Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৩৮

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে নববর্ষ ম্লান

অনলাইন ডেস্ক

নিরাপত্তার বাড়াবাড়িতে নববর্ষ ম্লান

নতুন বাংলা বর্ষবরণে প্রতি বছরের মতো এবারও মঙ্গল শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রার চতুর্দিকে সোয়াট, ডিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও স্কাউট সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী চোখে পড়ে। 

নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই কড়াকড়ি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানান শোভাযাত্রা দেখতে আসা সাধারণ মানুষ। তবে মানুষের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় থাকা র‍্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীনা রানী দাস বলেন, 'আমরা উৎসব করবো কিন্তু নিরাপত্তা সবার আগে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তো উৎসবই শেষ হয়ে যাবে। এখন অনেক বিদেশী অতিথিরাও আসে। কোনো ঘটনা ঘটলে তারাও আসবেনা। আমরা কারও জন্য বাধা নই। দায়িত্ব পালন করছি যাতে নির্বিঘ্নে সবাই দায়িত্ব পালন করতে পারে।'

সুমাইয়া তাবাসুসম নামের একজন জানান, 'আগে এখানে ভিড়ে দাঁড়ানো যেত না। এবার মানুষ অনেক কম। তার চাইতে পুলিশ অনেক বেশি। মঙ্গল শোভাযাত্রায় মানুষের চাইতে পুলিশের সংখ্যাই বেশি। মনে হচ্ছে এটা পুলিশের শোভাযাত্রা। এটা দেখেই তো ভয় লাগছে।'

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলামের মতে মানুষ এই কড়া নিরাপত্তায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে উৎসবের সতঃস্ফূর্ততা বজায় রাখতে নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার কথাও জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, 'প্রথমে মানুষ নিরাপত্তার এই বিষয়টিকে কেউ কেউ ভিন্নভাবে নিয়েছে। তবে এখন মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে পরিস্থিতির নিরিখে আমরা বিষয়টি আরও রিভিউ করব যেন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা আরও বাড়ে।' 

বর্ষবরণ উৎসবে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার এই বাড়াবাড়ি এক ধরণের বাধার সৃষ্টি করছে বলে মনে করেন চারুকলা অনুষদের ডিন এবং এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিসার হোসেন।

নিরাপত্তার একটি বড় অংশকে তিনি লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা বাহিনীও বলছেন যে তারা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন, তাহলে নিয়ন্ত্রণ যখন করেছেন তাহলে কিছুটা ঢিল দেন, কিছুটা ছাড় দেন আমাদের। এটা যতোটা না নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তার চাইতে বেশি এটা লোক দেখানো। যখনই কোন কিছু দেখানো হয় তখনই সেটা বেশি বেশি হয়ে যায়। নিরাপত্তা দরকার আছে। কিন্তু এখন যেটা চলছে সেটা বাড়াবাড়ি।'

নিসার হোসেন আরও বলেন, 'যত সংখ্যক মানুষ এসে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে, ততোটা সেবা এখানে দেয়া হয় না। এর চেয়ে কম জনবল দিয়ে আরও বেশি নিরাপত্তা নিচিত করা সম্ভব'।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য