শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০৯

৪০টি দেশের মিশনে পদ চায় পুলিশ

মাহবুব মমতাজী

৪০টি দেশের মিশনে পদ চায় পুলিশ

বিশ্বের ৪০টি দেশে বাংলাদেশ মিশনে ‘পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার’সহ মোট ১৪১টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করেছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ওঅ্যান্ডএম) এস এম আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ প্রস্তাব ২৫ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, প্রবাসীদের নিরাপত্তা প্রদান, পাসপোর্ট, অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানে সহজলভ্যতা আনতে বাংলাদেশি দূতাবাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন যৌক্তিক। বিশ্বের ১৫টি দেশে অবস্থান করা চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি, বঙ্গবুন্ধ হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, যুদ্ধাপরাধী, জেলহত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার ও প্রত্যাবর্তনের সুবিধার জন্য বিদেশে দূতাবাসে পুলিশ কর্মকর্তাদের অবস্থান করা দরকার। এ ছাড়া সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, মানব পাচার, চোরাচালান, মানি লন্ডারিং, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধ সমূলে নির্মূল করার জন্য বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে একজন পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের পদ সৃষ্টি করা আবশ্যক।

প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মতামতের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ওঅ্যান্ডএম) এস এম আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আরও বেশি যাচাই-বাছাই করছি। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলব। কীভাবে ওই প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে আগামী সপ্তাহে মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। দূতাবাসগুলোতে যেসব পদ রয়েছে, সেগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা যায় কি না, নাকি নতুন করে পদ সৃষ্টি করতে হবে, তা নিয়ে আরও গভীর আলোচনা হবে। পুলিশ সদর দফতরের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বিশ্বের ৫১ দেশে বাংলাদেশের ৬৫টি পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে ভিআর/পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়, যা পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে দেওয়া হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টের ভেরিফিকেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে। সেখান থেকে যায় এসবিতে। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদন একই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়। এতে যথেষ্ট সময় লাগে এবং পাসপোর্টপ্রত্যাশীরা হয়রানির শিকার হন। বৈদেশিক দূতাবাসগুলোয় পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হলে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি এসবিতে পাঠানো ও ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে পারবে। আর বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিযুক্ত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, পলাতক আসামি প্রত্যাবাসন, সংশ্লিষ্ট দেশে পুলিশি হয়রানি রোধসহ কল্যাণ-সংক্রান্ত বিষয় সরাসরি তদারক করা যাবে। এতে আন্তরাষ্ট্রীয় অপরাধ, অপরাধী প্রত্যাবর্তন, ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্ট আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ জোরদার হবে। এ ছাড়া পলাতক সন্ত্রাসী বা বিদেশে থেকে অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ সদর দফতরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হবে। পুলিশের পদায়ন ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনেও ওই পদ সৃষ্টি জরুরি বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। প্রস্তাবে তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদর দফতরে একটি অতিরিক্ত আইজি পদ, দুটি ডিআইজি পদ, ৪০ দেশের মিশনে ৪০ জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার পদ এবং ৯৮টি সহায়ক স্টাফ পদ সৃষ্টি অনুরোধ করা হয়। যেসব দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়, সেগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, তুরস্ক, কুয়েত, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কাতার, ওমান, মিসর, বাহরাইন, ব্রুনাই, মিয়ানমার, নেপাল, জর্ডান, ইরাক, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রিস, স্পেন, মরিশাস, লিবিয়া ও মরক্কো।


আপনার মন্তব্য