শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ মে, ২০২০ ২১:২৩
প্রিন্ট করুন printer

প্রথমবারের মত বাজেট ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে

মানিক মুনতাসির

প্রথমবারের মত বাজেট ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে
প্রতীকী ছবি

সরকার আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। এ খাতে এবারই প্রথমবার ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। যা চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে পাঁচ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ছয় অর্থবছর ধরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ছে। তবে এবার ভর্তুকির এই পরিমাণ অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি।

চলতি অর্থবছর এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ৪৭ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এটা চলতি বাজেটের সংশোধনীতে বাড়িয়ে ৪৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বাংলাদেশে করোনার যে আচমকা আঘাত সেটার রেশ টানতে হবে অনেক বছর। অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে থাকবে। এ বিরূপ প্রভাব কটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ভর্তুকি, প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত ভর্তুকি বেশি দেওয়া হয় কৃষি ও খাদ্য খাতে। আর প্রণোদনা বেশি দেওয়া হয় কৃষি, পোশাক রপ্তানি ও পাট খাতে। এছাড়া নগদ ঋণ দেওয়া হয়ে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ (পিডিবি) অন্যান্য সংস্থাকে। তবে বিপিসি, পিডিবিকে যে নগদ ঋণ দেওয়া হয় সেগুলোকে এক ধরনের ভর্তুকি হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। কারণ এসব ঋণ সাধারণত সরকার ফেরত পায় না। যে কারণে পরে পুরো ঋণই অনুদান, ভর্তুকিতে রূপান্তরিত হয়। বেসরকারি খাত থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পিডিবিকে ঋণ দেয় সরকার।

আগামী বাজেটে ভর্তুকি : অন্যবারের মতো আগামী অর্থবছরেও ভর্তুকিতেই বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ২৩ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। যা চলতি বাজেটের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৭৬১ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে এখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ২৪ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ২৩ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে ভর্তুকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেওয়া হবে বিদ্যুৎ খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছর থেকে আগামী অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমছে। চলতি অর্থবছর এ খাতে ভর্তুকি রয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। খাদ্যে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৫ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। খাদ্যে চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামী বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ৪ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে সেটা কমিয়ে ৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা করা হয়।

এ ছাড়া অন্যান্য খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে যা ছিলো ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা তবে সংশোধিত বাজেটে সেটি কমিয়ে রাখা হয় ৯ হাজার কোটি টাকা।

প্রণোদনা : আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার টাকা চলতি সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বাড়ছে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ হচ্ছে ২২ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। যা চলতি সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। অবশ্য চলতি মূল বাজেটে এখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ১৯ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে করা হয় ১৮ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে যা রাখা হয়েছিলো ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে রাখা হয় ৮ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চলতি বাজেটের সমান পরিমাণ ৬ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে রপ্তানি নগদ প্রণোদনার জন্য। এছাড়া পাট খাতের জন্য রাখা হচ্ছে চলতি বাজেটের ন্যায় ৫০০ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনার জন্য রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা।

নগদ ঋণ : আসছে বাজেটে নগদ ঋণ খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। তবে এই ছয় হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরেও এ দুই খাতে কোনো বরাদ্দ রাখেনি সরকার। আগামী বাজেটেও অন্যান্য খাতে ছয় হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে এখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ড. এবি মিজা আজিজুল ইসলাম বলেন, আগামী বাজেটে কৃষি ও খাদ্য খাতে যে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে এটা যুক্তিযুক্ত। করোনা প্রভাব মোকাবেলায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই এখাতে বরাদ্দ বেশি দিতেই হবে। কিন্তু জ্বালানি খাতে গ্যাস বা এলএনজি আমদানিকে ভর্তুকি বাড়ানোটা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মনে করি।

আর আরেক সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট ভর্তুকি বাড়ছে এটা ভাল খবর। কিন্তু ভর্তুকির টাকাটা যাদের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ থাকে তাদের কাছে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ভর্তুকির অর্থ খরচের হিসাবটা হতে হবে স্বচ্ছ। এখানে জবাবদিহিতা নেই বলেই তো ত্রাণের চাল, টাকা ঠিকমত বিতরণ করা যায় না। ফলে ভর্তুকি খাতে স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে এটা কোন কাজে আসবে না।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৫৮
প্রিন্ট করুন printer

করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় প্রাণ গেল এএসপি তন্বীর

অনলাইন প্রতিবেদক

করোনা পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় প্রাণ গেল এএসপি তন্বীর

কোভিড-১৯ পরবর্তী শারীরিক জটিলতার কারণে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইসরাত জাহান তন্বী মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। 

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর। তিনি ১১ এপিবিএন, উত্তরাতে কর্মরত ছিলেন। 

তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ। আজ সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ পুলিশের ৩৪তম বিসিএস ব্যাচের মেধাবী এই কর্মকর্তা সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি করোনাকে জয় করে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পুনরায় কাজে যোগ দেন। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবায় তার ফুসফুস সংক্রামিত হয়ে যায়। করোনা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও পরবর্তী সময়ে একে একে তার শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে থাকে। অবস্থার অবনতি হলে সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি তাকে আসগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গতকাল সকাল থেকে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই আজ বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এএসপি ইসরাত জাহান তন্বী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

ইসরাত জাহান তন্বী ২০১৬ সালে ৩৪তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১১ এপিবিএন, উত্তরাতে যোগদানের পূর্বে তিনি মানিকগঞ্জ জেলায় সহকারী পুলিশ সুপার (প্রবেশনার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৫৪
প্রিন্ট করুন printer

দেশে কোটিপতির বাম্পার ফলন: রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক

দেশে কোটিপতির বাম্পার ফলন: রুমিন ফারহানা
রুমিন ফারহানা। ফাইল ছবি

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‌‘লুটের টাকার একটা বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে তৈরি হয় বেগমপাড়া কিংবা সেকেন্ড হোম। গত এক যুগের জানা-অজানা লুটের ফল হয়েছে বাংলাদেশে কোটিপতির বাম্পার ফলন। ২০০৯ সালের ২১ হাজার ৪৯২ জন কোটিপতি ২০২০ সালে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪৮৮ জনে। ব্যাংকের এই হিসাবের বাইরে আছে আরও বহু কোটিপতি। বিশ্বে ২৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক হিসেবে অতি ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ প্রথম আর ধনী বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ তৃতীয়, কিন্তু বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যায় বাংলাদেশ পঞ্চম।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন বলেন, ‘সরকারের এযাবৎকালের সব ব্যর্থতা ছাড়িয়ে গেছে করোনাকালীন ব্যর্থতা। শুরু থেকে করোনা পরীক্ষা, মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন সরবরাহ, আইসিইউ, প্রণোদনাসহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা এই কঠিন সময়কে কঠিনতর করেছে। পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে নকল করোনা সার্টিফিকেট বিক্রি হয়েছে। এখন যুক্ত হয়েছে টিকা নিয়ে ব্যবসা।’

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:৩৪
প্রিন্ট করুন printer

দেশে ঋণ খেলাপি তিন লাখ ৩৫ হাজার: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ঋণ খেলাপি তিন লাখ ৩৫ হাজার: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সংসদে জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে (অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত) খেলাপি ঋণগ্রহীতা তিন লাখ ৩৪ হাজার ৯৮২ জন। একশ কোটি টাকার খেলাপি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে তদারকি বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকগুলোকে মনিটরিং সেল গঠনে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঋণ আদায় উৎসাহিত করার জন্য পরিশোধিত সুদের উপর ঋণগ্রহীতাদের রিবেট প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আবার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খেলাপি গ্রাহকদের সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন এক্সিটের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া খেলাপি মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করতে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগসহ বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির মাধ্যমে আদালতের বাইরে বিরোধ নিস্পত্তি করে ঋণ আদায় হচ্ছে।

সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের একাদশ তথা শীতকারীন অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় এমপি অসীম কুমার উকিলের (নেত্রকোণা-৩) প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।

অর্থপাচার অনেকাংশে কমে যাবে: 

এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, দেশ থেকে অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়নের মাধ্যমে অর্থপাচারের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটি খতিয়ে দেখছে। যেসব ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেসব ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এ সময় অর্থপাচার বন্ধে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বা অর্থপাচার অনেকাংশে কমে যাবে।

করোনার টিকার জন্য বরাদ্দ এক হাজার ৪৫৫ কোটি

মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার টিকা কেনার জন্য এ পর্যন্ত এক হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে অর্জন ৩২.৮৭ শতাংশ 

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারির প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৪৭১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জন ৩২.৮৭ শতাংশ।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:১৪
প্রিন্ট করুন printer

আগামী ১৮ মার্চ থেকে অমর একুশে বইমেলা

অনলাইন ডেস্ক

আগামী ১৮ মার্চ থেকে অমর একুশে বইমেলা

আগামী ১৮ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। যদিও করোনার কারণে ২০২১ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ভার্চ্যুয়াল বা অনলাইনে করার দাবি উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, ১৮ মার্চ শুরু হচ্ছে মেলা।

এর আগে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানিয়েছিলেন করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হবে না। তিনি বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমতি মিলেছে। আমরা ১৮ মার্চ থেকে বইমেলা করব। কত দিন চলবে এবারের মেলা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের ইচ্ছা আছে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত বইমেলার আয়োজন করা। হবে এর মধ্যে যদি কোনো আপত্তি উঠে, তবে রমজান মাস শুরুর আগের দিন মেলার সমাপনী আয়োজন করব। প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করে কত দিন মেলা চলবে, সেটি ঠিক করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:০৭
প্রিন্ট করুন printer

