শিরোনাম
প্রকাশ : ১ আগস্ট, ২০২০ ০৮:১৮
আপডেট : ১ আগস্ট, ২০২০ ০৮:৪৯

পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা আজ
প্রতীকী ছবি

করোনা মহামারীর মধ্যে আজ শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান রব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি করে থাকেন বলে এ ঈদকে কোরবানির ঈদও বলা হয়।

মুসলিম বিশ্বের জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসারে এদিন পশু কোরবানি করা হয়ে থাকে। ধর্ম মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের ঈদ ও কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। চলমান করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।

করোনার কারণে এবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের কোনো ঈদগাহ ও খোলা মাঠে ঈদ জামাত হবে না। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ছয়টি জামাত হবে। এখানে প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে, তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, চতুর্থ জামাত সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে, পঞ্চম জামাত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত বেলা ১১টা ১০ মিনিটে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সব মসজিদে ঈদের জামাত হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদ জামাতে অংশ নেয়ার জন্য মুসল্লিদের নিজ নিজ জায়নামাজ সঙ্গে করে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইলাল্লাহু, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’- তকবির বলতে বলতে ঈদ জামাতে হাজির হবেন মুসলমানরা। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় শেষে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সস্তুষ্টিলাভের জন্য যার যার সাধ্যমতো পশু কোরবানি দেবেন।

এদিকে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের উৎসবে শামিল হতে অনেকে ছুটে গেছেন গ্রামের বাড়ি। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এ ঈদ।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১৩ নির্দেশনা : পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত আদায় প্রসঙ্গে ১৩ নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক সম্প্রতি জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

নির্দেশনাগুলো হলো- নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে, মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন, বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে, মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না, ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে অর্থাৎ দুই কাতারের মাঝে এক কাতার খালি রাখতে হবে, শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না, সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে, করোনাভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হয়, খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয় এবং পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর