শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩১

দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি

দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৫

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি মানিক-৪ ও বোগদাদীয়া-১৩ নামের দুই লঞ্চের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি মানিক-৪ ও ঢাকা থেকে রাত ১০টার দিকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী বোগদাদীয়া-১৩ মেঘনা নদীর চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে দুটির লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হুমায়ুন কবির বন্দুকছি (৩৫) নামের এক যাত্রী। নিহত হুমায়ুন কবির বন্দুকছি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের মৃত আবদুল হাই বন্দুকছির ছেলে। হুমায়ুন এমভি মানিক-৪ লঞ্চের যাত্রী ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় এমভি মানিক লঞ্চের সামনের অংশ ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে বোগদাদীয়া-১৩। এতে এমভি মানিকে থাকা আরও ১৫ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে গন্তব্যে ফিরলেও একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো নিখোঁজ আছে কি না তা জানা যায়নি। এদিকে দুর্ঘটনায় কেউ নিখোঁজ আছে কি না তা দেখতে গতকাল সারা দিন ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মোহনায় ঘটনাস্থলে নারায়ণগঞ্জের বিআইডব্লিউটিসির ডুবুরি দল এবং পাগলা-ফতুল্লার নৌবাহিনীর ডুবুরি দল তল্লাশি চালায়। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পরপরই লঞ্চ দুটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় জব্দ করা যায়নি। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জায়েদুল আলম জানান, ঘটনাস্থলটি তিনটি নদীর মোহনায় হলেও মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ তৎপর ছিল। বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে দুই দিকে চলে যায়। পরে এমভি মানিক নিহত যাত্রীকে নিয়ে সদরঘাটে পৌঁছালে সেখান থেকে তার লাশ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- মো. ফজলুর রহমান (যুগ্ম-পরিচালক), মো. শহিদুল্লাহ (উপ-পরিচালক) ও মো. নাজিরুজ্জামান (সহকারী পরিচালক, মেরিন ইনসেফটি)। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ। এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত হুমায়ুনের বাড়িতে শোকের মাতম : দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হুমায়ুন কবির বন্দুকছির গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। গতকাল সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামে পৌঁছার পর স্বজনরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঢাকা থেকে এনে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। গ্রামবাসী ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে একটি প্রাইভেট কোম্পানি?র গাড়িচালক ছিলেন হুমায়ুন। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা শোকে পাথর ও দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তার স্ত্রী ও নাইম কবির (৬) নামে তার একটি ছেলে আছে। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। নিহত হুমায়ুনের স্ত্রী সীমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘শুক্রবার ছুটি ছিল তাই আমাদের দেখতে দুপুরে গ্রামের বাড়িতে আসেন আমার স্বামী। পরে রাতের লঞ্চে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর থেকে ঢাকায় রওনা দেন। রাত ১টার দিকে দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় আমার স্বামী নিহত হন। এখন আমার ছেলে কাকে বাবা বলে ডাকবে!’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর