শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুন, ২০২১ ০০:১৭

বিশ্ব পরিস্থিতি

মৃত্যু ৪০ লাখ ছাড়াল, যুক্তরাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণ

প্রতিদিন ডেস্ক

Google News

দেশে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষায় টিকার জন্য যখন হাহাকার চলছে, তখন বিশ্বজুড়ে এ মহামারীতে প্রাণহানি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের ডেলটা ভেরিয়েন্টের রেকর্ড সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি।

খবরে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে মৃত্যু কমলেও ডেল্টা ধরন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি নাজুক, যেখানে টিকারও সংকট চলছে। এক টালি বিশ্লেষণে দেখা যায়, কভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াতে বছরের বেশি সময় লেগেছে। কিন্তু পরের ২০ লাখ মৃত্যু ঘটেছে মাত্র ১৬৬ দিনে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে যে পাঁচটি দেশে তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া ও মেক্সিকো। এ দেশগুলোতে বিশ্বে মোট মৃত্যুর অর্ধেক মারা গেছে। জনসংখ্যার অনুপাতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে পেরু, হাঙ্গেরি, বসনিয়া, চেক রিপাবলিক ও জিব্রালটারে।

এ বছরের মার্চ থেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো কভিড-১৯ মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বিশ্বের প্রতি ১০০ নতুন সংক্রমিতের ৪৩ জনই ছিল এ অঞ্চলের। গত সপ্তাহের হিসাবে মাথাপিছু মৃত্যুর হারেও বিশ্বের শীর্ষ নয়টি দেশ এ মহাদেশের। বলিভিয়া, চিলি ও উরুগুয়ের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের বেশির ভাগেরই বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তরুণ জনগোষ্ঠীকেও কাবু করে ফেলছে মহামারী। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের ৮০ শতাংশই কভিড-১৯ রোগী।

এ ছাড়া ভারত ও ব্রাজিল হচ্ছে এমন দুটি দেশ, যেখানে টানা সাত দিন ধরে দৈনিক সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। মৃতদেহের সৎকার ও সমাধির জন্য পর্যাপ্ত স্থানের অভাব দেখা দিয়েছে দুই দেশেই। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতিদিন কভিডে মৃত প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন ভারতে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর হিসাবে প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত মাসের একটি হিসাব থেকে জানিয়েছে, প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে।

গত সপ্তাহে ভারতের বিহার রাজ্যে হাজার হাজার কভিড-১৯ আক্রান্ত চিহ্নিত না হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর দেখা গেছে, এ রোগে মৃতের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এ ঘটনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতজুড়ে মহামারীতে মৃত্যুর আসল সংখ্যাটি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। দরিদ্র দেশগুলো টিকার ঘাটতির কারণে নিজেদের জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে পারছে না। তাই মহামারী নিয়ন্ত্রণে টিকা দান করার জন্য ধনী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ধনী দেশগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব টিকার ডোজ ছাড় করার আহ্বান জানিয়ে বুধবার প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশনের পরিচালক ক্যারিসা এতিনে বলেন, ‘অ্যামেরিকাজুড়ে সবচেয়ে বড় সংকটটি হলো টিকাপ্রাপ্তি, টিকা গ্রহণ করা নয়।’ সম্প্রতি ধনী সাত দেশের জোট জি-৭ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোর জনগণের জন্য তারা ১০০ কোটি ডোজ টিকা বিতরণ করবে।

যুক্তরাজ্যে রেকর্ড সংক্রমণ : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাজ্যেও করোনাভাইরাসের ডেলটা ভেরিয়েন্টের প্রকোপ বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ১১ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পরে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল।

খবরে বলা হয়েছে, সংক্রমণ বাড়লেও দেশটিতে মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম। বৃহস্পতিবার মারা গেছেন ১৯ জন। করোনাভাইরাসের সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুসারে, গত ৩০ মে যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ২৪০ জনের। ১৮ দিনের ব্যবধানে এ দৈনিক সংক্রমণ তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪৬ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির পর মৃত্যুর হার আবারও বাড়তে পারে। এ ছাড়া দেশটিতে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে অস্বাভাবিক হারে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। যারা টিকা নেননি তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের এ নথি থেকে জানা গেছে, প্রতি ১১ দিনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিগুণ হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর খবরে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। এখন থেকে ইংল্যান্ডে ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন। গতকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কারণ হলো, আগামী মাসের মধ্যে দেশটির প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দাকে কমপক্ষে এক ডোজ টিকা দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে ব্রিটিশ সরকার। ইতিমধ্যে ৪ কোটি ২০ লাখ বাসিন্দাকে কমপক্ষে এক ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার ৮০ শতাংশ। করোনারভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এর আগে আরেকটি পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ইংল্যান্ডের লকডাউনের শেষ ধাপের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল ২১ জুন। কিন্তু দেশটিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বেড়ে যাওয়ায় এ বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর