শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৯:৫৭
আপডেট : ১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৩:০৯
প্রিন্ট করুন printer

অবশেষে শিশুপুত্র হত্যার দায়মুক্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাশিদা

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে :

অবশেষে শিশুপুত্র হত্যার দায়মুক্ত হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাশিদা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২০ দিন বয়েসী পুত্রকে চতুর্থ তলার বাথরুমের জানাল দিয়ে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যার দায় থেকে অবশেষে রেহাই পেলেন বাংলাদেশি রাশিদা চৌধুরী (২৫)। জ্বীন অথবা ভুতের আছর পড়েছিল রাশিদার ওপর। ভুতের নির্দেশেই একমাত্র পুত্রকে বাইরে ছুড়ে মারে বলে গ্রেফতারের পর রাশিদা পুলিশকে জানায়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট ভোর রাতে নিউইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হিল এলাকায়। নীচে কংক্রিটের ওপর পড়ে দিয়ে সাথে সাথে মারা যায় শিশুটি। এসময় এক ধরনের শব্দে ওই এপার্টমেন্ট ভবনের একজন পুলিশকে খবর দেন। গ্রেফতারের পর রাশিদাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখে তদন্ত কর্মকর্তারা। 

প্রাথমিকভাবেই রাশিদাকে মানসিক রোগী/বিকারগ্রস্ত নারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়। এ বিবেচনায় রিকার আইল্যান্ড কারাগারের নির্জন কক্ষে আটকের সময় মাঝেমধ্যেই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সমাজ-সংগঠকরা তার সাথে সাক্ষাৎ করে নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। আদরের পুত্র রিদওয়ান আহমেদকে তিনি কেন হত্যায় প্রবৃত্ত হলেন সে প্রসঙ্গেও একাধিকবার কথা হয় তার সাথে। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত/মন্তব্য অবহিত হন তদন্ত কর্মকর্তারা। এক পর্যায়ে গত সপ্তাহে রাশিদাকে হত্যার দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন আদালত। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর মুখপাত্র ইকিমুলিসা লিভিঙ্গসটন গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। 
 
জানা গেছে, এখন তাকে আরো বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারপরই রাশিদার ইচ্ছা অনুয়ায়ী তার স্বামী মোহাম্মদ আহমেদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হতে পারে অথবা রাশিদার মা-বাবার দায়িত্বেও ছেড়ে দেয়া হতে পারে। 

বিডি-প্রতিদিন/১২ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২৬
প্রিন্ট করুন printer

হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ট্রাম্প প্রশাসনে বিদ্বেষের শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা

অনলাইন ডেস্ক

হোয়াইট হাউসে ফিরলেন ট্রাম্প প্রশাসনে বিদ্বেষের শিকার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমে টিকতে না পারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুমানা আহমেদ আবার হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। রুমানা ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার (ইউএসএজিম) রিভিউ প্যানেলের সাত সদস্যের অংশ হয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

রুমানা হিজাব পরায় ট্রাম্পের লোকজনের কাছে প্রায়ই অপদস্ত হতেন। তাকে কেউই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারত না। ২০১৭ সালে পদত্যাগের নেপথ্য এই কারণগুলো জানিয়ে দ্য আটলান্টিকে একটি কলাম লেখেন রুমানা। ওই লেখা প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়।

রুমানা জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনে যোগ দেন। ওবামার আমলে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কাজ করতে থাকেন। রুমানা তার সেই আলোচিত কলামে জানান, ওবামা ক্ষমতা ছাড়লে হোয়াইট হাউসে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। সপ্তাহ পার হতে না হতে তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

তিনি বলেন, আমার কাজ ছিল দেশের সেবা করা। ওয়েস্ট উইংয়ে আমি ছিলাম একমাত্র হিজাবী। ওবামা প্রশাসন সব সময় আমাকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্য মুসলিমদের মতো ২০১৬ সালে আমিও ট্রাম্পের কাজকর্ম দেখতে থাকি। আমি ভেবেছিলাম, দেশের জন্য তার প্রশাসনে আমার থাকা উচিত। আমি আটটা দিন টিকতে পেরেছিলাম।

রুমানা বলেন, ট্রাম্প যখন সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, তখনই বুঝে যাই আমার আর সময় নেই। ভাবতে থাকি, এমন একটা প্রশাসনে কাজ করি, যারা আমাকে অধীনস্ত নাগরিক মনে করে, হুমকি হিসেবে দেখে।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২৬
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:৪৬
প্রিন্ট করুন printer

সৌদিতে ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরব প্রতিনিধি

সৌদিতে ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সৌদি আরবের তায়েফে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে মারা গেছেন তিন বাংলাদেশি। মঙ্গলবার একটি পানির ট্যাংকের ভেতরে পরিষ্কার করতে গিয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান তারা। 

মৃতদের লাশ স্থানীয় তায়েফ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মৃত তিন বাংলাদেশি হলেন, মুহাম্মদ লিটন, মো. ফয়সাল ও মেহেদী। তাদের মধ্যে ফয়সাল ও মেহেদীর বাড়ি চাঁদপুর এবং মুহাম্মদ লিটনের বাড়ি কুমিল্লায়।

জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী সৌদি আরবের আইনি প্রক্রিয়া শেশে তাদের লাশ দেশে প্রেরণ অথবা স্থানীয়ভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪০
প্রিন্ট করুন printer

নিউইয়র্কে বাংলা ভাষায় আরও এক পত্রিকা 'দেশ'

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি:

নিউইয়র্কে বাংলা ভাষায় আরও এক পত্রিকা 'দেশ'

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই নিউইয়র্ক থেকে বাংলা ভাষার আরও একটি পত্রিকা বের হচ্ছে। 'ঠিকানা' পত্রিকার বিদায়ী বার্তা সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের সম্পাদনায় 'দেশ' নামক এই পত্রিকাটি ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের বুধবার (২৭ জানুয়ারী) থেকে প্রকাশিত হবে বলে জানান পত্রিকাটির প্রকাশক মঞ্জুর হুসেন। 

জানা গেছে, আগামী ২৮ জানুয়ারি থেকে ঠিকানা ছেড়ে দেয়ার আগাম নোটিশ দিয়েই মিজান নতুন এই পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং 'ঠিকানা' কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও দিয়েছেন তিনি। 

২৫ বছরের অধিক সময় 'ঠিকানা' পত্রিকায় ভাইস প্রেসিডেন্ট (অর্থ/বিজ্ঞাপণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের শেষ দিন সেখান থেকে বিদায় নেন মঞ্জুর হুসেন। নতুন এ পত্রিকার অফিস খোলা হয়েছে জ্যাকসন হাইটসে। দ্রুতই এই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের নামও ঘোষণা করার কথা জানান মঞ্জুর। 

তিনি বলেন, কারও সাথে প্রতিযোগিতা নয়, দলবাজিও নয়, সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গিকারে আমরা বাজারে আসছি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রবাসীরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এটিও অন্যসব পত্রিকার মত বিনামূল্যেই বিতরণ করা হবে। 

উল্লেখ্য, করোনা মহামারিতে লকডাউনে যাবার আগে নিউইয়র্ক থেকে বাংলা ভাষায় ১৬টি পত্রিকা প্রকাশিত হলেও এখন প্রকাশ পাচ্ছে মাত্র ৯টি। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, প্রথম আলো, সাপ্তাহিক ঠিকানা, সাপ্তাহিক বাঙালি, সাপ্তাহিক বাংলা, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, সাপ্তাহিক আজকাল, সাপ্তাহিক প্রবাস, সাপ্তাহিক জন্মভূমি, সাপ্তাহিক নবযুগ। তার সাথে যুক্ত হচ্ছে 'দেশ'। এছাড়াও আরও কয়েকটি শুধু অনলাইনে আপডেট করা হচ্ছে।

 

বিডী-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৩৯
প্রিন্ট করুন printer

হাইকমিশনারের সাথে সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের মতবিনিময়

সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি

হাইকমিশনারের সাথে সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের মতবিনিময়

সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার। সোমবার সিঙ্গাপুর বিজনেস 

চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) ম্যানেজিং কমিটির আমন্ত্রণে হাইকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি  প্রতিনিধি দল বিডিচ্যাম অফিস পরিদর্শনকালীন সময়ে সংগঠনের সদস্যদের পক্ষে চেম্বারের সভাপতি প্রফেসর এম এ রহিম ও সাধারণ সম্পাদক  মো. সাব্বির হাসান সাহান ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

চেম্বারের সভাপতি প্রফেসর ড. এম এ রহীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসান সাহানের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম, সিঙ্গাপুরে করোনার পরে এটাই প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের সকল নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয় এবং হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিজনেস চেম্বারকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়। 

সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনারকে বিজনেস চেম্বারের গঠনতন্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

হাইকমিশনার প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের দলীয় ও ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণে কাজ করতে বিডিচ্যামের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় হাই-কমিশনারের সাথে কাউন্সেলর এ.কে.এম. আজম চৌধুরী, কাউন্সেলর মোহাম্মদ আতাউর রহমান ও হেড অব চ্যান্সারি  মো. তৌফিক-উর-রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বিজনেস চেম্বারের পক্ষ থেকে বেশকিছু  কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে বিজনেস চেম্বারের সভাপতি প্রফেসর এম এ রাহীম বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজ করে চলেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা এবং জনশক্তি রফতানি ও কৃষি পণ্যসামগ্রী সিঙ্গাপুরের বাজারে প্রবেশ করানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। 

অনুষ্ঠানে আপ্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী শহীদুজ্জামান, বিজনেস চেম্বারের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি নাসারুল  ইসলাম মনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লা আমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ সায়েম, খোরসেদ আলম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, কোষাদক্ষ হাবিব উল্লাহ পাটোয়ারী, আজাহারুল ইসলাম, মো. শরিফুল ইসলাম প্রমুখ। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:০৮
প্রিন্ট করুন printer

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতির আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন

ড. মোস্তফা সারওয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতির আকাশ এখনও মেঘাচ্ছন্ন
ড. মোস্তফা সারওয়ার

২০২০ সালের ৩ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম স্বচ্ছ এবং কারচুপিহীন নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাইডেন ৭ মিলিয়নের বেশি নাগরিকদের ভোটে এবং বিপুল ব্যাবধানে ইলেকটরাল কলেজের ভোটে জয় লাভ করে। কংগ্রেসের দায়িত্ত্ব ছিল ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক গণনা। ঐদিন দুপুরে ট্রাম্প উত্তেজনাপূর্ণ ভাষণ দিল। দুমাস ধরে ট্রাম্প ভূয়া প্রচার এবং ৬ জানুয়ারির সন্ত্রাসী ভাষণে আমেরিকার বর্ণবাদী শেতাঙ্গদের ট্রাম্প এমনভাবে উত্তেজিত করেছিল যে এরা উন্মাদের মত গণতন্ত্রের তীর্থস্থান ক্যাপিটল হিল দখল করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ঘৃণ্য তাণ্ডবে মেতে উঠে। সংবিধান অনুযায়ী তখন চলছিল প্রেসিডেন্টশিয়াল নির্বাচনের ইলেকটরাল কলেজের ভোট গণনার কাজ। সন্ত্রাসীদের আক্রমণে গণনার কাজ পণ্ড হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টার জন্য। কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যায় নিরাপত্তা বাহিনী। অল্পের জন্য বেঁচে যায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং স্পীকার ন্যান্সি পেলোসিসহ অন্যান্য কংগ্রেস সদস্যবৃন্দ। নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দেবার পর কংগ্রেস পুনরায় গণনা কার্য সম্পন্ন করে। গভীর রাতে বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট এবং হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট  হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সৌভাগ্য, মানুষরুপী জঘন্য কীটের দল আমেরিকার চিরায়ত গণতন্ত্র ও পবিত্র সংবিধানের ক্ষতি করতে ব্যর্থ হয়। এখন চলছে বিচারের পালা। প্রায় দুই শতের কাছাকাছি দুষ্কৃতিকারী বর্ণবাদী গুণ্ডাদের বন্দী করা হোয়ছে। আমেরিকার দক্ষ আইন শৃংখলা বাহিনী দ্বারা বাকি বদমায়েশদের পাকড়াও করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

