শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ আগস্ট, ২০২০ ১১:৫২
আপডেট : ৭ আগস্ট, ২০২০ ১২:৪৫

মিশিগানে ডেমক্র্যাট প্রাইমারিতে যে কারণে হারলেন বাংলাদেশিরা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

মিশিগানে ডেমক্র্যাট প্রাইমারিতে যে কারণে হারলেন বাংলাদেশিরা
সাহাব-কামরুল

গত মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) মিশিগানে অনুষ্ঠিত ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলেন দুই বাংলাদেশি আমেরিকান। ডিস্ট্রিক্ট -৪ থেকে রিপ্রেজেনটেটিভ পদে হ্যামট্রামেক সিটির সাবেক ডেপুটি মেয়র সাহাব আহমেদ আরও ১১ জনের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। 

ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনার আগে কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানকারিদের হিসাবে এগিয়ে আছেন ইয়েমেনি আমেরিকান ইব্রাহিম আয়াস। যার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৪১৮০ এবং মোট ভোটের ৩৪.১%। অপরদিকে, সাহাব আহমেদ পেয়েছেন ৭০১ ভোট এবং যা কিনা মোট ভোটের ৫.৭%। যদিও ইব্রাহিম আয়াসকে এখন পর্যন্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়নি তবুও মনে হচ্ছে তিনিই হবেন প্রাইমারীতে বিজয়ী। জানা গেছে, মোট ভোটের ৯৩% হিসাব করা হয়েছে। বাকী ৭% ভোট যদি বাংলাদেশী  প্রার্থীর পক্ষেও চলে আসে তাহলেও সাহাব আহমেদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। 

মিশিগানের সাংবাদিক আশিক রহমান জানিয়েছেন, আরেক বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ কামরুল হাসান ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হবার জন্যে মাঠে নেমেছিলেন ডিস্ট্রিক্ট-৩ ওয়েইন কাউন্টি কমিশনার পদে। এই পদে মাত্র ২ জন প্রার্থী ছিলেন। মোহাম্মদ কামরুল হাসান পেয়েছেন ৩৪৮১ অর্থাৎ মোট গৃহিত ভোটের ২৪.৪%। অপর প্রার্থী মার্থা জি স্কাট পেয়েছেন ১০৭৬১ ভোট অর্থাৎ গৃহিত ভোটের ৭৫.৬%। এখন পর্যন্ত ৯৯% ভোট হিসাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, মাত্র ১% ভোট হিসাব করা হয়নি। এ অবস্থায় কামরুল হাসানও বিশাল ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। 

নির্বাচনে বাংলাদেশীদের প্রার্থীতা এবং হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশীদের সাথে কথা হয়। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাংলাদেশি সবাই এক হয়ে  কাজ করলে আমাদের জন্য ভাল হতো। হ্যামট্রামেক সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশী অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকই ভাল কাজ করেছেন। বিশেষ করে মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদে মাইক লাগিয়ে আযান দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং চলমান করোনা মহামারীতে অনেকেই কমিউনিটির সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন। 

অন্য আরেকজন বলেন, আমাদের যারা এই সব নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন তারা নিজেদের আধিপত্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। অনেকেই আবার আমাদের কমিউনিটিতে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেন। নির্বাচিত হয়ে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। কমিউনিটির কোন কাজে আসছে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। নির্বাচন আসলেই বলেন আমাদের কমিউনিটির স্বার্থে বাংলাদেশিদের নির্বাচিত করা দরকার। কিন্তু নির্বাচিত হলেই দেখা যায়, যেই লাউ সেই কদু। 

হ্যামট্রামেক সিটির সচেতন এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এক প্রার্থী যেভাবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গেছেন, দেখে মনে হয়েছিল সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে দেখি ঐ প্রার্থীর নামই নেই ব্যালট পেপারে। এভাবে কেউ কেউ বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখানোর মত তামশা করেছেন, যা খুবই লজ্জার। 


  
বিডি-প্রতিদিন/সিফাত আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর