শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১১:৩৭
আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১৩:২৮

শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে যুদ্ধ-সংঘাত পরিহারের আহ্বান

'উন্নয়নে আগ্রহী সকলের উচিত বাংলাদেশকে ফলো করা'

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :

'উন্নয়নে আগ্রহী সকলের উচিত বাংলাদেশকে ফলো করা'

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইটালি, ভারতসহ ৩২ দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ক ৯২ বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে দুদিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ১১ এপ্রিল মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সম্পন্ন হয়েছে। ‘ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অন বিজনেস এ্যান্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এ সম্মেলনের রেজ্যুলেশনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ এবং সংঘাতমুক্ত বিশ্ব ব্যতিত মানবতার অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা সামগ্রিক কল্যাণ সম্ভব নয়। একইসাথে উদ্যমী লোকজনকে ব্যবসা-বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রতিটি সরকারের উদার নীতি অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছ্বতা এবং আইনের শাসনের পথ যত সুগম হয়, তত বেগবান হয় উন্নয়ন পরিক্রমা-মন্তব্য অংশগ্রহণকারিদের।  

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য একাডেমি অব বিজনেস এন্ড রিটেইল ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বিজনেস এন্ড ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট এর যৌথ উদোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের চেয়ারপার্সন ড. পি আর দত্ত বলেন, ‘সমসাময়িক পরিস্থিতির আলোকে ব্যবসা-বিনিয়োগ-গবেষণা-উদ্ভাবন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়। তাহলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব। আর সেই ধরনের গবেষণায় নিয়োজিত লোকজনই এখানে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। ’

বাংলাদেশি-বৃটিশ শিক্ষাবিদ ড. পি আর দত্ত বলেন, ‘ষষ্ঠ বছরের মত এবারও আমরা সকলে তৃপ্ত সম্মেলনের বক্তব্যে। সামনের বছরও এই সিটিতেই সপ্তম সম্মেলন হবে। কো-হোস্ট হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কের মেডগার এভার্স কলেজ। ’

মেডগার এভার্স কলেজের পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. জুলেমা ব্লেয়ার এ প্রসঙ্গে এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘আমরা গর্বিত যে, এমন একটি সম্মেলনের অংশ হতে পারবো। মানবতার সামগ্রিক কল্যাণের পথ সুগম করা নিয়ে যারা বিশ্বব্যাপী কাজ করছেন, তারাই অংশ নেবেন এ সম্মেলনে। যেখানে থাকবে না কোন চাপাবাজি কিংবা গলাবাজির অবকাশ। ’ 

সম্মেলনের প্লেনারী সেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইটালির মিলানোতে অবস্থিত বকোনি ইউনিভার্সিটির পলিসি এনালাইসিস এবং পাবলিক ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রধান অধ্যাপক ড. ফেব্রিজিয়ো পিজানী। সম্মেলন কেন্দ্রে এ সংবাদদাতার সাথে সমসাময়িক প্রসঙ্গে ড. পিজানী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে বিশ্বে আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হলো। শান্তি এবং সমৃদ্ধির স্লোগানে ভোট নেয়ার পর যুদ্ধে লিপ্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র। এভাবে মানবতার সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। যুদ্ধে শুধু মানুষের প্রাণ যায় না, একইসাথে সম্পদ ধ্বংস হয় এবং উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়ে। ’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি অবিলম্বে এমন ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ থেকে সরে আসবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তা না হলে মানবতা আরো হুমকিতে পড়তে বাধ্য। সভ্যতা নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়লেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। ’ 

বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ভিজিটিং প্রফেসর ড. পিজানী উল্লেখ করেন, ‘নিরবিচ্ছিন্ন শান্তির পূর্বশর্ত হচ্ছে সমঝোতা। ’ তিনি বলেন বলেন, ‘অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রবল আকার ধারণ করেছে। এটি শুধু মানুষে মানুষে নয়, রাষ্ট্র বিশেষেও। অথচ তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে সবকিছু একভাবে এগিয়ে নিতে সমতার বিকল্প নেই। ’

‘তথ্য-প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্ভব নয়। তার বড় উদাহরণ আজকের বাংলাদেশ। সমগ্র জনগোষ্ঠিকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করার পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হচ্ছে বাংলাদেশে’-এ অভিমত পোষণ করেন মালয়েশিয়ার নটিংহাম ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের গবেষণা-ম্যাগাজিনের রিভিউ এডিটর অধ্যাপক অং ফন সিম। অধ্যাপক সিম বলেন, ‘উন্নয়নে আগ্রহী সকলের উচিত বাংলাদেশকে ফলো করার। ’

সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আরও ছিলেন মস্কোর ফাইন্যান্সিয়াল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রুস্তম নুরিভ, যুক্তরাষ্ট্রের বেলহেভেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ওয়ারেন ম্যাথিউ, কানাডার ম্যাকাওয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেনিফার বাওয়ারমেন, যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পি আর দত্ত, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানভিলে কলেজের ডেভিড আর বরকার, নিউইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক উমাপাথে, বারবেডসের ওয়েস্টইন্ডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এন্থনী উড, সেন্ট্রাল কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক লী ডব্লিউ লী, লেবাননের বালামন্ড ইউনিভাসিটির অধ্যাপক গ্রীটা সাব, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত বাহরিয়া ইউনিভার্সিটির হিনা সামদানী এবং আমেনিা ইয়ামীন, নাইজেরিয়ার মাকুরডিতে অবস্থিত বেনু স্টেট ইউনিভার্সিটির ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অধ্যাপক যোসেফ টেরিমা সেভ, শ্রীলংকার ইউনিভার্সিটি অব কলম্বোর ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ফাইন্যান্সের অধ্যাপক হেটিজ ডন কারুনারাটনে এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালানিয়ার হিরাথ এইচ এম টি এস, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকার গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেস লিডারশিপের আখাবু এ অখারেডিয়া, কায়রোর হেলোয়ান ইউনিভার্সিটির ইকনোমিক এ্যান্ড ফরেন ট্রেডের অধ্যাপক আজা মোহাম্মদ হেজাজী সিহাটা, ভারতের বাঙালুরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক টিকাস জি ডি এবং অখিলেস কেবি, পর্টুগালের লিসবন সিটিতে ইন্সটিটিউট ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং অপারেশন এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক হেলিয়া গনকালভস পেরিরা, রাশিয়ার ফাইন্যান্সিয়াল ইউনিভার্সিটির উকসানা গুলিয়েভা, প্যারিসের পলো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফিলিপ কফরে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট যোসেফ ইউনিভার্সিটির এ জে স্ট্যাগলিয়ানো, চীনের হারবিন সিটিতে অবস্থিত হারবিন ইন্টটিটিউট অব টেকনোলজির ফানহাও হাও এবং তিয়েনা ওয়াং, যুক্তরাজ্যের ডুরহাম ইউনিভার্সিটির রোবার্ট ডিক্সন, পোলান্ডের ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সহযোগী অধ্যাপক এন্ড্রিজ প্যাকানা এবং টেডিউজ ওলেজার্জ, নিউইয়র্কের মেডগার এভার্স কলেজের মাইকেল ডি টাকের, ক্লার্ক আটলান্টা ইউনিভার্সিটির সিরিয়ামা কান্থি হেরাথ প্রমুখ।  


বিডি-প্রতিদিন/১৩ এপ্রিল, ২০১৭/মাহবুব


আপনার মন্তব্য