Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৩

রাজপথই এখন ভরসা বিনিয়োগকারীদের

আলী রিয়াজ

রাজপথই এখন ভরসা বিনিয়োগকারীদের

প্রতিদিন কমছে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর। চলতি বছরের বাজেট পাসের পর থেকেই এ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ কাজে আসছে না। কীভাবে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে তাও যেন কেউ জানে না। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে। প্রতিদিন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। এখন রাস্তায় বিক্ষোভ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ভরসা। চলতি সপ্তাহের চার দিনের লেনদেনে সূচক বেড়েছে ৪৩ পয়েন্ট কিন্তু কমেছে ১৩১ পয়েন্ট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি পিপলস লিজিং অবসায়নের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে। আর এর সঙ্গে গ্রামীণ ফোনের কম লভ্যাংশ ঘোষণা এক ধরনের সংকট সৃষ্টি করছে শেয়ারবাজারে। অব্যাহত পতন বন্ধ করে স্থিতিশীল বাজারের প্রত্যাশায় গতকাল দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা এ নিয়ে ছয় দিন ধরে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিনিয়োগকারীরা দাবি তুলেছেন, এমন অবস্থায় যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক্ষেপ নেন। বাজারের বেহাল দশা দূর করতে ব্যর্থতার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা উচিত।  শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিনিয়াগকারীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে জেড ক্যাটাগরি এবং ওটিসি মার্কেট বন্ধ করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম ১০ শতাংশ লভ্যাংশ বাধ্যতামূলক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগও দাবি করেন তারা। চলতি সপ্তাহের বাজার লেনদেনে দেখা গেছে, চার দিনে সূচক কমেছে ১৩১ পয়েন্ট, বেড়েছে মাত্র ৪৩ পয়েন্ট। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে আর্থিক খাতের পিপলস লিজিং বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়ন করেছে। ফলে পুরো আর্থিক খাতের পরিস্থিতি খারাপ। ২২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি বাদে সবগুলোর শেয়ার দর হারিয়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর এ সময় কমেছে। সর্বশেষ লেনদেনে দেখা যায় সূচক মাত্র ৮ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩০৯ কোটি টাকা। জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বাজার থেকে বিশাল পরিমাণ টাকা বের হয়ে গেছে। উদ্যোক্তা পরিচালকরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করায় এ পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছে বাজার। এ ছাড়া বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিভিডেন্ড মুনাফার ওপর কর প্রত্যাহার করা হলেও এই সুবিধা ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী পাবেন না। কারণ এটা পেতে হলে ইটিআইএন থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে সেটা অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর নেই। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৃহৎ মূলধনী কোম্পানি নিয়ে আসতে হবে।


আপনার মন্তব্য