বিবিসি বাংলা’র প্রতিবেদন

যে ৫টি কাজ করলে ঢাকাও হতে পারে মদিনার মতো স্বাস্থ্যসম্মত শহর

অনলাইন ডেস্ক

যে ৫টি কাজ করলে ঢাকাও হতে পারে মদিনার মতো স্বাস্থ্যসম্মত শহর

সৌদি আরবের মদিনা স্বাস্থ্যসম্মত শহর হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে, এরকম একটা খবর অনেক পাঠকের আগ্রহ তৈরি করেছে।

বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর শহর হওয়ার সব মানদণ্ড অর্জন করার কারণে শহরটিকে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের হাজারো শহর সংস্থাটির স্বাস্থ্যসম্মত শহর নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত। সবশেষে মদিনা শহরটি এই সংস্থাটির স্বীকৃতি পায় বলে সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়।

এই নেটওয়ার্কের আওতায় শহরগুলোর মেয়র এবং মিউনিসিপালিটি শহরের মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের অনেক নেতিবাচকের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, যেটির জনঘণত্ব রেকর্ড পরিমাণ। ঢাকার দূষণ নিয়েও কথা হয় নানা সময়ে।

সোয়া কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তরপাশ থেকে শুরু করে উত্তরার উত্তরপাশ বা টঙ্গী খাল পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটারের এই শহরটিকে কি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মানদণ্ডে আদর্শে পরিণত করার আর সুযোগ আছে?

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলছেন, এতো বিশাল সংখ্যক মানুষের বাস যে শহরে সেটিকে স্বাস্থ্যসম্মত করে গড়ে তুলতে হলে মহা-পরিকল্পনা দরকার। তিনি প্রতিকারমূলক ও প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন। তবে ঢাকাকে মদিনার মত স্বাস্থ্যসম্মত শহরে পরিণত করার জন্য মোটা দাগে ৫টি সমস্যা সমাধাণের উপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

১. বায়ু দূষণ

ধূলাবালি, ধোঁয়া ইত্যাদির কারণে ঢাকার বাতাসকে অত্যন্ত দূষিত বলে ধরা হয়। শহরের মধ্যে সারা বছরই নানা ধরণের নির্মাণ কাজ এবং যানবাহন চলাচল করার কারণে বায়ু দূষণ বেশি।

তবে এই দূষণ দূর করা সহজসাধ্য নয় বলে মনে করেন প্রফেসর ইসলাম। কারণ একদিকে যেমন চাইলেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করা যায় না, ঠিক তেমনি নির্মাণ কাজ করলেও ধুলা উড়বে না এমন কোন প্রযুক্তিও সহজলভ্য নয়। আর দূষিত বাতাসের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

২. পানি দূষণ

রাজধানী চারদিকের যে পানির উৎস রয়েছে সেগুলো একদিকে যেমন দূষিত অন্যদিকে এই জলাশয়গুলো নানা ধরণের রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ে বলেও মনে করেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম। যার মধ্যে পানিবাহিত নানা রোগ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার।

তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, মশার বিস্তার কমাতে হলে আশপাশ পরিষ্কার এবং ডোবা নালা পরিষ্কার ও বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া ঢাকাতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব থাকলেও সেটি আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে জানান তিনি।

৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

ঢাকায় বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা অনেক পুরনো। যারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করেন তাদের যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই, ঠিক তেমনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয় যত্রতত্র।

পচনশীল, কঠিন কিংবা নবায়নযোগ্য বর্জ্য আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয় না। বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার সাথে জনস্বাস্থ্য জড়িত।

৪. সবুজ পরিবেশ

প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, মানুষের শারীরিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড যেমন ব্যায়াম বা হাঁটার জন্য সবুজ পরিবেশ যেমন পার্ক, ফুটপাত থাকার নিয়ম থাকলেও ঢাকায় এর ব্যবস্থা খুবই কম।

৫. শব্দ দূষণ

বাংলাদেশে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা ধরণের নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ নেই বলে জানান নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। যার কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্বাস্থ্যসম্মত শহর শুধু একটি শহরের স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোর উপর নির্ভর করে না। বরং শহরটির পরিবেশের উন্নয়নের অঙ্গীকার এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আগ্রহের উপরও নির্ভর করে।

স্বাস্থ্যসম্মত শহরের এই ধারণা স্বাস্থ্য ও সেবার সমতা নিশ্চিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

সেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার বলে মনে করেন প্রফেসর নজরুল ইসলাম।

প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বাংলাদেশের নগর এলাকায় তেমন ভাল না। প্রয়োজনের তুলনায় হাসপাতাল বা হেলথ সার্ভিস সেন্টারের সংখ্যা কম। সেবা মোটামুটি মানের। অনেক বেসরকারি সংস্থা এগুলো নিয়ে কাজ করলেও এর প্রধান দায়িত্ব সরকারের বলে মনে করেন তিনি।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর