শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩১

নারী কোটা পূরণে ব্যর্থ দলগুলো

২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দিচ্ছে ইসি

গোলাম রাব্বানী

নারী কোটা পূরণে ব্যর্থ দলগুলো

এক যুগেও দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। তবে নিবন্ধনের এ শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হয়েছে দলগুলো। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোকে কমিশন ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এ ক্ষেত্রে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি দলে নারী নেতৃত্ব বাড়লেও অনেক দলে এখনো নারী নেতৃত্ব নেই বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে রয়েছে ইসলামী দলগুলো। এমনকি নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে এত দিন চুপচাপ বসে ছিল। তবে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোকে আরও এক দশক (২০৩০ সাল) সময় দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে আরও সময় পাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। দল নিবন্ধনে এ প্রতিশ্রুতি পূরণে এক যুগ পার হওয়ার পর নতুন করে প্রায় ‘এক দশক সময় দেওয়ার’ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রথা চালু করে ইসি। আরপিও ৯০ খ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব দলের সব স্তরের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে ২০২০ সাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ইসিতে ৩৯টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। প্রতিশ্রুতি পূরণে ইসির বেঁধে দেওয়া সময় গত বছর শেষ হয়েছে, তবু সিংহভাগ দলই এ প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন শর্তে বলা আছে প্রতিটি কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখতে হবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত সে সময় দেওয়া ছিল। এ টার্গেট ফুলফিল করার ক্ষেত্রে দলগুলো কত শতাংশ তথা কতটুকু এগিয়েছে আমরা ২০১৮ সালে সে বিষয়ে একবার প্রতিবেদন নিয়েছি। আবারও দলগুলোর কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আরপিও সংশোধনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত (দলগুলোকে) সময় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’ ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের শর্ত পূরণে অধিকাংশ দলের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, শর্তটা তো রাজনৈতিক দলগুলোকে পূরণ করতে হবে। আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া তো শেষ হয়নি; সময় বাড়ানো হয়নি এখনো। কাজেই দলগুলো তো অনেক সময় পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি সদিচ্ছা না থাকে ১০ বছর পরে আবার বলবে সময় দাও। তারা বলছেন, দলগুলোকে অনেক বেশি সময় দেওয়ার দরকার নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর শর্ত পূরণের সদিচ্ছা থাকতে হবে। গেল বছর আইন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতামত নিয়েছে ইসি। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ দল, সংগঠন ও নানা ব্যক্তির মতামত পেয়েছিল। তা পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কমিশন। এরপর তা আবারও কমিশনে ফেরত আসে। কমিশন সবকিছু পর্যালোচনা করে নতুন করে আবারও তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

অগ্রগতি জানতে দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে : নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অগ্রগতি জানতে দলগুলোকে চিঠি দেবে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১ এপ্রিলের কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশন সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু দলগুলো সর্বশেষ অগ্রগতি ইসিকে জানায়নি। এখন কী অবস্থায় রয়েছে তা জানতে দলগুলোকে চিঠি দেওয়া হবে।’