শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০২১ ২৩:৩১

প্রাচীন ঐশ্বর্যময় নগরী প্রাগ

নাজমুন নাহার

প্রাচীন ঐশ্বর্যময় নগরী প্রাগ
Google News

ইউরোপীয় ইতিহাসের হাজার বছরের বেশি পুরনো ঐতিহ্যসমৃদ্ধ চেক রিপাবলিকের প্রাগ নগরীকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলাম আমি। ২০০৮ সালে আমার পা পড়েছিল এই নগরীতে। অপূর্ব এই নগরী শুধু ‘গোল্ডেন সিটি’ হিসেবেই নয়, ‘লিটল জেরুজালেম’ হিসেবেও পরিচিত।

ইতিহাসে প্রাগের রাজকীয় অতীত, রেনেসাঁর আন্দোলন, নাৎসিদের দখল এবং সোভিয়েতের নিয়ন্ত্রণে কাটানো অন্ধকার সময়গুলো হাঁটতে হাঁটতে আবিষ্কার করা যাবে এই নগরীতে। শহরের মধ্যযুগীয় স্কয়ার এবং রাস্তাগুলো যুদ্ধকালীন সময় থেকে বেঁচে গিয়েছিল অতি নিখুঁতভাবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পরিব্রাজকদের অভিনন্দন জানাতে যেন এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই শহরের ঐতিহাসিক চার্লস ব্রিজ, প্রাগ ক্যাসেল, সেন্ট ভিটাস ক্যাথেড্রাল ও ভ্লতাভা নদী। সবকিছুই যেন চেক রাজধানীকে খুবই জাঁকজমকপূর্ণ করে রেখেছে। তখন বিকালের চমৎকার নরম আলো। আমরা চার বন্ধু (আমি, পরশ, মিমি আপা এবং নাইমা) ভ্লতাভা নদীর ওপর ব্রিজ দিয়ে যখন হাঁটছিলাম তখন সারা বিশ্ব থেকে আগত ভ্রমণপ্রেমীদের মিছিলে জমজমাট ছিল ব্রিজটি। আমরা এই নগরীর উচ্ছলতায় কিছু সময় হারিয়ে গিয়েছিলাম। এখনো চোখের মাঝে ভেসে উঠে ঝলমলে পুরনো ঐশ্বর্যে ভরপুর সেই নগরীর রূপ। প্রাণের স্পন্দন যেন মিশে ছিল এই শহরের কানায়-কানায়। চেক প্রজাতন্ত্রের এই রাজধানী সারা ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন নগরী। শুধু এই যুগে নয়, মধ্যযুগের প্রথমদিকে ব্যবসায়ী এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে ‘গোল্ডেন প্রাগ’-এর ঝকঝকে বেলেপাথরের টাওয়ারগুলোর সৌন্দর্য অনেক প্রশংসিত ছিল।

ওল্ড টাউন হল টাওয়ারটি জ্যোতির্বিদ্যার ঘড়ির কারণে মধ্যযুগীয় হাইলাইটস হিসেবে এখনো বিবেচিত। ক্লক ওয়ার্কের পরিসংখ্যান উপস্থিত হলে ডাউনটাউন স্কয়ারের প্রত্যেকটি টুরিস্ট তাকিয়ে থাকে। যার দুটি ঘড়ির মধ্যে একটিতে হিব্রু সংখ্যাটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে চলে। এই শহরের কোনায় কোনায় যখন ঐতিহাসিক ভবনগুলো দেখছিলাম তখন মনে হচ্ছিল হাজার বছর আগে কীভাবে ওইসব শিল্পী তাদের নিখুঁত চিন্তার শৈলী দিয়ে ভবনগুলোর মাঝে এঁকেছিলেন চমৎকার কারুকার্য। আর তাই তো প্রাগের এই অপূর্ব সুন্দর শহরের পুরনো কবজ, প্রতিটি ব্রিজ, স্পায়ার এবং পাহাড়ের ওপরে দুর্গ বহু যুগ থেকে দর্শনীয় ওল্ড টাউন হিসেবে অব্যাহত রয়েছে। তবে বিলাসবহুল হোটেল, ছোট ছোট খাবারের  রেস্তোরাঁ, সৌখিন বুটিক এবং সমকালীন বিনোদনের চিত্তাকর্ষক আয়োজনও খুঁজে পাওয়া যাবে এই শহরে। ডিসেম্বরে এই শহরটি ইউরোপের অন্যতম নান্দনিক পসরা নিয়ে সাজে এবং দর্শনীয় ক্রিসমাস মার্কেটগুলো এক অনন্য রূপে ধরা দেয়।

প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস এভাবেই পৃথিবীর বাঁকে বাঁকে আমাদের মুগ্ধ করে রাখে। পুরনো ঐতিহ্যের অপূর্ব  শৈলী আমাদের চমকে দেয় এভাবেই।

লেখক : বাংলাদেশের পতাকাবাহী ১৪৪ দেশ ভ্রমণকারী প্রথম বিশ্বজয়ী পরিব্রাজক।

এই বিভাগের আরও খবর