শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:৩৩

কৃষি সংবাদ

রাজশাহীতে জমেছে খেজুর গুড়ের হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে জমেছে খেজুর গুড়ের হাট

তীব্র শীত উপেক্ষা করেই রাজশাহীতে জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের হাট। প্রশাসনের নজরদারিতে এবার ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। রাজশাহীতে এ মৌসুমে ৪১ কোটি টাকার গুড়ের ব্যবসা হবে। গত বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই জমে উঠেছে খেজুর গুড়ের হাট। বানেশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাঠে বসা এই হাট শীত উপেক্ষা করে ভোরেই লোকে লোকারণ্য হয়। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, বেশিরভাগই দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার কৃষক। তাদের মধ্যে কেউ নিজেরাই গাছ থেকে রস নামিয়ে গুড় তৈরি করেন আবার কেউ অন্যের গাছ ইজারা নিয়ে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। তবে খেজুর গুড়ের দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। তারা বলছেন, চিনি মিশিয়ে চাকচিক্য না করলে ভালো দাম পাওয়া যায় না, ব্যবসায়ীরাও নিতে চান না। ব্যবসায়ীদের কারণে বাধ্য হয়েই চাষিরা গুড়ে চিনি মেশান। দুর্গাপুর উপজেলার চাষি মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পরিস্থিতি এমন করেছে যে, চিনি না মেশালে গুড় নিতেই চান না। চিনি মেশালে উজ্জ্বল দেখায়, তখন দাম ভালো পাওয়া যায়। বানেশ্বর এলাকার চাষি তৌফিক এলাহী বলেন, এ বছর প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারি আছে। ফলে ভেজালযুক্ত কোনো গুড় উৎপাদন হচ্ছে না। সপ্তাহে দুদিন বানেশ্বর হাট বসে। হাট থেকে গুড় ক্রয় করে আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা পাঠান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।

এ ছাড়া দেশের বাইরেও পাঠানো হয় এসব গুড়। প্রতিদিন হাটে প্রায় ১০০-১৫০ টন গুড় আমদানি হয়। গত মঙ্গলবার খেজুর গুড় প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে গুড় কিনতে এসেছেন রুবেল আহসান। তিনি তিন মাস পুঠিয়ার শিবপুরে থেকে গুড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি গুড় ক্রয় করে ঢাকার বিভিন্ন মোকামে পাঠান। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে কেনা গুড় যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত ও আবুধাবি পাঠান। প্রতি হাটে ৪-৫ টন খেজুর গুড় কেনেন। সেগুলো ঢাকায় পাঠান। এরকম আরও ১০০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা গুড় কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল হক বলেন, রাজশাহী জেলায় ৫৯২ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৮৮ হাজার গাছ রয়েছে। গাছ প্রতি ৭ দশমিক ৭ কেজি হিসেবে মোট গুড় উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৮৩৫ মেট্রিক টন। প্রতি  কেজি গুড় ৬০ টাকা হিসেবে এ মৌসুমে ৪১ কোটি টাকার গুড়ের বাণিজ্য হবে। আর এর সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়িত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর