শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ২৩:২৩

সীমান্তে সংক্রমণ বাড়ছেই

দেশে ৫১ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ১৬৩৭, মৃত্যু ৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তে সংক্রমণ বাড়ছেই
Google News

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হার বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ মানুষের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৫১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের গড় শনাক্তের হার এখনো ১৫ শতাংশের নিচে থাকলেও সীমান্তবর্তী খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৬৪ শতাংশ আর রংপুর বিভাগে ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আবার কিছু জেলায় শনাক্তের হার ছিল ৭০ শতাংশের ওপরে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৫৯০টি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৬৩৭ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে মারা গেছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ১০৮ জন। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৭১ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৪ জন। আট বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন শনাক্তের হার ছিল বরিশাল বিভাগে ৭ দশমিক ৪১ আর ঢাকা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ দশমিক ২৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ দশমিক ৪৬, সিলেট বিভাগে ১৪ দশমিক ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ২৩, রংপুর বিভাগে ২৩ দশমিক ৯৮ ও খুলনা বিভাগে ৩০ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল শনাক্তের হার।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৯ জনের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী। হাসপাতালে ৩৬ আর বাড়িতে তিনজন মারা গেছেন। বয়স বিবেচনায় ২০ জন ষাটোর্ধ্ব, সাতজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, সাতজন চল্লিশোর্ধ্ব, চারজন ত্রিশোর্ধ্ব ও একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১০ জন ঢাকা, ছয়জন চট্টগ্রাম, সাতজন রাজশাহী, ১১ জন খুলনা, দুজন বরিশাল, একজন সিলেট ও দুজন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা। এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দেশের সীমান্ত ও সংলগ্ন জেলাগুলোয় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। করোনার পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও বাড়ছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো আরও তথ্য-

খুলনা : গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের ১০ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩১৯ জনের। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। বিভাগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক থেকে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১১৬ জন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গতকাল থেকে জেলাব্যাপী এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাজশাহী : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ ছিল, অন্য তিনজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এ হাসপাতালে। ১ জুন থেকে ১২ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১১১ জন। ৬৪ জন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর, বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে ৩৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪৩ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩৯ শতাংশ। সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী মহানগরীতে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হলেও অধিকাংশ মানুষ তা মানছে না। তাদের ঘরে ফেরাতে রীতিমতো যুদ্ধ করছে পুলিশ।

যশোর : গতকাল যশোরে ১৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জন পজিটিভ হয়েছেন। শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত একজন ও করোনার লক্ষণ নিয়ে দুজন মারা গেছেন।

নাটোর : কয়েক দিন ধরে নাটোরে শনাক্তের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেও থামানো যাচ্ছে না করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। গতকাল রাজীব নামে দুই বছরের শিশুর করোনা শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ৩১ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে ৩৯ জন ভর্তি রয়েছেন।

বাগেরহাট : এ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মোংলায় দুজন, মোরেলগঞ্জে একজন ও সদরে একজন। শুক্রবার খুলনা পিসিআর টেস্টে ছয়জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। মোংলায় দু জন, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট উপজেলায় একজন করে। করোনার হটস্পট মোংলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর মোংলা হাসপাতালে নেই আইসিইউ বেড, হাইফেøা ন্যাজাল ক্যানোলা ও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা। করোনা আক্রান্তদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে পাঠাতে হচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এত দূর নিতে গিয়ে অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। মোংলায় তৃতীয় দফায় দেওয়া বিধিনিষেধ চলমান থাকলেও কাউকে তা মানতে দেখা যায়নি।