Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৫৭

বাহারি নামের গরুর কদর

উটের পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে নেপালি ছাগল ভুটানি গরুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাহারি নামের গরুর কদর

সাধারণত ঈদের আগের দিনই কোরবানির পশু কেনার ধুম পড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর সব হাটে এখন বিপুলসংখ্যক গরুর সমাগম। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর গরু এসেছে। উৎসুখ মানুষের নজর কাড়ছে বাহারি নামের বড় গরুরও। উটের পাশাপাশি চাহিদা রয়েছে নেপালি ছাগল আর ভুটানি গরুর। গাবতলী পশুর হাটের মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই বামপাশের কয়েকটি শেডে বাহারি নামের বড় গরু চোখে পড়ে। শেরপুর নকলার বানেশ্বরদ্দী থেকে ‘লাল বাহাদুর’ নামে একটি বড় গরু নিয়ে আনা হয়েছে। ব্যাপারী এর দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ টাকা। নেত্রকোনার কৃষ্ণপুর থেকে আনা হয়েছে ৪৫ মণ ওজনের ‘শাহজাদা’ নামের আরেকটি গরু। দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। কমলাপুর ও মুগদা হাটে ঢাকার ধামরাই থেকে আনা হয়েছে ‘লালু’ ও ‘কালু’ নামের দুটি বড় গরু। কিশোরগঞ্জের লাইমপাশা থেকে এসেছে ‘বীর বাহাদুর’ নামে একটি গরু। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বিশাল দুটি ষাঁড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাহাদুর’ ও ‘বাহুবলী’। বিশেষ শ্রেণির ক্রেতাদের নজর কাড়ে বাহারি নামের এসব গরু। তবে আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে এজাতীয় বিশালাকৃতি ও বাহারি গরুর চেয়ে মাঝারি আকারের দেশি গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি সাধারণ ক্রেতাদের। গতকালের বাজারে ৫০-৬০ হাজার টাকার গরু ছিল হাতের নাগালে। ক্রেতারা পশু কিনে সন্তোষ প্রকাশ করলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে কিছু কিছু বিক্রেতাদের মধ্যে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি হাটেই ক্রেতাদের ভিড়। হাটগুলো কোরবানির পশুতে কানায় কানায় ভরা। এবার দেশি ও মাঝারি গরুর সংখ্যা বেশি দেখা গেছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬০ হাজার থেকে লাখ টাকার নিচের দামে গরুর চাহিদাই বেশি। লাখ টাকার বেশি দামের পশু অনেকে দরদাম করলেও কেনার আগ্রহ তেমন দেখায় না। যদিও এক লাখ ১০ কিংবা ২০ হাজার হলে নিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ হাট মেরুল বাড্ডার আফতাবনগর হাট। এ হাটে পাবনা, জামালপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে নানা আকারের পশু।

এখানে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২২ কিলোমিটার ব্যাসের রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন ছোট-বড় ফাঁকা স্থান মিলে এই হাট। ফাঁকা স্থানের প্রতিটি কানায় ভরা বিভিন্ন আকারের গরু দিয়ে। কোনো কোনো তাঁবুর নিচের কিছু গরু বিক্রি হওয়ায় তা ফাঁকা হয়েছে। তাঁবুর নিচে থাকা বিশালাকৃতির গরুর বেশিরভাগই ছিল অবিক্রীত। তবে শুক্রবার বিকাল থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে গরু বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা।

বেচাবিক্রিতে জমিয়ে থাকা হাটের মধ্যেই কোথাও কোথাও নিজেরা গল্প, আড্ডা ও রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন ব্যাপারীরা। এ সময় তাদের মধ্যে এক ধরনের পিকনিকের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। হাটে টানানো তাঁবুর একপাশে কেউ আবার গরু নিয়ে দীর্ঘ সময়ের ধকল কাটাতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েনসহ ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হয়েছে। তিন দিন আগেই বিক্রি শুরু হলেও গতকালও মাঝে মাঝে দু-একটি গরুভর্তি ট্রাক আসতে থাকে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার হাটগুলোতে এবার প্রায় ২৫ লাখ কোরবানির পশু ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

আফতাবনগর হাট পরিচালনায় দায়িত্বে থাকা সোহেল বাবু এ প্রতিবেদককে জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত তাদের হাটে প্রায় ৪০ হাজার গরু বিক্রি হয়েছে।

দুপুরের কড়া রোদ উপেক্ষা করে হাটে ভিড় করেন ক্রেতারা। সকাল থেকেই জমজমাট ছিল এই গরুর হাট। ক্রেতারা দেখেশুনে পছন্দের গরুটিই দরদাম করছেন। পছন্দ হলে মূল্য ও হাসিল পরিশোধ করে খুশিমনে পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ দিনের ফাঁদে পড়তে চান না তারা। প্রতি বছর শেষ দিন গরুর দাম বাড়বে বা দাম কমবে এ দ্বন্দ্ব কাজ করে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় গরু থাকে না। ক্রেতাদের অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। আবার এর বিপরীত ঘটনাও ঘটে। প্রথমদিকে বেশি দাম চেয়ে শেষ দিন বিক্রি করতে না পেরে লোকসান দিতে হয় বিক্রেতাদের। এবারও এই ফাঁদে কেউ পড়তে চান না বলে হাটের একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতা জানালেন। তাই গরু বিক্রি হচ্ছে বিপুল সংখ্যক। দামে কিছুটা কম হলেও খরচের চেয়ে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি হলেও বিক্রিতে রাজি হচ্ছেন তারা।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী কালাম জানান, নিজের খামারের ১৫টি গরু তিনি এনেছেন। এর মধ্যে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় একটি, আর ৮০ হাজার টাকায় দুটি বিক্রি করেছেন। তবে বাকি গরুর দাম বলার মতো কোনো ক্রেতাই আসছে না। তার ভাষ্য, দামি গরুর কোনো ক্রেতাই নেই। আমাদের এগুলো ব্যবসার গরু। দাম একটু না পেলে খরচ উঠাবো কেমনে? গতবার দাম না পাওয়ায় ফিরে গেছিলাম, মনে হচ্ছে এবারও যেতে হবে। পাবনা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ইকবাল বলেন, ৬০-৮০ হাজার টাকা দামের গরু বিক্রি হচ্ছে বেশি। সামান্য লাভ হলেই ছেড়ে দিচ্ছি আমরা। কারণ হাটে গরু রাখলেই খরচ। প্রতিদিন প্রতি গরুর পেছনে ৪৫০-৫৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। মিজানুর রহমান নামে এক ক্রেতা জানালেন, দুই ছেলেকে নিয়ে হাটে গরু দেখতে এসেছিলেন। ৭৫ হাজার টাকা করে দুটি গরু কিনেছেন তিনি। ছোট আকারের পছন্দসই গরু বিক্রি হচ্ছে বেশি।


আপনার মন্তব্য