শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

আবারও পুড়ল ঢাকার বস্তি

দুই শতাধিক ঘর ছাই, খোলা আকাশের নিচে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবারও পুড়ল ঢাকার বস্তি
রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি বস্তিতে আগুনে পুড়ে গেছে দুই শতাধিক ঘর। শিশু সন্তান নিয়ে পোড়া ঘরের পাশে অসহায় একটি পরিবার -রোহেত রাজীব

আবারও ঢাকায় বস্তিতে অগ্নিকান্ড ঘটেছে। গতকাল ভোরে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি বস্তিতে এই আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট পৌঁছে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (উন্নয়ন) নুর হাসানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে আগুন লাগে। এতে পুড়ে যায় দেড় শতাধিক ঘর। গত বছরের ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় একই বস্তিতে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি। গতকালের আগুনে টিঅ্যান্ডটি বস্তির দুই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরহারা মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছেন টিঅ্যান্ডটি কলোনির মাঠে খোলা আকাশের নিচে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি  অফিসার রাসেল শিকদার জানান, ওই বস্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন লাগে। খুব কম সময়েই তা আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে সেটি তদন্ত শেষে বলা যাবে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মালেক বলেন, ‘কিছুই নেই। সব কয়লা। যদি গভীর রাতে আগুন লাগত, তবে কেউ বাঁচত না।’ প্রাইভেটকার চালক কবির হোসেন বলেন, যখন টের পাই, তখন পাশের ঘরেই আগুন জ্বলছিল। কোনো রকমে সবাই বেরিয়ে যাই। টিঅ্যান্ডটি মাঠে বউ-বাচ্চাকে রেখে বস্তিতে ঢুকতে গিয়ে দেখি চারদিকে আগুন আর আগুন। সব পুড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভানোর পর নিজের ঘরের কাছে যাই। ততক্ষণে কিছুই আর নেই। সব পুড়ে ছাই।

গতকাল টিঅ্যান্ডটি মাঠ-সংলগ্ন বেদেরঘাটে পোড়া ওই বস্তিতে দেখা যায়, মাঝখানে কয়েকটি গাছ দাঁড়িয়ে। কিন্তু গাছের ডালপালা-পাতাও পুড়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ঘর খুঁজে যদি কিছু পাওয়া যায় এই আশায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলেন বস্তিবাসীরা।  তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাশের এক গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত। বাতাসের কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। এ সময় সুজন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ফুটপাথে ভ্যানে ফেরি করে জুস-পানি বিক্রি করেন। তার আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল ওই ভ্যান। ভোরের আগুনে তার ভ্যানসহ ঘরের সবকিছু পুড়ে গেছে। এখন তার ঘরে থাকার মতো কিছুই নেই। 

নিজের ঘরের পোড়া আসবাবের অবশিষ্টগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিলেন আর থেমে থেমে কাঁদছিলেন রোকসানা। তিন মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে এই বস্তিতে থাকেন তিনি। তিল তিল করে গড়া সংসারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবই ছিল তার। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে সব শেষ হয়ে যায়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫০টি পরিবারের তালিকা করেছে ত্রাণ মন্ত্রণালয়। প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল ও নগদ দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। পরে সাংবাদিকদের তাবিথ আউয়াল বলেন, বস্তিতে আগুন লাগে, তদন্ত কমিটিও হয়। কিন্তু কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না। প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নাছির বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। আপাতত তাদের খাওয়ার জন্য খিচুড়ি-শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। থাকার জন্য স্থানীয় স্কুল ও কলোনির মাঠে ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুতই তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর