রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

৬৫ দিন পর ধরা শুরু

মাছ নিয়ে সরগরম জেলেপল্লী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মাছ নিয়ে সরগরম জেলেপল্লী

ইলিশের প্রজনন মৌসুমের ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা শেষ হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া। ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় যেসব ট্রলার রওনা হয়েছিল তাদের আবার উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার পর ২৩ জুলাই মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে সমুদ্রে যাওয়ার কথা ছিল জেলেদের। এ কারণে বেশ কিছুদিন মাছ ধরা ট্রলার মেরামত, জাল তৈরি ও খাবার, জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে প্রস্তুতি নেন জেলেরা। তাই সরগরম হয়ে ওঠে উপকূলীয় জেলেপল্লী ও মৎস্যবন্দরগুলো। দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুর-ঢোস, মৌডুবিসহ উপকূলীয় এলাকার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও জেলেপল্লীগুলোয় কর্মতৎপরতা ফিরে আসতে শুরু করেছে এবং জেলে পরিবারে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বরফকলগুলোয় দিনরাত বরফ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মহামারী করোনাভাইরাস ও সমুদ্রে ৬৫ দিনের অবরোধের কারণে কষ্টে জীবন যাপন করা জেলেদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। সমুদ্রে মাছ আহরণে নেমে ইলিশ শিকার করে নিয়ে আসবেন তীরে এমন আশা নিয়ে সমুদ্রে নামবেন জেলেরা। এ কারণে কুয়াকাটা সমুদ্রোপকূলীয় মৎস্যবন্দরগুলোয় কর্মব্যস্ত মৎস্যজীবীরা। মৎস্যবন্দর আলীপুর-মহিপুর-কুয়াকাটাসহ সমুদ্রোপকূলের জেলেপল্লীগুলো আবার দীর্ঘ সময় পর সরগরম হয়ে উঠেছে।

গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণ করা মহিপুরের জেলে মো. জালাল মাঝি বলেন, ‘অবরোধের সময়সীমা যতই ঘনিয়ে এসেছে ততই অপেক্ষার বাঁধও ভেঙে যাচ্ছিল কখন সমুদ্রে নামব। কখন ইলিশ ধরে নিয়ে এসে বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ফোটাব।’ আলীপুর মৎস্যবন্দরের সভাপতি ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘প্রজনন মৌসুমের ৬৫ দিন অবরোধ শেষে জেলেদের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে সমুদ্রে ইলিশ শিকারে রওনা হওয়ার কথা। আবহাওয়া খারাপ তাই জেলেরা সাগরে নামতে পারেননি। কিন্তু গোপনে কিছু জেলে ট্রলার ২৩ জুলাই মধ্যরাতে সাগরে নামলেও আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। অবরোধের ৬৫ দিন জেলেরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘সমুদ্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারের মাধ্যমে দেশের মাছের চাহিদা পূরণ করে আসছেন জেলেরা। অথচ জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়ে ঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসে ডুবে মারা যাওয়ার পর তাদের পরিবারকে খাবারের জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে হয়।’ নিবন্ধনকৃত জেলেদের জন্য ঝুঁকিভাতা চালুর জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশক্রমে ৬৫ দিনের অবরোধ শেষ হয়েছে ২৩ জুলাই মধ্যরাতে। আমরা আশাবাদী জেলেদের জালে এ বছর প্রচুর বড় সাইজের ইলিশ মাছ ধরা পড়বে। তাই জেলেদের নিরাপদ মাছ শিকার নিশ্চিত করতে র‌্যাবের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী জলদস্যু দমনে কাজ করছে।’

এই রকম আরও টপিক