শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৪

বৈধ বর্ডার হাটে অবৈধ চোরাচালান

সোনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বৈধ বর্ডার হাটে অবৈধ চোরাচালান

চোরাচালান ঠেকিয়ে বৈধ পথে বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যে বর্ডার হাট স্থাপন করা হয়েছে, এখন শোনা যাচ্ছে সেসব হাটে পণ্য কেনা-বেচার আড়ালে চলছে অবৈধ বাণিজ্য। অর্থ ও সোনা পাচারের অভিযোগ উঠেছে সীমান্তবর্তী ওই হাটগুলো দিয়ে। ফেনী জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।

গত ২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে বর্ডার হাটের জনপ্রতি ক্রয়সীমা ২০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৫০ বা ১০০ ডলার করা, চোরাচালান প্রতিরোধে হাটের মুখে স্ক্যানার স্থাপনসহ মোট ৭টি সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশগুলো এমন একটি সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশ-ভারত বর্ডার হাটের যৌথ কমিটির বৈঠক শুরুর আনুষ্ঠানিকতা চলছে।  আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে, যেখানে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জয়েন্ট কমিটি অন বর্ডার হাটের মিটিং সামনে রেখে আমরা সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর (যেসব জেলায় সীমান্ত হাট রয়েছে) কাছে মতামত ও সুপারিশ চেয়েছিলাম, বর্ডার হাট বিষয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের সুপারিশ পাঠিয়েছে। অর্থ ও সোনা পাচারের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের জনশ্র“তি রয়েছে, কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারপরও অভিযোগটি স্পর্শকাতর বলে এটি জয়েন্ট কমিটির বৈঠকে তোলা হবে। দুই পক্ষ একমত হলে এ বিষয়ে যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ সিদ্ধান্তে ২০১১ সালের ১৬ জুলাই কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সদর থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরে ভারতের কালাইরচর সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের বালিয়ামারী সীমান্তে সোনাভরি নদের তীরে প্রথম বর্ডার হাট চালু করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ১ মে সুনামগঞ্জের ডলুরায় চালু হয় দ্বিতীয় সীমান্ত হাট। ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার পূর্ব মধুগ্রাম ও ছয়ঘরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে চালু হয় তৃতীয় সীমান্ত হাট এবং একই বছরের ৬ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার তারাপুর সীমান্তে স্থাপিত হয় চতুর্থ সীমান্ত হাট। দুই দেশ যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় আরও ৬টি বর্ডার হাট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নাকুগাঁও এবং ভারতের ডালু সীমান্তে একটি হাট কিছু দিনের মধ্যে চালুর কথা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে ভারত সফরকালে ইস্যুকৃত জয়েন্ট কমিউনিকের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত জনগণের সুবিধার জন্য পাইলট ভিত্তিতে সীমান্ত হাট স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের ২৩ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত হাট সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়। ওই চুক্তিতে পাইলটভিত্তিতে দুটি সীমান্ত হাট স্থাপনের কথা থাকলেও এরপর দুই দেশের সরকারের সম্মতিতে এ পর্যন্ত চারটি বর্ডার হাট স্থাপন হয়। প্রথমদিকে বর্ডার হাটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য, শাক-সবজি বিক্রির সুযোগ থাকলেও পরে সমঝোতা চুক্তি সংশোধন করে বস্ত্র, ক্রোকারিজ ও মেলামাইন জাতীয় পণ্য কেনাবেচা এবং জনপ্রতি পণ্য কেনার পরিমাণ ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০০ ডলারে উন্নীত করা হয়। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষ (বর্ডার হাটের ৫ কি.মি. এলাকার লোকজন) সপ্তাহে একদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব হাটে পণ্য কেনাবেচা করার সুযোগ পান। দুই দেশের স্থানীয় মুদ্রা এবং পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এসব কেনাবেচা পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা সংরক্ষণ করেন। হাটে উভয় দেশের দুই পাশে দুটি প্রবেশ পথ থাকে। এ ছাড়া হাটের সীমানা কাঁটাতারের প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছবি সম্বলিত পরিচয়পত্র বহন করতে হয়। এতসব কঠোর নিয়মের মধ্যেও কীভাবে সোনা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠছে এ বিষয়ে জানতে ফেনীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়াহেদুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই সময় তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় কোনো মন্তব্য করতে পারেননি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর