প্রিয়তমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি বাড়িয়ে ধরে প্রশ্ন, উইল ইউ ম্যারি মি? (তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?)। প্রিয়তমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার চিরন্তন পদ্ধতি এটি। যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি মানুষ এভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন, প্রেয়সীর হৃদয় জিতেছেন। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা নারীর হৃদয় জয় করতে বা প্রস্তাব দেয়ার মুহূর্তটি স্মরনীয় করে রাখতে নানারকম পাগলামি করেন। স্কাইডাইভিং করে বাতাসে ভাসতে ভাসতে, স্কুবা ডাইভিং করে সাগরের অতলে ডুবতে ডুবতে, পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, আগ্নেয়গিরি লাভার সামনে দাড়িয়ে- বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার অনেক অ্যাডভেঞ্চরাস উদাহরণ আছে।
তবে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নিউইয়র্কবাসী যা দেখলো, ঝুঁকি বিবেচনায় সেটি মানুষের মনে থাকবে অনেকদিন। শুধু নিউইয়র্কবাসী কেন, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে বিশ্বের কোটি মানুষ দেখেছে শ্বাসরুদ্ধকর অভিনব এই প্রপোজালের চিত্র।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ব্যস্ত নিউইয়র্কবাসী হঠাৎ দেখলো আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংএর একেবারে চূড়ায়, মানে ১০২ তলার ওপরে ব্রডকাস্ট এন্টেনার চূড়ায় বিন্দুর মত দুজন মানুষকে দেখা যাচ্ছে। কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া তারা ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উচুতে ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় একটি ব্যানার টানাচ্ছিলেন। তাদের দুঃসাহসিক কান্ডকারখানা দেখে শ্বাস আটকে আসতে চায় নিচের অনেকের। মুহূর্তেই ভাইরাল তাদের সেই ছবি।
খবর পেয়ে হেলিকপ্টার ড্রোন, আর বিশেষ রেসকিউ টিম নিয়ে ছুটে আসে নিউইয়র্ক পুলিশ; হেলিকপ্টার নিয়ে ছুটে আসেন সাংবাদিকরাও। নিচে যখন হুলস্থুল, তখনও কালো পোশাক আর মুখোশ পরা তাদের কোনো হেলদোল নেই। ব্যানার টানানো শেষে তারা ধীরেসুস্থে কিছুটা নেমে এসে একটা প্লাটফর্মে দাড়ান। সেখানে পুরুষটি সেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে নারীটিকে প্রস্তাব দেন। নিশ্চয়ই তিনি হ্যা বলেছেন। কারণ পুরুষটি উঠে দাড়ালে তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ও চুমু খান।
পুরো দৃশ্যটাই গোটা বিশ্ব দেখেছে সরাসরি। সবচেয়ে বেশি মানুষের দেখা প্রপোজালেল বিশ্বরেকর্ডের কোনো সুযোগ থাকলে এর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না। দুপুর ১টার পুলিশ সদস্যরা নিজেরাও ঝুঁকি নিয়ে চূড়ায় উঠে তাদের নিচে নামিয়ে আনেন। ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চুড়ায় তাদের টানানো কালো ব্যানারে বড় বড় সাদা হরফে লেখা ছিল, ‘যখন ক্ষমতার লোভের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি ফিরে পাবে।’
চারদিকে যুদ্ধের দামামায় শান্তির এ বাণী হয়তো অনেকের মনে স্বস্তি আনবে। কিন্তু বেরসিক পুলিশ অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যাওয়ায় দুঃসাহসী এই রোমান্টিক জুটিকে হেফাজতে নিয়েছে। এত সুরক্ষিত একটি ভবনের চূড়ায় তারা কীভাবে এবং কখন উঠলেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিচে নেমে আসার পর দেখা গেল এই জুটি আগে থেকেই বিখ্যাত। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি ‘স্কাওয়াকার্স: এ লাভ স্টোরি’র মূল চরিত্র রাশিয়ার বিখ্যাত রুফটপার অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান বীরকুস শান্তি আর ভালোবাসার বাণী নিয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় চড়ে বসেছিলেন।
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতায় লিখেছেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি/দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়।’ অ্যাঞ্জেলা আর ইভান কবির কল্পনাকেও হার মানালেন। ১ হাজার ৪৫৪ ফুট ওপরে উঠে ভালোবাসা আর শান্তির বাণীর ব্যানার টানানো দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল কাপড় বাধার চেয়ে কম ঝুকিপূর্ণ নয়। সত্যিই তারা ভালোবাসার জন্য হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিলেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