শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৫

লড়ছেন মানবতার সৈনিকরা

করোনা আক্রান্ত, দুস্থ পরিবারকে দিচ্ছেন সহায়তা অক্সিজেন সিলিন্ডার ওষুধ

জিন্নাতুন নূর

লড়ছেন মানবতার সৈনিকরা
Google News

কভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর এবারও করোনা আক্রান্ত রোগী ও কাজ হারানো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি সংগঠন। অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনগুলোর সদস্যরা ফোন পেলেই কভিড পজিটিভ রোগীর কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণির করোনা আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তারা। দুস্থ ও অসহায় পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন মাসের বাজার। রমজানের এই মাসে লকডাউনে কাজ হারানো উপার্জনহীন মানুষগুলো যখন খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তখন মানবতার এই সৈনিকরা করোনার সঙ্গে লড়ে বিপদগ্রস্ত এসব মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছেন। গত বছরের মতো এবারও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর থেকেই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত গরিব ও দুস্থ রোগীদের জন্য সিএমপি বিদ্যানন্দ ফিল্ড হাসপাতাল চালু করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এখানে চিকিৎসা, ওষুধ, এমনকি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সবই মিলছে বিনামূল্যে। এ ছাড়া ছিন্নমূল ও দুস্থ মানুষের মধ্যে ইফতার ও সাহরি বিতরণ করছেন বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা। এরই মধ্যে মানুষের সেবা করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার দাসসহ ছয় স্বেচ্ছাসেবক। জানা যায়, করোনা আক্রান্ত কোনো দুস্থ পরিবারের খোঁজ পেলে বিদ্যানন্দের কর্মীরা ঘরে খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন। করোনাকালে মানুষের বিপদে থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে আরেকটি সংগঠন ‘সংযোগ : কানেক্টিং পিপল’। সংগঠনটির সদস্যরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, নওগাঁ, পঞ্চগড়, চাঁদপুর, বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় মানুষের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। করোনার ভয়াবহতার মধ্যে গত বছর মার্চে যাত্রা শুরু করে সংযোগ। বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংযোগের ৩২০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ঘুরছে। ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় মিলছে সংগঠনটির জরুরি অক্সিজেনসেবা। পাশাপাশি কভিড আক্রান্ত রোগীদের উদ্বেগ ও তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিতে জরুরি ভিত্তিতে চালু হয়েছে সংযোগ মেডিকেল হেল্পলাইন। কভিড আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সেবা দিতে কেয়ারগিভার সেবাও চালু করেছে সংগঠনটি। করোনায় চাকরি হারানো তরুণ-তরুণীদের সংযোগ মেডিকেল টিমের চিকিৎসকদের পরামর্শে ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের জরুরি বাস্তবতায় কেয়ারগিভার হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে।

করোনার এই দুঃসময়ে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কর্মীরাও। রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে তারা খুলেছেন ‘শ্রমজীবী ক্যান্টিন’। ৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যান্টিন চলবে পুরো করোনাকাল। রিকশা শ্রমিক, ভ্যান শ্রমিক, খেটে খাওয়া মজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ এ ক্যান্টিনে খাবার পাচ্ছেন। এ ক্যান্টিনে কাজ করছেন ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়নের কর্মীরা। বাজার থেকে শুরু করে রান্না করে শ্রমিকের হাতে খাবার তুলে দেওয়া পর্যন্ত সব কাজই করছেন এই দুই সংগঠনের কর্মীরা। এর আগে গত বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে মাস্ক-হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি ঘরে ঘরে রেশন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

করোনা মহামারীর শুরু থেকেই সুবিধাবঞ্চিতদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের গোসল, জানাজা ও দাফন সবই করেছেন ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’-এর কর্মীরা। লকডাউনের কারণে বিপদে পড়া দুস্থ মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে সংগঠনটি। এ ছাড়া রোজায় প্রতিদিন হাজারো গরিবের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছে মাস্তুল। রোজার মাসজুড়ে ৩০ হাজার মানুষকে ইফতার ও সাহরি করানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। জানা যায়, গত এক বছরে তারা তিন শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগীর মরদেহের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেছে। করোনাকালে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছে ‘অভিযাত্রিক’ নামের আরেকটি সংগঠন। করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য সংগঠনটির অক্সিজেন সরবরাহ চলছে ঢাকা শহরজুড়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী। এ ছাড়া রোজায় দেশের ৬৪টি জেলায় ইফতারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সংগঠনটি। এরই মধ্যে ৫টি জেলায় ইফতার আয়োজন সম্পন্ন করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন শতাধিক ইফতারির প্যাকেট জেলায় জেলায় বিতরণ করা হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সঙ্গে আছি ফাউন্ডেশন’ ‘দুর্যোগে একটি প্রাণও যদি বাঁচানো যায়’ এ লক্ষ্য সামনে রেখে ঢাকায় এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার কর্মজীবী বেকার ও নিম্নবিত্ত মানুষের বাসায় চাল, ডাল, আলু, পিঁয়াজ ও তেল পৌঁছে দিয়েছে। এ ছাড়া তারা ৪০ হাজারের বেশি শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষের মধ্যে প্রস্তুতকৃত খাবার বিতরণ করেছে।

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডু সামথিং ফাউন্ডেশন’। এই প্রতিষ্ঠানটি করোনা রোগীদের ফোন পাওয়ামাত্র বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিয়ে আসছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার দেওয়ার পর তাদের অবস্থা ভিডিওকলে মনিটরিং করা হয়। এরপর রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া রোজায় দুস্থ পরিবারকে ইফতার খাওয়ানোসহ গরিব পরিবারগুলোকে খাবার পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করছে সংস্থাটি। এবার রোজায় ৮০০ পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠন। রোজার মাসে দুস্থদের পুরো মাসের বাজারও করে দিচ্ছে তারা।

করোনা মহামারীতে গত বছরও প্রায় ১ লাখের বেশি পরিবারকে ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করে বেসরকারি সংস্থা ‘জাগো’। এ বছরও করোনাভাইরাসের তীব্রতা বৃদ্ধির পর অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দিতে শুরু করেছেন জাগোর স্বেচ্ছাসেবীরা।

এই বিভাগের আরও খবর