শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২১ ২৩:৫৪

টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্তের লাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক

টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্তের লাইন
করোনায় ভিড় বেড়েছে টিসিবির নিত্যপণ্যের ট্রাকের সামনে। জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে গতকালের তোলা ছবি -বাংলাদেশ প্রতিদিন
Google News

বিকাল ৪টা। রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকার আরামবাগ এলাকায় একটি রোডে দাঁড়ানো সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্যবাহী ট্রাক। ওই ট্রাকের পেছনে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বিক্রির মতো মাল নেই বললেই চলে। লাইনে দাঁড়ানো চলিশোর্ধ্ব এক নারী জানালেন, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন, কাক্সিক্ষত পণ্য নিতে পারবেন কি-না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। নিজের নাম-পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সূলভমূল্যে টিসিবির পণ্য নিতে এসে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাদের বেশির ভাগই নিজেদের নাম পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। নিজেকে লুকিয়ে পরিবারের জন্য কোনোভাবে প্রয়োজনীয় তেল-নুন-চিনিটা নিতে পারলেই যেন বেঁচে যান। এরা  বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত। করোনা মহামারী যাদের টিসিবির ট্রাকসেলের লাইনে এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজধানীতে এমন নিরুপায় মধ্যবিত্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে যার কোনো হিসাব নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাকপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ কেজি চিনি, ৩০০ থেকে ৬০০ কেজি মসুরডাল এবং ৮০০ থেকে ১২০০ লিটার সয়াবিন তেল দেওয়ার কথা রয়েছে টিসিবির। তবে বরাদ্দকৃত পণ্যের পুরোটা ট্রাকে পাওয়া যায় না। এ বিষয়টি মনিটরিং করার জন্যও কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। এ ছাড়া প্রতিদিন ট্রাকসেলে এত বেশি ক্রেতা পণ্য নিতে আসছেন যে বরাদ্দকৃত পণ্য ২/৩ ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আবার লাইনে দাঁড়ানো কারও কারও মুখে মাস্ক থাকলেও অনেকের মুখে নাই। কেউ কেউ আবার মাস্ক খুলে থুতনির নিচে আটকে রেখেছেন। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এতে করে করোনা সংক্রমণ যে আরও বাড়তে পারে সে বিষয়ে সচেতন করার মতোও কাউকে পাওয়া যায়নি ট্রাকসেলের আশপাশে। অবশ্য টিসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু করার আগে তারা ঢাকা মহানগরীর সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ সার্জেন্টদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাধারণত রমজান মাসকে সামনে রেখে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবার ঈদুল আজহার আগেই ট্রাকসেল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে টিসিবি’র পণ্যের চাহিদা আরও বেড়েছে। আমরা সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে এটি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।

ট্রাকসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীতে আগে ১০০ ট্রাক দেওয়া হলেও এবার ৭৫টি ট্রাক পণ্য বিক্রি করছে। ঢাকার পাশে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ যেসব শিল্প এলাকা রয়েছে এবং যেসব এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি, সেসব এলকায় ট্রাক বাড়ানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পণ্য নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রতি ট্রাকে এক-দুজন করে পুলিশ রাখা যায় কি-না সে বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাকসেলে বরাদ্দকৃত পণ্যের পুরোটাই বিক্রি হচ্ছে কি-না সেটি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির পরিদর্শন টিম মাঠে আছে। এ ছাড়া বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ আজ রাজধানীর ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

টিসিবি জানায়, করোনা মহামারীর সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের বিশেষ লকডাউন ও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গত ৫ জুলাই থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে টিসিবি। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে তাদের এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে। প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকা, মসুরডাল ৫৫ টাকা এবং প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।