Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৩

কৃষি সংবাদ

সিরাজগঞ্জে টমেটোর বাম্পার ফলন

আব্দুস সামাদ সায়েম, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে টমেটোর বাম্পার ফলন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার রৌহাবাড়ী গ্রাম। গ্রামের শতাধিক বিঘা জমিতে এবার নানা জাতের টমেটো চাষ করা হয়েছে। গাছ থেকে টমেটো তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষান-কিষানিরা। অল্প পরিশ্রম ও খরচে বেশি লাভ আর খুব সহজে ন্যায্য মূল্যে টমেটো বিক্রি করতে পারায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠছে কৃষান-কৃষানিরা। কৃষান-কৃষানিরা বলছেন, কৃষি বিভাগের আওতায় সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট (আইএমএফসি) প্রকল্পের কারণে তারা এ সুফল ভোগ করছে।

রৌহাবাড়ী গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান ও ফরিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট (আইএমএফসি) প্রকল্পের মাধ্যমে চারজন কৃষক-কৃষানি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রামে ফিরে কৃষান-কৃষানি নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক টমেটো চাষের সিদ্ধান্ত নিয়ে সব কৃষক একসঙ্গে প্রায় শতাধিক বিঘা জমিতে টমেটো চাষ শুরু করেন। বিক্রির জন্য একটি কালেকশন পয়েন্ট গড়ে তোলা হয়। একদিনে সব কৃষক টমেটো তুলে কালেকশন পয়েন্ট জমা করা হয় এবং বাজার অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে কৃষকদের টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সমিতির সদস্যরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় টমেটো বিক্রি করে দেন। তারা জানান, আগে টমেটো বিক্রিতে নানা সমস্যায় পড়তে হতো। এখন আর কোনো সমস্যা হয় না। এ বছর প্রায় শতাধিক কৃষক টমেটো চাষ করেছে। ফলন ভালো হওয়ায় বিঘা প্রতি খরচ বাদে অন্তত লক্ষাধিক টাকা করে লাভ করতে পারবেন কৃষকরা। কৃষানি শাহনাজ পারভীন জানান, মহিলারা টমেটো লাগানো থেকে শুরু করে তোলা পর্যন্ত কাজ করে। বিক্রির জন্য বাজারে যেতে হয় না। কালেকশন পয়েন্টে জমা দিলে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায়। এবার এক বিঘা জমিতে টমেটো লাগিয়ে অন্তত লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে। কৃষানি পাপিয়া জানান, টমেটো চাষ করে দুই ভাবে লাভবান হচ্ছি। প্রথমে ন্যায্যমূল্যে কালেকশন পয়েন্টে বিক্রি করা হয়। এরপর কালেকশন পয়েন্টের দায়িত্বশীলরা টমেটো ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করেন। বিক্রির পর যে লাভ হয় বছর শেষে লাভের অংশ পুনরায় সদস্যদের বিতরণ করা হয়। সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হাবিবুল হক জানান, কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসল খুব সহজে এবং ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন এ জন্যই দাতা সংস্থার অর্থায়নে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নিয়ম-নীতি মেনে চলার কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় চলতি বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর