শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:১১

৪৯ বছর পর দৃশ্যমান হানাদার বাহিনীর হত্যার নিদর্শন কুয়া

মিলেছে মানুষের দাঁত, পাওয়া যেতে পারে অসংখ্য কঙ্কাল

নজরুল মৃধা, রংপুর

৪৯ বছর পর দৃশ্যমান হানাদার বাহিনীর হত্যার নিদর্শন কুয়া

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর দৃশ্যমান হলো পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে বাঙালি হত্যার নিদর্শন কুয়াটি। এর পাশে থাকা বড়াই গাছটিতে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হতো স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের। তারপর হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো কুয়ার ভিতরে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারেরা রংপুর টাউন হলকে বানিয়েছিল টর্চার ক্যাম্প। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরে হলেও সম্প্রতি ওই স্থানটি বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্মৃতিসৌধ। গতকাল নির্মাণ কাজের জন্য মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে নির্যাতনের চিহ্ন কুয়াটি। সেখান থেকে মানুষের দুটি দাঁতও পাওয়া গেছে। কুয়াটি পুরোপুরি খোঁড়া হলেও পাকিস্তানিদের হাতে হত্যার শিকার মানুষের হাড়ও পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের পুরো ৯ মাস মুক্তিকামী বাঙালিদের ধরে এনে টাউন হলে চালানো হতো নির্মম নির্যাতন। আর আটকে রেখে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা হতো। পরে একসময় তাদের হত্যা করা হতো। টাউন হল সংলগ্ন উত্তর পাশে ছিল বড় পাকা কুয়া। এর পাশে থাকা বড়াই গাছের ডালে ঝুলিয়ে মানুষগুলোকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হতো। এরপর একসময় তাদের হত্যা করে বড়াই গাছের নিচে কুয়া অথবা পাশের তৎকালীন উদ্ভিদ উদ্যান কেন্দ্র (বর্তমানে চিড়িয়াখানা) আমবাগানে মাটি চাপা দিয়ে রেখে দিত। বিজয় দিবসের পরদিন ১৭ ডিসেম্বর অনেকেই আম বাগানে অসংখ্য গলিত এবং অর্ধগলিত লাশ দেখেছেন। কাল পরিক্রমায় কুয়াটি একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ওই স্থানটিকে বধ্যভূমি হিসেবে চিহ্নিত করে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন বলেন, যে স্থানটিতে স্মৃতিসৌধ হচ্ছে ওইস্থানে পাকিস্তানি হানাদাররা বাঙালিদের ধরে এনে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করত। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ১৪৭টি মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করেছিল।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর