শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৩

সাক্ষাৎকারে দুই মেয়র প্রার্থী

শান্তিতে বসবাসের নগরী গড়তে চাই : রেজাউল

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

শান্তিতে বসবাসের নগরী গড়তে চাই : রেজাউল

ভোটাররা সুযোগ দিলে চট্টগ্রামকে সবার শান্তিতে বসবাসের উপযোগী নগরী হিসেবে গড়তে চান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, সবার পরামর্শে আমি চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলব। বিলবোর্ড তো এখন নেই। পরিকল্পিত শহর গড়ার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাও নেব। সবাই চাইলে বর্তমানে যেসব বিলবোর্ড রয়েছে,

এগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। আমার কথা হচ্ছে, এই শহরকে পরিকল্পিত, সুন্দর এবং পরিবেশবান্ধব নগরী করার জন্য যা করতে হয়, আমি সব করব। যেখানে মানুষ বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। শান্তিতে বসবাস করতে পারে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থাকলেও কখনো জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাননি। তিনি এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রাম সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ নগরে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম সিটি নিয়ে রয়েছে তার বিশাল পরিকল্পনাও। খোলামেলা আলোচনায় তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান যে প্রকল্পগুলো রয়েছে, সেগুলো ত্বরান্বিত করবেন বলে জানান রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের বা নগরীর উন্নয়ন করতে চাই না। নির্বাচিত হওয়া মানেই সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের পথ খোঁজ একজন মেয়রের দায়িত্ব। প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের বিরাগভাজন হতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনের জন্য। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে, ইনশা আল্লাহ চট্টগ্রামের চেহারা এমনিতেই পাল্টে যাবে। তবে নগরবাসীর বিড়ম্বনা না বাড়িয়ে মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন সেদিকে নজর রাখব। বিশেষ করে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে অতীতে অনেক কথা হয়েছে। ট্যাক্স দিতে মানুষের যাতে কষ্ট না হয় এবং হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে তৈরি হওয়া মানুষের ভোগান্তি দূর করব। ইনশা আল্লাহ, যদি আমি নির্বাচিত হই, আমার প্রথম কাজ হবে হোল্ডিং ট্যাক্সের সমস্যা দূর করা। জীবনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়া আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমি নিজে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করিনি ঠিক আছে। কিন্তু আমি ১৯৬৬ সাল থেকে রাজনীতি করে আসছি। ১৯৭০ সালের নির্বাচন পরিচালনা করেছি। পরিচালনা মানে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে কাজ করেছি। ’৭৩ সালের নির্বাচনেও কাজ করেছি, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি নির্বাচন পরিচালনা করেছি। ১৯৮৯ সালে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা করেছি। জিয়াউর রহমানের আমলে ’৮৬ সালের নির্বাচন পরিচালনা করেছি। ’৯৬ সালে আমি দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করেছি, ২০০১ সালেও নির্বাচন পরিচালনা করেছি। ২০০৮ সালে আমি দুটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ছিলাম। তাই নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা কম না। এ ক্ষেত্রে কোনো কিছুকে চ্যালেঞ্জ মনে করছি না। বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বয়সে অনুজ হলেও তার যথেষ্ট নির্বাচনী অভিজ্ঞতা রয়েছে। এক্ষেত্রে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করবেনÑ এমন একটি কথা প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা। উভয় পক্ষের খেলোয়াড় শক্তিশালী হলে মাঠের দর্শক খেলা উপভোগ করেন। বিএনপির যিনিই প্রার্থী হোক না কেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে লড়ার মতো শক্তি ও সাহস দুটোই আছে। আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমার পারিবারিক ঐতিহ্যই হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা। ১৮২০ সালে আমাদের পরিবার চট্টগ্রামে শিক্ষার জন্য প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। আমি মানুষের আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি। তাই আমার ওপর মানুষের যে আস্থা রয়েছে, তাতে আমি শতভাগ আশাবাদী। চট্টগ্রামে নানা সমস্যা প্রসঙ্গে মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পৃথিবীর সব নগরীরই কোনো না কোনো সমস্যা আছে। আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের সমস্যাটা একটু হয়তো বেশি। এগুলো সমাধানের জন্য আমি সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। যতগুলো নাগরিক সেবা সংস্থা রয়েছে তাদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের বিকল্প কিছু নেই। কারণ আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমি জনগণের প্রতিনিধি বা মেয়র হয়েছি বলে সব কিছু বুঝব এমন নয়। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর বিলবোর্ডমুক্ত নগরী হিসেবে শহরের দৃশ্যগত সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি কোনো ধারায় বিশ্বাস করি না। আওয়ামী লীগ একটা বড় পরিবার, এটার অভিভাবক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ করতে হলে অভিভাবকের নির্দেশ মানতে হবে। নেত্রী যে নির্দেশ দেবেন, সেটি সবাই পালন করবেন। আমার শেষ জীবনে এসে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়ে যে সম্মান দিয়েছেন, আমি নির্বাচিত হলে তাঁর সম্মান রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা করব। আওয়ামী লীগ থেকে অনেক বাঘা বাঘা রাজনৈতিক নেতা মনোনয়ন চেয়েছেন, সেখানেও অনেক ত্যাগী নেতা আছেন। তাদেরও রাজনৈতিক ইতিহাস আছে। এখানে নেত্রী যার ওপর আস্থা রেখেছেন, তিনি যাকে ভালো মনে করেছেন তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর মানে এই নয় যে, আমাকে মাঠে নামিয়ে দিয়ে অন্যরা তামাশা দেখবেন। আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী বলেন, এখন পর্যন্ত তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে যে ঐক্যবদ্ধ কাজের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এর আগে আর কখনো এ রকম পরিবেশ আমরা দেখিনি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য আমাদের শ্রদ্ধাভাজন ও প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপিকে প্রধান সমন্বয়কারী করেছেন নেত্রী। মোশাররফ ভাইয়ের পরামর্শ নিয়েই আমরা একজোট হয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া আমাদের বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন যেভাবে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন, তাতে মনে হচ্ছে আমাদের এই ঐক্যের প্রাচীরে কোনো ষড়যন্ত্রের একটি আঁচড়ও লাগবে না।


আপনার মন্তব্য