Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper

শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৯

চীন ভারত পাকিস্তান সৌদিসহ ১৫ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য

প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

চীন ভারত পাকিস্তান সৌদিসহ ১৫ দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য

বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ অন্তত ১৫টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার বিষয়ে মতামত দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চাওয়া হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ মতামত জানায়। ওপরে উল্লিখিত দেশ ছাড়াও সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, আর্জেন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় ও বহুজাতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মতামতে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে আমাদের দৃষ্টি এখন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির দিকে। সেটি প্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) কিংবা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) যাই হোক না কেন, অদূর ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণে আমাদের সেদিকেই হাঁটতে হবে। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে যেসব দেশে আমরা শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাই, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কাজটি করে থাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফরেন অফিস কনসালটেশন মিটিংয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করে। পরে এ বিষয়ে গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশি পণ্যে বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাণিজ্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বলা হয়। পাশাপাশি এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে মতামত চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির জবাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সম্প্রতি জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রপ্তানির গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানিতে নতুন নতুন পণ্য সংযোজনের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রধান অন্তরায়গুলো চিহ্নিত করে এর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্বের বাজারগুলোতে যেসব দেশ বাংলাদেশের প্রতিযোগী সেসব দেশ বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দেশ যেমন- চিলি, শ্রীলঙ্কা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার জন্য আলোচনা শুরু করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি সেসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করা গেলে রপ্তানি ঘাটতি কমিয়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রপ্তানি সম্প্রসারণে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির যে মতামত জানিয়েছে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এটি যৌক্তিক। কারণ ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। ফলে এখন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায় বিভিন্ন দেশের কাছে, সেই সুবিধা অব্যাহত রাখতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। আর এ ধরনের চুক্তির জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই গবেষক। ড. মোয়াজ্জেম বলেন, প্রথমত, কোন কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি লাভজনক হবে (ন্যাচারাল পার্টনার) সেই দেশগুলোকে আগে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর যেই দেশের সঙ্গে যে খাতে চুক্তি দরকার যেমন- কোন দেশের সঙ্গে পণ্য, কোন দেশের সঙ্গে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য চুক্তি লাভজনক হবে সেটি পর্যালোচনা করে চুক্তি করতে হবে। ঢালাও চুক্তি করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সিদ্ধান্তটি হতে হবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে। রাজনৈতিক দৃষ্টিতে কোনো প্রভাবশালী দেশের চাপে এ ধরনের চুক্তিতে গেলে দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি। আর তৃতীয় বিষয়টি হচ্ছে- এ ধরনের চুক্তি করার জন্য বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে ধরনের লোকবল, গবেষণা ও ডাটাবেজ থাকা দরকার তার অভাব রয়েছে। সরকারের উচিত হবে এ বিষয়ে আরও বেশি ডাটাবেজ সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে এসব চুক্তি থেকে দেশের স্বার্থ রক্ষা পায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর