখানে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকা। এ ছাড়া বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর পূর্বপ্রান্তও সুগন্ধা নদীর ভাঙনে হুমকিতে। এ ছাড়া কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত। গত কয়েক বছরে নগরীর রূপাতলী ধানগবেষণা সড়কের খেয়াঘাট সংলগ্ন ফকিরবাড়ি, সিকদার বাড়ি, খলিফা বাড়ি, মোল্লা বাড়ি ও খান বাড়ির বৃহদাংশ কীর্তনখোলার গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনই ওই এলাকায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ করতে না পারলে আগামীতে দপদপিয়া সেতুর পশ্চিমপ্রান্ত নদী ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক। শুধু এই দুটি স্থানে নয়, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জের রমজানকাঠী, উত্তর বাহেরচর, সুগন্ধা নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জের চরসাধুকাঠী (সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের বাড়ি সংলগ্ন), আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ, মহিষাদী এলাকায় রাশিদা-মোশারফ একাডেমি ও ক্ষুদ্রকাঠী, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে মীরগঞ্জ বাজার, জয়শ্রী নদীর ভাঙনে মৃধারহাট ও নোমরহাট, রাঙামাটি নদীর ভাঙনে বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশা ও বলাইকাঠী, কীর্তনখোলার ভাঙনে সদর উপজেলার চরকাউয়া ও সাতানী এবং মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনার ভাঙনে উলানিয়াসহ জেলার অর্ধশতাধিক স্থানে নদী ভাঙন তীব্র হয়েছে। নদী ভাঙনে এসব এলাকার মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বাবুগঞ্জের মহিষাদী এলাকায় সুগন্ধা নদীর ভাঙনের কবল থেকে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু রক্ষায় সড়ক বিভাগ সেখানে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে স্থানীয়ভাবে ব্লক সংগ্রহ করে নগরীর রূপাতলী ধান গবেষণা সড়কের খেয়াঘাট এলাকার মানুষ নদী ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। কিন্তু তারপরও ভাঙন প্রতিরোধ হচ্ছে না। তাই প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের আশঙ্কায় দিনযাপন করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ।

 বরিশাল পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রমজান আলী প্রামাণিক বলেছেন, প্রকৌশলীরা জেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তীব্র নদী ভাঙনকবলিত ৫০টি পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে। এসব স্থানে নদী ভাঙন প্রতিরোধের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। অপরদিকে মেঘনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া রক্ষায় ৩৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছে বলে জানিয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর