শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪২

ব্যক্তিমালিকানার স্বার্থে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

-অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন

ব্যক্তিমালিকানার স্বার্থে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন বলেছেন, ব্যক্তিমালিকানার স্বার্থ থাকায় গণপরিবহনে অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সব গণপরিবহনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। একটা করপোরেশনের আওতায় নিয়ে পরিচালনা করতে হবে। বিশ্বের সব উন্নত দেশেই এই ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে পরিবহন খাতের সঙ্গে চাঁদাবাজি, রাজনীতি, অর্থনীতি- অনেক কিছু জড়িত থাকায় এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ, এখান থেকে পরিবহনের বাইরেও অনেক পক্ষ মুনাফা নেয়। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে সরকার আন্তরিক হলেই কেবল সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব।

গতকাল মুঠোফোনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সড়কে নৈরাজ্য থামাতে সবার আগে দায়িত্ব পুলিশের। এ ছাড়া বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগসহ আরও অনেক সংস্থাকে দায়ী করা যায়। তবে ‘অন দ্য স্পট’ দেখার দায়িত্ব পুলিশের। পরিবহন খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু তারা সেটা করছেন না। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ ও দুর্নীতি জড়িত।

তিনি বলেন, পরিবহন খাতে চলছে মুনাফার প্রতিযোগিতা। মালিকরা চালকের যোগ্যতা না দেখে কাজ দিচ্ছেন। কোনো নিয়োগপত্র দিচ্ছেন না। নেই নির্দিষ্ট বেতন। মালিকরা একটা নির্দিষ্ট চুক্তিতে চালকদের বাস চালাতে দিচ্ছেন। দিনশেষে মালিককে নির্দিষ্ট টাকা দিতে হচ্ছে। যানজটের কারণে ট্রিপ কম হচ্ছে। তখন আয় বাড়াতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি গাড়ি চালাচ্ছেন চালক। ঈদের সময় ২০-২২ ঘণ্টাও গাড়ি চালাচ্ছেন। দুর্ঘটনা ঘটানো তো স্বাভাবিক। ঘুম ও ক্লান্তি কাটাতে মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালাচ্ছেন তারা। আমরা বলেছিলাম চালকদের নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি দাও। তারা যেন ঘুমাতে পারে। কিন্তু, মুনাফার কারণে সেটা হচ্ছে না। ব্যক্তি মালিকানার স্বার্থ থাকায় এভাবে শোষণ হচ্ছে। চালকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নেই। তাই তারা বাড়তি আয়ের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। সরকারের নিয়ন্ত্রণে এলে এই প্রতিযোগিতা থাকত না।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত। দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য গাড়ির ফিটনেস দেওয়া হচ্ছে। আইনে দুর্ঘটনা ঘটালে শাস্তি হয় না। ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না। মামলা বছরের পর বছর গড়ায়। সড়ক নিয়ে যে আইন তা যতটা না যাত্রীদের জন্য তার চেয়ে বেশি মালিকদের মুনাফা সঞ্চয়ের জন্য। এই মুনাফার জন্যই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি-কে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর