শিরোনাম
শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ করছে সরকার

আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে দাম কমবে দেশেও

মানিক মুনতাসির

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন, উৎপাদনসহ প্রায় সব ধরনের খরচ বেড়েছে। এর ফলে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয়ের ওপর এক ধরনের চাপ পড়তে শুরু করেছে। এতে কোনো ধরনের পণ্যমূল্যের ওপর কতটা প্রভাব পড়ছে, সার্বিক দ্র্ব্যমূল্য পরিস্থিতি কী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, আমদানি পণ্যের বাজার পরিস্থিতি কেমন এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং শাখাও এ নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগও এ নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি খুবই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। কেননা আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুতগতিতে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সরকার। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশের মানুষের আয় কমেছে। বহু মানুষ এখনো কর্মহীন রয়েছেন। কর্মহারাদের অনেকেই এখনো কাজ ফিরে পাননি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও (বিইআরসি) সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে তেলের দাম সমন্বয় করার।

এদিকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো স্থিতিশীল হয়নি। দ্রুত ওঠানামা করছে। আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে সরকারও দেশে ব্যবস্থা নেবে। কোনো দিন জ্বালানি তেলের দাম ২০ ডলার কমে তো পরদিন ২ ডলার বাড়ে। যখন তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে স্থিতিশীল হবে, তখন আমরাও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ এ ব্যাপারে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুও একই ধরনের কথা বলেছেন। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী গত অক্টোবরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, আগের মাস সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এরও আগে আগস্টে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির এ হার ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে অক্টোবরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ সূচক বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে ধরে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যা গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সব ধরনের পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে, যা আসলে করোনা মহামারীর কারণে আগে থেকেই বাড়ন্ত ছিল। এখন তা আরও বাড়বে। তবে এর প্রভাব বোঝা যাবে আরও কিছুদিন পর। আর মূল্যস্ফীতির ওপর চূড়ান্ত চাপটা আসবে দু-এক মাস পর, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বাড়বে। শুধু তা-ই নয়, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতেও একটা প্রভাব পড়বে। ফলে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এদিকে খাদ্যপণ্যের বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। করোনাভাইরাস মহামারীর সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন, বণ্টন, সরবরাহ চেইনে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। সামনের দিনগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় খাদ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন বাড়ানো, বণ্টন ও সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম আবারও সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছেন তারা। এমনকি জ্বালানি তেলের ওপর সরকার কিছুটা ভর্তুকি দিলে জনভোগান্তি কমবে। একইভাবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

সর্বশেষ খবর