ক্যাপিটাল হিলের জঘন্য তাণ্ডবের মূল হোতা ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিশংসনের কাজ সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। ১৩ জানুয়ারি বিকেলে এই অভিশংসন পাশ হয়েছে – উভয় দলের ইতিবাচক ভোটে। ট্রাম্পই হল আমেরিকার ইতিহাসে দুইবার অভিশংসন প্রাপ্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বমোট চার বার অভিশংসন হয়েছে। এটাই প্রথম যখন উভয় দলের সমর্থন পেল।

ট্রাম্পের ক্ষমতা শেষ হয়েছে ২০ জানুয়ারি দুপুরের একটু আগে। ইমপিচমেন্টের ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে কলঙ্কের কালিমা লেপন করেছে। ইতিহাসের নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্প পরিগনিত হবে জন্ম জন্মান্তরে। ২০ জানুয়ারির পর নব নির্বাচিত সিনেটের মেজরিটি নেতা চার্লস শুমার ট্রাম্পের বিচারের ব্যবস্থা করতে পারবে যদিও ক্ষমতা থেকে তার মেয়াদ পূর্ণ করে হোআইট হাউস (White House) ছেড়েছে ট্রাম্প। কিন্তু সিনেট চাইলে তাকে রাজনীতি ও অন্যান্য নাগরিক অধিকার থেকেও চিরতরে অযোগ্য এবং বঞ্চিত করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস হবে বিচারক আর ১০০ জন সিনেটর হবে জুরি। দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৭ জন সিনেটর অভিযোগের পক্ষে ভোটদান করলেই প্রেসিডেন্টের অপরাধ প্রমাণিত হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরদের ভোট। এর পর সিনেট ইচ্ছে করলে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৫১ ভোটে দোষী প্রেসিডেন্টকে চিরতরে অযোগ্য করতে পারবে যে কোন সরকারী পদ, সম্মান, ট্রাস্ট অথবা লাভজনক প্রতিষ্ঠানের পদ থেকে।

উপরোক্ত পটভূমিতে বিতর্ক হলঃ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ট্রাম্পের উপর অপসারণ কার্যকর নয়, অতএব বিচারের আর কি প্রয়োজন রয়েছে? তার চেয়ে বরং ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে বিচার কার্য খারিজ করে দিলে ট্রাম্পকে ভোট দানকারী ৭৪ মিলিয়ন লোক খুশি হয়ে যাবে। জাতীয় ঐক্য কায়েম হবে। এর বিপক্ষে যুক্তি হল ঘৃণ্য দেশদ্রোহীদের গণতন্ত্রের পীঠস্থান ক্যাপিটল হিল আক্রমণের বিচার হতেই হবে। যেখানে একজন পুলিশ অফিসারসহ পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই জঘন্য অপরাধের কলকাঠি যে নাড়িয়েছে সেই গডফাদার ট্রাম্পের বিচার না হলে, ভবিষ্যতের ফ্যাসিবাদী একনায়কদের উৎসাহিত করা হবে এবং তাদের হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং এর গণতন্ত্রের বিধানকে রক্ষা করা যাবে না। তাই প্রথমে বিচার এবং পরে ঐক্য। প্রশ্ন হল ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন পাওয়া যাবে কিনা।

