শিরোনাম
শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

সাজার বদলে বাবা মায়ের সেবার রায় দিল আদালত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

তিন মাদকসেবীকে সংশোধন হওয়ার ‘আদেশ’ দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত বৃহস্পতিবার আদালতের বিচারক মো. রাকিবুল হাসান রকি সংশোধনমূলক এ আদেশ প্রদান করেন। এতে বাবা-মায়ের সেবা, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর শর্ত, গাছ লাগানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামিদের ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) এর সারণি ১৬-এ বর্ণিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে দন্ড আরোপ করা যৌক্তিক ও যথাযথ বিবেচিত হয়। তবে নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাদের বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা নেই। অর্থাৎ তারা কোনো পেশাদার অপরাধী  নন। পেশায় তারা সিএনজিচালক। এরূপ প্রথম অপরাধকারীদের শাস্তি হিসেবে যদি কারাগারে পাঠানো হয় তাহলে দাগি অপরাধীদের সাহচর্যে তাদের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধীকে সব ক্ষেত্রেই সাজা আরোপ করা আইন সমর্থন করে না। কেননা শাস্তি প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য সংশোধনমূলক, প্রতিহিংসামূলক নয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধীকে সমাজের নিজ পরিমন্ডলে একজন প্রবেশন অফিসারের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে তার অপরাধ প্রবণতা সরিয়ে সু-প্রবৃত্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে; পরিকল্পিত পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে আলোকিত জীবন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করতে পারে। এমতাবস্থায় তাদের সমাজে একজন সৎ, পরিশ্রমী এবং আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে পুনর্বাসনের জন্য এবং সংশোধনের সুবিধার্থে দ্য প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৬০-এর ৫ ধারার আলোকে শর্তসাপেক্ষে একজন প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রবেশন প্রদান করা যুক্তিযুক্ত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, এটি যুগান্তকারী রায় হয়েছে। মামলায় আসামিদের দুই বছরের সাজা হতে পারত। তা না করে সংশোধনের যে রায় দেওয়া হলো, সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সংশোধনমূলক রায়ের আসামিরা হলেন- আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের গুলখার গ্রামের মো. হারুন বেপারির ছেলে মো. রায়হান বেপারি, হেলাল খানের ছেলে মো. আবুল কাশেম, আবদুল আজিজের ছেলে আনোয়ার হোসেন। রায়ের পর তাদের জিম্মাদারের জিম্মায় দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মামলা হয়। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, প্রবেশনার আগামী এক বছরের জন্য প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকবেন এবং তার নির্দেশনাসমূহ মেনে চলবেন। ওই সময় তিনি মাদক সেবন ও বিক্রি করতে পারবেন না। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন না। জুয়া, তাস, ক্যাসিনো, বাজি ইত্যাদি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। ধূমপান পরিত্যাগ করবেন। আসামি মাদকবিরোধী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করবেন। প্রবেশনকালীন সময় আসামি ২০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করবেন। আসামিরা প্রবেশন চলাকালীন তাদের বৃদ্ধ পিতামাতার দেখাশোনা করবেন এবং ভরণপোষণের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। নিয়মিত নামাজ আদায় এবং ধর্মীয় কাজ করবেন।

 

সর্বশেষ খবর