শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:২৬

গান আর কথায় নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি-বনভোজন

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক

গান আর কথায় নিউইয়র্কে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি-বনভোজন

‘বাঁচাতে মায়ের মান,/দিয়ে গেছো নিজ প্রাণ/হয়ে গেছ ক্ষত-বিক্ষত। /নিশ্চিত মরণ জেনে/ দাওনি ক্ষান্ত রণে/করনিতো তাও মাথানত। /তোমারই বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। /হে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোমরা লও সালাম। /তোমাদের স্বপ্নে আমার স্বপ্ন আজ হয়ে গেছে সব একাকার,/অনুজের এ শপথ, ধরে তোমাদের পথ/ তাড়াবো নব্য রাজাকার। /হৃদয়ের গভীরে তোমাদের নাম রবে হাজার বছর ধরে অম্লান। /হে বীর মুক্তিযোদ্ধা তোমরা লও সালাম।’

বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া গেরিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন গানের মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা এবং নতুন প্রজন্মের মুজিব সেনারা প্রবাস প্রজন্মে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিস্মরণীয় ঘটনাবলি পৌঁছে দেয়ার প্রয়াস চালালেন। নিউইয়র্কে বসবাসরত তরুণ গীতিকার-সুরকার-কণ্ঠশিল্পী শামীম আক্তার শরিফ গানটি পরিবেশন করেন দরাজকণ্ঠে। একইসাথে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে চলা বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করার সংকল্পও ব্যক্ত করলেন একাত্তরের বীর সেনারা। 

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ’৭১-এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে ‘বনভোজন’র আড়ালে ২০ সেপ্টেম্বরর রবিবার মুক্তিযোদ্ধা-জনতার সম্প্রীতির এ মেলা বসেছিল নিউইয়র্ক সিটির থেকে ৫৮ মাইল দূর বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কে। সকালে আবহাওয়ায় কিছুটা বৈরী হয়েছিল হিমেল হাওয়ায়। তবে দুপুর গড়াতে গ্রীষ্মের উত্তাপে সবকিছু প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে উঠে সবুজ এ অরণ্যে। সেই আমেজে সকলে প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে হৃদয় উজার করে একাত্তরের স্মৃতিচারণ এবং বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য/মতামত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি চলে খাশী, ভেড়ার মাংস, মাসকলাইয়ের ডাল রান্না এবং মাছ ভাজার পালা। চিকেনের বারবিকিউ ছিল শিশু-কিশোর আর তরুণ-তরুণীদের আগ্রহের খাদ্য। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু অনুষ্ঠিত হলেও হৃদয়ের উষ্ণতা আর প্রাণের উচ্ছ্বাসে সকলের মধ্যেই ভিন্ন এক আমেজ পরিলক্ষিত হয়। তা ছিল করোনার কাছে নতজানু নয়, করোনা ভীতিকে জয় করতে হবে মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে। 

হোস্ট সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদের নেতৃত্বে চুলায় আগুন জ্বালিয়ে রান্না-বান্নায় সহযোগী ছিলেন কমিউনিটি লিডার ও ফোরামের যুব বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, নির্বাহী সদস্য শামীম আকতার শরিফ, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লাহ, তরুণ সংগঠক এ টি এম মাসুদ প্রমুখ। 

বনভোজন কেন্দ্রের সাথেই লেকে কেউ কেউ নৌকা ভ্রমণে যান। আবার কেউ সন্তানের সাথে ফুটবলে মেতে উঠেন। দুপুরের খাবার পরিবেশনে ছিল বৈচিত্র। রান্না করা খাবারের সাথে যোগ হয় ‘নেক্সট ড্রিম এলএলসি’ নামক একটি ব্যবসায়িক-পরামর্শ সেন্টারের সিইও নিলুফা শিরিনের বাসা থেকে আনা ফিরনী, লাউ চিংড়ি এবং মাহমুদা বাশারের ফ্লুটস-সালাদ। বনে আর ঘরে রান্না করা খাবার সকলে উপভোগ করেন তৃপ্ত সহকারে। করোনার কারণে উপস্থিতির সংখ্যা ৫০ জনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশ থাকায় ফোরামের অনেকে পরিবার-নিয়ে আসতে সক্ষম হননি। 

দিনভর ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের বিশেষ অতিথি ছিলেন বীরপ্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মঞ্জুর আহমেদ। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সকলকে অভিনন্দন জানান এবং করোনা ভীতি কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া বলেছেন, ‘ভয়কে জয় করতে হবে মানবিকতার জয়গানে। করোনাকে ধরাশায়ী করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি পরিপূর্ণভাবে মেনে চলে।’

আসছে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে অভিবাসীদের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী যো বাইডেনকে জয়ী করাসহ চলমান নানা ইস্যুতে মতবিনিময় করেন ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল বাশার চুন্নু ও ড. রফিক আহমেদ, সহ-সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হাজী জাফরউল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ ও বিশ্ববাংলা টোয়েন্টিফোর টিভির চেয়ারম্যান আলিম খান আকাশ, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদক উইলি নন্দী, যুব সম্পাদক  ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির সংগঠক ফাহাদ সোলায়মান, নির্বাহী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার প্রমুখ। 
অতিথির মধ্যে আরো ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব সালেহ শফিক গেন্দা, ফোরামের সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা মানিক, নুরুন্নাহার নিশা, মঞ্জুরুন্নেসা, মাহমুদা বাশার, আবুল বাশার ভ’ইয়া, জহিরুল ইসলাম ইরান প্রমুখ।  
চমৎকার এ আয়োজনে সহযোগিতাকারিগণের মধ্যে আরো ছিলেন ডা. প্রভাত দাস, জেবিবিএর সেক্রেটারি কামরুজ্জামান কামরুল, গোল্ডেন এইজ হোমকেয়ারের পার্থ গুপ্ত এবং আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব কাদের মিয়া প্রমুখ। 
নগদ অর্থ পুরষ্কারের ১৫টি লটারির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারি নারীদের জন্যে ছিল বিশেষ আয়োজন। নগদ ৩০০ ডলারের সেই পুরষ্কার জিতে নেন মাহমুদা বাশার। এটি স্পন্সর করেছিলেন মঞ্জুরুন্নেসা কাদের। সমাপনী বক্তব্যে ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ সকলকে ধন্যবাদ জানান আন্তরিক সহযোগিতার জন্যে। একইচেতনায় বছরের অপর কর্মসূচিগুলোতেও সহযোগিতা পাবেন বলে আশা পোষণ করেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর