শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০৫

কৃষি

দিনাজপুরে মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

দিনাজপুরে মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ
Google News

বাড়ির আশপাশে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে আসছেন অনেক কৃষক। এবার প্রথমবারের মতো দিনাজপুরের খানসামায় উন্নত মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ হচ্ছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ ও বাজারে উঠবে বলে কৃষকরা জানান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় ও কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খানসামায় প্রথমবারের মতো মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষ হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ওলকচু চাষ বিষয়ে কৃষকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরেন। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ বছর  খানসামা উপজেলার ১২ জন কৃষক মোট ২৪০ শতক জমিতে ওলকচু চাষ করেছেন।

ভাবকী গ্রামের কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোজাম্মেল হক বলেন, আগে তো বাড়ির আশপাশে দেশি জাতের ওলকচু চাষ করতাম। এবার মাদ্রাজি জাতের ওলকচু লাগিয়েছি। ওলের ফলন ও গুণাগুণ বিষয়ে জানতে পেরে কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করেছি। ২০ শতক জমিতে চাষ, নিড়ানি ও অন্যান্য বাবদ এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ফসল তোলা পর্যন্ত আরও কিছু খরচ হবে। আশা করি ২-৩ মাসের মধ্যে ওলকচু সংগ্রহ করা যাবে।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এম জি এইচ কামরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং যে কোনো প্রয়োজনে তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।

খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নুর ফারিহা আইরিন বলেন, পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওলকচুতে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, থায়ামিন, লোহা, আঁশ, নিকোটিনিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ভিটামিন রয়েছে। তাই ওলকচু খেলে পেটের পীড়া, ফোঁড়া, হাঁপানি, গোদ, অর্শ, বাত, রক্তের ব্যাধি, প্লীহার স্ফীতি প্রভৃতি নিরাময় হয়। ওলকচুর ওপরের অংশ কানের ব্যথা, গলা ফুলা, ফুসকুড়ি, কলেরা, উদরাময়, পোকামাকড়ের কামড় ইত্যাদি অসুখ নিরাময়েও ব্যবহার হয়।

খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় জানান, ওল একটি লাভজনক কন্দ জাতীয় সবজি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নত জাতের ওলকচু চাষ করে অনেকে ভাগ্য বদলিয়েছেন। আশা করি খানসামা উপজেলার কৃষকরা ভালো ফলন এবং ভালো বাজারমূল্য পাবেন। লাভবান হবেন। এর চাষ আরও বাড়বে।