শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৪

তহবিলেও শীর্ষে কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে:

তহবিলেও শীর্ষে কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া

মার্কিন রাজনীতিতে সবচেয়ে কম বয়সী কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজ বলেছেন, এটা আজ প্রমাণিত সত্য যে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার ঘটনাটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় ছিল। সামনের নির্বাচনে এর পরিবর্তন ঘটিয়ে আমেরিকার নীতি-নৈতিকতাকে সমুন্নত রাখার পথ সুগম করতে হবে। এজন্যে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেমক্র্যাট-প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করতে হবে।  

রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জুইশ সেন্টারে ‘করটেজের সাথে মনোরম একটি সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জ্যাকসন হাইটস এলাকা নিয়ে গঠিত কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে গত নির্বাচনে জয়ী করটেজের পুননির্বাচনেও সোচ্চার থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেন সবাই। 

কংগ্রেসনাল বাংলাদেশ ককাসে যোগদানকারী করটেজের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন কমিউনিটির পরিচিত বাংলাদেশী-আমেরিকান অ্যাটর্নি সোমা সাঈদ এবং তার স্বামী মিজান চৌধুরী ও কমিউনিটি এ্যাক্টিভিস্ট ডোনি হোয়াইটহেড ও যো-এ্যান হোয়াইটহেড দম্পতি। 

অনুষ্ঠানের নির্দ্ধারিত সময়ের ঘণ্টা দেড়েক আগেই অডিটরিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ হয়। ২০১৮ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের আগের আমেজ এখনও সরব রয়েছে কনিষ্ঠতম এই কংগ্রেসওম্যানের সমর্থকদের মধ্যে। এরসাথে রয়েছেন নতুন প্রজন্মের প্রবাসীরাও। অভিবাসী সমাজের মৌলিক সমস্যা বিশেষ করে ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা এবং চিকিৎসা-সেবা, গৃহায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন করটেজ। শেষে তিনি প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন। 

গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনার আয়োজকদের মধ্যে আরো ছিলেন মাজেদা এ উদ্দিন, ফাহাদ সোলায়মান, রাসেল কবির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের প্রেসিডেন্ট খোরশেদ খন্দকার। ব্যক্তিগতভাবে খোরশেদ খন্দকার করটেজের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করেন। 

এদিকে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পুননির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের অভিযানে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন করটেজ। এমনকি হাউজের স্পিকার ন্যান্সী পেলসীর চেয়েও তার অর্থের পরিমাণ বেশী। জুলাইয়ের ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগৃহীত হয়েছে ১.৪২ মিলিয়ন ডলার। 

অপরদিকে, ন্যান্সী পেলসীর অর্থের পরিমাণ হচ্ছে ১.১৪৫ মিলিয়ন ডলার। করটেজের তহবিলের বড় একটি অংশ এসেছে দুই শত ডলার করে প্রদানকারিদের কাছে থেকে। খেঁটে খাওয়া মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার করটেজকে স্বল্প আয়ের লোকজন এবারও তহবিল দিচ্ছেন লাগাতারভাবে। অর্থাৎ কর্পোরেটগুলোর চাঁদার ধার তিনি ধারছেন না। 

নিবাচনী তহবিলের মধ্য দিয়েই একজন প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্দ্ধারিত হয়। সে আলোকে আসছে জুনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে যারাই করটেজের সাথে মাঠে থাকবেন, তাদের পরাজিত করা খুব কঠিন হবে বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূলের কানেকশনে করটেজের বিজয় নিশ্চিত হবে। 

রাজনৈতিক কন্সালট্যান্ট জজং আরটজ বলেছেন, এটি একটি বিরল ঘটনা। নতুন একজন কংগ্রেসওম্যানের প্রথম বছরেই এত বিপুল অর্থ সংগৃহীত হবার মধ্য দিয়েই করটেজের জনপ্রিয়তা উদ্ভাসিত হচ্ছে। সোস্যালিস্ট হিসেবে পরিচিত করটেজের প্রতি শুধু তার নির্বাচনী এলাকার মানুষই আকৃষ্ট নন, গোটা আমেরিকার খেঁটে খাওয়া মানুষের দৃষ্টি কাড়তেও তিনি সক্ষম হয়েছেন। 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর