Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৫৭

কুমিল্লায় বাস দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত

পুলিশের রহস্যময় ভূমিকা, গ্রেফতার নেই পাঁচ দিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের রহস্যময় ভূমিকা, গ্রেফতার নেই পাঁচ দিনেও

কুমিল্লার লালমাই থানা এলাকায় ‘তিশা পরিবহনের’ যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ছয়জনসহ আটজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও ঘটনা তদন্তে রহস্যজনক আচরণ করছে পুলিশ। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বাসচালক কিংবা হেলপারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে দরিদ্র ওই পরিবারের আট বছরের শিশু রিফাত। অন্যদিকে, মামলাটির তদন্ত নিয়ে একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশ।

গত রাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি নিজে গিয়েছিলাম। তবে ঘটনাস্থল হাইওয়ে পুলিশের অধীন হওয়ায় এর তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমের দায়িত্ব তাদের।’ তবে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘মামলা তো ওদের কাছে। ওরাই তো মামলা নিয়েছে।’

‘ঘটনাস্থল হাইওয়ে পুলিশের, তারাই বিষয়টি দেখবে’, জেলা পুলিশ সুপারের এমন বক্তব্য তাকে জানানোর পর তিনি বলেন, ‘তাহলে আমরা বিষয়টি দেখব। এটা অত্যন্ত মানবিক বিষয়। এটা নিয়ে কোনো গাফিলতির সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জানা গেছে, ১৮ আগস্ট একটি সিএনজিযোগে নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন ওই পরিবারের তিন শিশুসহ আটজন। লালমাই থানার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জামতলী মসজিদের সামনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লাকসামগামী তিশা পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৭১৩৬) একটি বাস সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে যাত্রীবাহী বাসটি না থামিয়ে অটোরিকশাটিকে ঠেলতে ঠেলতে সামনের দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে আঘাতপ্রাপ্ত সিএনজিটি একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে লেগে আটকে যায়। সিএনজিযাত্রীদের আর্তচিৎকারেও মন গলেনি বাসচালকের। তবে স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সকিনা বেগম (৭০), তার ছেলেবউ সেলিনা বেগম (৪০), নাতি সিপন (২৩), হৃদয় (১৫), নিপু আক্তার (১৩), সিএনজি ড্রাইভার জামাল হোসেন (৩৫), সাইমন হোসেনকে (১৫) মৃত ঘোষণা করেন। শিশু সন্তান রিফাতের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে রিফাতের চাচা মহসিন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের তো আর কেউ রইল না। রিফাতের মা-বাবা-ভাইবোন তার চোখের সামনে মারা গেছে। তার চিকিৎসা খরচ চালানোর মতো সামর্থ্যও আমাদের নেই। তবে হতাশার খবর হলো, এখন পর্যন্ত ঘাতক চালক কিংবা হেলপার গ্রেফতার হননি। গাড়ির মালিককেও পুলিশ একবারের জন্য ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি। আমরা কই যাব কন?’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর