Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মে, ২০১৯ ২৩:৩৯

অস্থিরতায় ওয়ার্কার্স পার্টি টেনশনে জাসদ

রুহুল আমিন রাসেল

অস্থিরতায় ওয়ার্কার্স পার্টি টেনশনে জাসদ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টিতে অস্থিরতা চলছে। অপর শরিক জাসদও টেনশনে আছে। চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে দল দুটির ভিতরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব-বিভক্তি।

জাসদের অনৈক্য প্রকাশ্যে না এলেও ওয়ার্কার্স পার্টির চার গ্রুপের কোন্দল ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে জেলায়। নেতা-কর্মীরাও হতাশ হয়ে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সত্যতা স্বীকার করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজনৈতিক কৌশলের প্রশ্নে ওয়ার্কার্স পার্টিতে মতভিন্নতা আছে। এ ব্যাপারে কংগ্রেসে চূড়ান্ত হবে। প্রতি চার বছর পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হিসেবে কংগ্রেস (সম্মেলন) অনুষ্ঠিত হয়। এবার আগামী জুলাই মাসে হবে এ কংগ্রেস। দলটির একাধিক সূত্র জানায়, এবার কংগ্রেস ঘিরে ওয়ার্কার্স পার্টিতে নতুন করে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নিজের স্ত্রীকে দলের কোটায় সংরক্ষিত আসনের এমপি করেছেন রাশেদ খান মেনন। সূত্র জানায়, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপির নেতৃত্বে দুই গ্রুপ আগামী কংগ্রেস ঘিরে সক্রিয় হয়ে পড়েছে। এই দুই গ্রুপের বিপরীতে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বিমল বিশ্বাস ও মনোজ সাহার নেতৃত্বে অপর একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন পলিটব্যুরোর আরেক সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ। এর বাইরে দলের তরুণ ও যুবকদের অংশটি আগামী কংগ্রেসে প্রবীণদের বিদায় জানাতে চায় বলে জানা গেছে। এসব গ্রুপিংয়ের কারণে এবার ওয়ার্কার্স পার্টির যে কংগ্রেস হতে যাচ্ছে, সেখানে দুটি রাজনৈতিক দলিল উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে দলের ভিতর আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বেশ টেনশনে আছে জাসদ। এ প্রসঙ্গে জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জাসদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ন্যায্য কথা বলতে ছাড় দেবে না।  আমাদের ভিতর কোনো হতাশা নেই। দলে অনৈক্যও নেই। তবে নেতা-কর্মীরা কিছুটা মনোক্ষুণœ আছেন। মন্ত্রিত্ব না থাকার কারণে কিছু কথাবার্তা থাকাই স্বাভাবিক। বলেছিলাম একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন করব। তবে শুধু আমাদের একার নয়, মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও নেই। যদিও আমরা আদর্শিক কারণে জোট করেছি। তবুও ১৪ দল কার্যকর করার জোরালো দাবি করছি। তবে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা বলেন, জোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আচরণ নিয়ে জাসদের ভিতর চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার দলগত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নেতা-কর্মীদের ভিতরে প্রশ্ন আছে। আগামী দিনে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলকে সংগঠিত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


আপনার মন্তব্য