শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪১

ভিন্ন তাৎপর্যের সফর

জুলকার নাইন ও আলী রিয়াজ

ভিন্ন তাৎপর্যের সফর

বাংলাদেশে দুই দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটে লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই সফর আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।’ সফর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি স্তর থেকে নতুন আরেকটি স্তরে উন্নীত করার সফর ছিল এই সফর। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার সম্পর্ক বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশেষ করে আগামী দিনে কানেক্টিভিটি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যৌথ সহযোগিতা বিস্তৃত করার বিষয়ে ছিল আলোচনায়। এ ছাড়া তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্টভাবে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জোর দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐতিহাসিক সময়ে দেশটির সরকারপ্রধানের সফরকে দেনা-পাওনার হিসাবের চেয়ে অংশীদারিত্বের হিসাবকে গুরুত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটে ভারতকে সহায়তার কথা বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করলেও দেশটির তরফ থেকে আশ্বাস ছাড়া মেলেনি কোনো নিশ্চয়তা। এটিসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বাণিজ্য-যোগাযোগ, শিল্পায়নসহ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময় সংক্রান্ত সম্ভাবনার বেশকিছু নতুন দুয়ার এবার উন্মোচিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর পাওয়া না পাওয়ার হিসাব-নিকাশের বাইরেও ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে। মূলত বাংলাদেশের দুটি রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ভারতের একাত্মতা প্রকাশই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নরেন্দ্র মোদির সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে একটি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক ব্যাপ্তি রয়েছে, তা প্রমাণ করা গেছে। বিশেষত প্যারেড গ্রাউন্ডে নরেন্দ্র মোদি যখন উপস্থিত ছিলেন তখন যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য তুরস্ক এমনকি পাকিস্তানের সরকারপ্রধানের শুভেচ্ছা পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির মূল বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের চলমান ইস্যুগুলোর আলোচনা সবসময় চলতে থাকে। তবে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক যে গুরুত্ব তার সুবিধা পেতে অবশ্যই দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করা প্রতিবেশীর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক প্রয়োজন। নরেন্দ্র মোদির সফরের মাধ্যমে আমরা এই আস্থাই দেখতে পেয়েছি। এখন দেখার বিষয়, তার সফরের যে আন্তরিকতা আমরা পেলাম তা দ্বিপক্ষীয় ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আমলাতন্ত্র ও অন্যান্য পর্ব পেরিয়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে আমাদের অনেক অর্জন রয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এসেছেন, রাষ্ট্রীয় উৎসবে অংশ নিয়েছেন, তার সামনে দেশকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের সক্ষমতা, শক্তি, সৃজনশীলতা জানান দেওয়া ছিল তার সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমাদের এসব অর্জন সম্মানজনকভাবে বিশ্বের কাছে বিশেষ করে ভারতের কাছে তুলে ধরতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বহুমাত্রিক সম্পর্ক রাখতে হবে। সেই সম্পর্ক আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে নরেন্দ্র মোদির সফর। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা ছিল, আমাদের যেসব দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমস্যা রয়েছে সেসব সম্পর্কে আলোচনা হবে। বাস্তবে সেটা হয়নি। আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা, তিস্তার পানি বণ্টন, অভিন্ন নদী সমস্যা, শুল্ক-অশুল্ক বাধা সেসব সম্পর্কে আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় যেসব সুনির্দিষ্ট বিষয় থাকে এই সফরে তা ছিল না। তাই বলা যায়, বস্তুগত কোনো অর্জন আমাদের নেই, প্রতিশ্রুতি আছে। তবে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব রয়েছে। আমাদের সক্ষমতা, অর্থনৈতিক অর্জনগুলো তুলে ধরা গেছে। সেটাও একটি বড় অর্জন বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

এই বিভাগের আরও খবর