রিপাবলিকান সিনেটরদের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চলমান ঘটনা প্রবাহের উপর। (১) ৬ই জানুয়ারির পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি রিপাবিলকানদের সমর্থনে ধস নেমেছে। দল নিরপেক্ষ পিউ (Pew) রিসার্চ সেন্টারের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত পোলিং অনুযায়ী যা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬৮। ৬ জানুয়ারির আগে ছিল ৯০ এর দশকে। মাত্র কয়েক দিনে এই ধস নিদারুণ নিম্নগামী। সব মিলিয়ে মাত্র শতকরা ২৯ জন আমেরিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ত্ব পালনের অনুমোদন করে। একই সময়ে অন্যান্য জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের ফলাফল কিছুটা ভিন্নতর। যেমন গ্যালপ (Gallup) এবং সিএনএন/এসএসআরএস (CNN/SSRS) উভয়ের জরিপে শতকরা ৩৪। সাধারণতঃ বিদায়ী প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বেড়ে যায়। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক বিপরীত। বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে ট্রাম্পের সমর্থন আরও নিম্নগামী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি তাই ঘটে তখন রিপাবলিকান সিনেটররা নিজেদের স্বার্থেই ট্রাম্পকে পরিত্যাগ করতে পারে। (২) ক্যাপিটল হিলে আক্রমণ নিয়ে চলছে গভীর তদন্ত। এফবিআই সহ তদন্তকারী সংস্থাগুল ট্রাম্পের টুইট, রি-টুইট, ফোনালাপ, এবং অন্যান্য নিদর্শন খুব যত্ন সহকারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করছে। এতে যদি অভ্যুত্থানে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার আরও ক্ষতিকর এবং উত্তেজনাকর তথ্য বেরিয়ে পড়ে তাহলে মেকনালপন্থী সিনেটররা ট্রাম্পের বিপক্ষে চলে যেতে পারে। এর সংখ্যা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

১৯ জানুয়ারি দুইটি ঘটনা ঘটেছে যার গুরুত্ব ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে পারে আগামী কয়েক বছর। একটি হল বিদায়ী সিনেটের শেষ দিনে মেকনালের বক্তৃতা। যাতে ইঙ্গিত রয়েছে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের বিচারে মেকনালের সমর্থন। মেকনাল বলেছে, “হাঙ্গামাকারী জনতাকে মিথ্যা হজম করানো হয়েছে। তাদের উত্তেজিত করেছে প্রেসিডেন্ট সহ অন্যান্য শক্তিধর ব্যাক্তিবর্গ। এবং তারা চেষ্টা করেছিল ভীতি প্রদর্শন ও হিংস্রতার মাধ্যমে বন্ধ করবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম শাখার একটি বিশেষ পদ্বতি (অর্থাৎ ইলেকটরাল কলেজের ভোট গণনার কাজ) যা ছিল তাদের অপছন্দ। কিন্তু আমরা গুরুত্ত্ব দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছি। “ এর আগে আমরা শুনিনি ট্রাম্পের বিপক্ষে এমনি কঠিন বক্তব্য মেকনালের কন্ঠে।মনে হচ্ছে বরফ গলা শুরু হয়েছে তীব্র বেগে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সী শেষ হওয়ার একদিন আগে ১৯ জানুয়ারি সে আভাস দিয়েছে নতুন দল গঠন করার। দলের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। নাম হবে “দেশপ্রেমিক দল” অথবা Patriot Party। অদৃষ্টের পরিহাস, ক্যাপিটল হিলে ব্যর্থ অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণকারী দেশদ্রোহিরা হয়ত হবে তথাকথিত  “দেশপ্রেমিক দল” এর তৃণমূল কর্মী ।

নতুন প্রেসিডেন্ট বাইডেন ২০ জানুয়ারির শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের ভাষণে বলেছেন, “আমরা এই অসভ্য সংঘাতের সমাপ্তি করবই।“ আরও বলেছেন, “সবার ঐক্যে আমরা মহান কাজ করতে পারি। “কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি বিপরীত ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার প্রবাহ যে দিকেই ধাবিত হোক না কেন, যুক্তরাষ্টের রাজনৈতিক আকাশ এখনও মেঘাছন্ন। সবাই অপেক্ষা করছে স্বচ্ছ নীলাকাশের অধির প্রত্যাশায়।

লেখক: এমেরিটাস অধ্যাপক এবং প্রাক্তন উপ-উপাচার্য -ইউনিভার্সিটি অব নিউ অরলিয়েন্স, ডীন এবং প্রাক্তন  উপাচার্য-ডেলগাডো কমিউনিটি কলেজ, কমিশনার-রিজিওনাল ট্রানজিট অথরিটি, বিজ্ঞানী ও কবি।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর