শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৬

প্রকৃতি

দুর্লভ আবাসিক পাখি বাসন্তী লটকনটিয়া

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

দুর্লভ আবাসিক পাখি বাসন্তী লটকনটিয়া

আমাদের দেশে খুবই পরিচিত একটি পাখি টিয়া। অনেকেই বাসাবাড়িতে শখ করে এই পাখি খাঁচায় বন্দী করে রাখেন। আবার অনেকে রাস্তার পাশে বসে এই টিয়া পাখি দিয়ে মানুষের ভাগ্য গণনা করে নিজের আহার জোগান। বাংলাদেশে  মোট ৬ প্রজাতির টিয়া পাওয়া যায়। এদেরই এক প্রজাতি বাসন্তী লটকনটিয়া। এরা লাল ঠোঁট ও সবুজ দেহের সুন্দর গোলগাল পাখি। এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নামের এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। গাছের সরু ডাল বা লতা-পাতায় উল্টো হয়ে লটকে থাকে। তাই এদের নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে লটকন। অঞ্চল ভেদে ঝুলনটিয়া, লেজকাটা টিয়া, পাতাটিয়া, ফুলটিয়া ও জোকারটিয়া নামেও পরিচিত। এদের ইংরেজি নাম Vernal Hanging Parrot. আর বৈজ্ঞানিক নাম Loriculus vernalis.  এরা দুর্লভ আবাসিক পাখি। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি হাজারি খিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে এই পাখির ছবি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার রাশেদ খান। পাখি বিশারদররা জানান, বাসন্তী লটকনটিয়ার লেজ খাটো। লেজের পেছনে কিছু পালক লাল। দৈর্ঘ্য ১৪ সেন্টিমিটার। গায়ের রং হলুদাভ ও পাতা সবুজ। পুরুষ পাখির গলা-বুকের উপরিভাগ নীল। চোখের বৃত্ত হলুদ। ঠোঁট লালচে-কমলা। ঠোঁটের আগা হলুদাভ। পা ও পাতা কমলা-হলুদ। এরা সচরাচর দলবদ্ধভাবে বা ঝাঁকে বিচরণ করে। এদের খাদ্য তালিকায় আছে ডুমুর ফল, বট ফল, বাঁশ বীজ ও ফুলের মিষ্টি রস। জানুয়ারি থেকে জুন মাস এদের প্রজনন সময়। এ সময় এরা গাছের খোঁড়লে বাসা বাঁধে।  ডিম পাড়ে ২ থেকে ৪টি। রং চকচকে সাদা। স্ত্রী ও পুরুষ উভয়ে মিলে পালা করে ডিমে তা দেয়। ১৪ থেকে ১৭ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। খোঁড়ল থেকে ছানা বের হতে সময় লাগে ১৮ থেকে ২২ দিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বন, পাহাড়, টিলা ও চা বাগানে এদের দেখা যায়। দিনে দিনে এরা দুর্লভ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এদের খাঁচায় বন্দী করে  পোষে। তবে সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মূলত এরা ফুল খায়। বনাঞ্চলে খাবার ও আবাসস্থল কমে যাওয়ায় এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর