শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৮:৩২
প্রিন্ট করুন printer

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে আলোচনার সময় বাড়ছে

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি :

চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে আলোচনার সময় বাড়ছে

ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি করতে আলোচনা আরো দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৃটেন ও ইইউ। রবিবার উভয়ের পক্ষের নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বিবিসি/গার্ডিয়ান/ডেইলি মেইল।

রবিবার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসূলা ভন দের লিয়েন ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধান না হওয়ায় দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আরো কিছু সময় অপেক্ষা করবেন।

তবে দুই নেতাই শেষে একমত হয়েছেন যে, এই আলোচনা ও দর কষাকষি আরো সময় নিয়ে শেষ করা উচিত। তবে তারা জানাননি ঠিক কতদিন সময় লাগবে। ডেডলাইন যেহেতু ৩১ ডিসেম্বর সেহেতু এরমধ্যেই এই আলোচনা শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অর্থাৎ, এর মধ্যেই বৃটেন ও ইইউ পার্লামেন্টে চুক্তি সংক্রান্ত ভোট আয়োজন করতে হবে। রবিবারের আলোচনা গঠনমূলক এবং প্রয়োজনীয় ছিল বলে জানিয়েছেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট। তবে বরিস জনসন বরাবরের মতই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

ইইউ বলছে, ইউনিয়নের পণ্য নীতি, শ্রমিক অধিকার ও ব্যবসায়িক ভর্তুকি না মেনে একক বাজারে ব্রিটেনের শুল্কমুক্ত প্রবেশের দাবী অন্যায্য সুবিধারই শামিল। আবার ইইউ ব্রিটেনের সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক মৎস্য শিকারের অধিকারের দাবী জানিয়ে বলেছে, এটি না হলে ব্রিটেনের মৎস্য ব্যবসায়ীরাও ইইউ’র বাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে বিশেষ সুবিধা পাবে না। অন্যদিকে নিজেদের সমুদ্রসীমায় ইইউ’র প্রবেশের দাবীকে সার্বভৌমত্বে আঘাত বলে মনে করছে ব্রিটেন।

আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণার পর ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, ইইউ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ব্রিটেনের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করলে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে ইউরোপিয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বলেন, যে কোনো চুক্তি হলে সেটি অবশ্যই ইইউ’র একক বাজারের নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হতে হবে।

তবে ব্রিটেন ইতোমধ্যেই চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের পূর্বপ্রস্তুতির আগাম পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সমুদ্রসীমায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজকীয় নৌ-বহর মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মার্চ থেকে সীমান্তে ১ হাজার ১০০ জন বাড়তি কাস্টম ও ইমিগ্রেশন অফিসার মোতায়েন করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির সর্বত্র জরুরী ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য ৩ হাজারের বেশি লরি ঠিক করা হবে। ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেয়ার জন্য ২০টি টেলিফোন সেবা সার্ভিস থাকবে। ইতোমধ্যেই ব্রিটেনের সুপারমার্কেটগুলো পণ্য গুদামজাতকরণ করতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি ইইউ ছেড়ে বেরিয়ে যায় ব্রিটেন। তবে এক বছরের অন্তবর্তীকালীন সময়সীমা রয়েছে। এখন অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি চলছে। ব্রিটেন ইইউ’র একক বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের দাবী করছে। উভয় নেতা আলোচনায় প্রধান কিছু সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন। রবিবারই ছিল এই আলোচনার নির্ধারিত শেষ দিন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর