শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৫১

হাওরপাড়ে খামার

সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

হাওরপাড়ে খামার

মৌলভীবাজারে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে ছোট ছোট মৌসুমি গরুর খামার গড়ে উঠেছে। স্থানীয় জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের এই গরুর চাহিদাও বেশি। বিশেষ করে ঈদুল আজহায় স্থানীয় জাতের এই সমস্ত গরুর কদর বেড়ে যায়। এই খামারগুলো হাওরের প্রাকৃৃতিক ঘাসনির্ভর হওয়ায় গরু লালন-পালনে তুলনামূলক খরচ কম। সীমিত সময়ে কম খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। অন্য দিকে  অনেকেই  মৌসুমি খামারে আগ্রহীও হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ, কানিকিয়ারি, সুবিদপুর, কুবজার, গ্রামসগ কয়েকটি এলাকা ঘুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় একশ বাড়িতে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দুইটা থেকে ১৫-২০টা পর্যন্ত গরু নিয়ে এলাকার কৃষক ও বেকার যুবকরা ছোট ছোট খামার গড়ে তুলেছিলেন। পুঁঁজির অভাবে এ সব খামারিদের গরুর সংখ্যা কম ছিল। অনেকে নিজেই গরু চরানো, ঘাস সংগ্রহ, খড় খাওয়ানোসহ গরুর সার্বিক সেবাযত্ন করছেন। এতে তাদের তেমন খরচই হচ্ছে না। যাদের গরুর সংখ্যা বেশি, তারা ঘাস ক্রয় ও বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন।

খামারি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরপাড়ের মানুষ এক ফসলি বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। এ বছর ভালো ধান ফলেছে। কৃষকদের মুখে হাসিও ফুটেছিল। কিন্তু ধানের সঠিক দাম না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আবার কোনো কোনো বছর অতি বৃষ্টি ও খড়া এবং বন্যার কারণেও কৃষকদের বোরো ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকরা। এ সমস্ত ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে হাওরপাড়ের প্রান্তিক ও ছোট কৃষকরা এবং বর্গা চাষিীর অনেকেই গড়ে তুলেছেন মৌসুমি গরুর খামার। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত কয়েক বছর ধরে বোর ধানের চারা রোপণের পর, বিশেষ করে পৌষ-মাঘ মাসে গরু কেনেন তারা। কেউ চারটা কেউ ছয়টা। আবার কেউ কেউ ১৫ থেকে ২০টা গরু কেনেন। যাদের সামর্থ্য নেই যেমন বর্গা চাষিরা অন্যের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ১ থেকে ২টি গরু ক্রয় করেন। হাওরাঞ্চলে পর্যাপ্ত ঘাস ও খড়েরও প্রাচুর্য রয়েছে।

হাওরে প্রাকৃৃতিক ঘাস ও খড়ের ওপর নির্ভর করে গরু লালন-পালন করেছেন তারা। অন্য কোনো খাবার তেমন একটা খাওয়াতে হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক খাবার খেয়েই বেড়ে ওঠে এসব খামারের গরু। মাঘ মাস পরে কাউয়াদীঘি হাওরে প্রচুর ঘাস থাকে। প্রায় জৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত গরু উন্মুক্তভাবে চরে খেতে পারে।

 কোরবানির হাটে উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠা ছোট ও মাঝারি আকারের এসব গরুর  চাহিদা বড় আকারের গরুর  চেয়ে বেশি। বিক্রি করতে তেমন কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। দেশীয় এই প্রজাতির গরুর চাহিদা বাজারে অন্যান্য গরুর চেয়ে সব সময় বেশি তাকে। ঈদের সময় ক্রেতারা বাড়ি এসেই পছন্দের গরু কিনে নিয়ে যান। অল্প সময়ে অল্প পূঁজিতেই তারা ভালো মুনাফা করতে পারছেন। তবে খামারিদের অনেকেই জানান, পুঁজি সংকটের কারণে অনেকেই গরুর সংখ্যা বাড়াতে পারেননি। ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে তারা আরও বেশি গরু লালন-পালন করতে পারতেন। লাভের পরিমাণও বেশি হতো।

ঋণের জন্য কোনো ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন উত্তর দেন, ‘আমরা রাজনগরে সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, জনতা ব্যাংকে গিয়েছিলাম। সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও লোন আফিসার পলাশ দেব আমাদের পাত্তা দেননি বরং আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাই অবহেলা করে বিভিন্ন কৌশলে বিদায় করে দেন। কৃষি ব্যাংকও এই রকম বিভিন্ন কৌশলে বিদায় করে। কিন্তু জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও আমাদেরকে ব্যাংকিং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাজনগর সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান জানান, কৃষি ঋণ নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে কিন্তু যাদের জামানত নেই তাদের বেলায় একটু সমস্যা হচ্ছে।   

রাজনগর কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক রাজন চন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এ পর্যন্ত কোনো গ্রাহক এসে হয়রানি স্বীকার হননি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ বি এম সাইফুজ্জামান জানান, হাওরপাড়ে ছোট ছোট খামারের কিছু কথা তিনি শুনেছেন। এই বিষয়ে পরবর্তী সময়ে খোঁজ নিয়ে তাদের কিরকম সহযোগিতা করা যায়- সে চেষ্টা করবেন।

 


আপনার মন্তব্য