শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:২৬
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:১২
প্রিন্ট করুন printer

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

ডা. ওয়াজেদ খান

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনের অবসান ঘটছে। ব্যর্থ হয়েছে ক্যাপিটল হিল দখলে নেওয়ার ট্রাম্পের ভয়ানক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা। সূচিত হয়েছে গণতন্ত্রের বিজয়। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অভিষিক্ত হবেন ২০ জানুয়ারি, বুধবার। 

বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন ৫৯তম এ অভিষেকের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ গ্রহণ করছেন ২০ জানুয়ারি দুপুরে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলের পশ্চিম চত্বরে অনুষ্ঠেয় অভিষেকে পরবর্তী চার বছর দায়িত্ব পালনের জন্য নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ৩৫ শব্দের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। 

সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম ধারার ৮ উপধারায় শপথবাক্যের বিষয়বস্তু সন্নিবেশিত আছে। বাইবেলের ওপর বাঁ হাত রেখে ডান হাত উঁচিয়ে শপথবাক্য পাঠ করার রীতি চলছে ২৩২ বছর ধরে। মাত্র এক মিনিটের এ শপথ অনুষ্ঠানের জন্য এত বিশাল আয়োজনের রেকর্ড পৃথিবীর কোথাও নেই। 

গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিপুল বিজয়ের ৭৯ দিন পর অনুষ্ঠেয় ঐতিহ্যবাহী এ অভিষেকে থাকবে প্রেসিডেন্টের ভাষণ, প্যারেডসহ উৎসব আয়োজন। মঞ্চে একসঙ্গে ১ হাজার ৬০০ অতিথির আসন গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। 

এর মধ্যে সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, সব রাজ্যের গভর্নর ও অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ আসন। মহামারী করোনায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট সংকটের মধ্যে এবারের অভিষেক হবে অনেকটাই অনাড়ম্বর। প্রথা অনুযায়ী অভিষেক অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি ২০ হাজার  অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। 

সিনেট ও হাউস প্রতিনিধিদের নির্বাচনী এলাকার জন্য বিতরণ করা হয় ২ লাখ আমন্ত্রণপত্র। এ ছাড়া উন্মুক্ত ময়দানে দাঁড়িয়ে লাখ লাখ মানুষ উপভোগ করে অভিষেকের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এবার থাকছে না তেমন আয়োজন। শুধু ১১৭তম কংগ্রেসের সদস্য ও তাদের প্রত্যেকের পছন্দনীয় একজন অতিথি অংশ নিতে পারবেন অনুষ্ঠানে। অতিথিদের জন্য মাস্ক পরিধান, কভিড টেস্ট থাকছে বাধ্যকতামূলক। 

এবারের অভিষেককে কেন্দ্র করে ক্যাপিটল হিল এলাকাসহ গোটা ওয়াশিংটন ডিসি ঢেকে ফেলা হচ্ছে নিরাপত্তার চাদরে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বাহিনী নিশ্চিত করছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। অভিষেক সফল করতে গঠিত কমিটি কাজ করছে রাত-দিন। মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে।

জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের দিন ২০ জানুয়ারি কী হতে চলছে, এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ট্রাম্প সমর্থকদের ক্যাপিটল হিলে নজিরবিহীন হামলা চালানোর পর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আমেরিকা। জো বাইডেনের শপথে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সশস্ত্র সমর্থকরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। 

কোনোরকম অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য ওয়াশিংটন ডিসিসহ ১২ রাজ্যে জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। রাজধানী ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলকে মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে। মোতায়েন করা হয়েছে ২০ হাজার ন্যাশনাল গার্ড। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটনে জারি হয়েছে পর্যটন নিষেধাজ্ঞা। জো বাইডেনের শপথ সামনে রেখে ট্রাম্পের উগ্র সমথর্করা ব্যাপক পরিকল্পনা করছে ৫০ অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ও ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে জড়ো হওয়ার। 

ক্রমবর্ধমান হামলার আশঙ্কা ও অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো সত্ত্বেও বাইডেনের উদ্বোধনী কমিটি রাজনৈতিক ও জনস্বাস্থ্য সংকটের সময়ে বিভক্ত জাতিকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাইডেন নিজে খোলা জায়গায় উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এবারের শপথের থিম হলো ‘আমেরিকা ইউনাইটেড’। 

বাইডেন আমেরিকার তিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল কিনটন, জর্জ ডবিউ বুশ ও বারাক ওবামার সঙ্গে আর্লিংটন জাতীয় সমাধি পরিদর্শন করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৭টি বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওয়াশিংটনে নিয়োজিত করা হচ্ছে নিরাপত্তা রক্ষায়। সিনিয়র এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিরাপত্তা পরিস্থিতিটিকে অভিহিত করেছেন ‘নজিরবিহীন’ বলে।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে অভিষেকে অংশ নিচ্ছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। শপথ গ্রহণের পর জো বাইডেন হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। এদিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ৬১ দিন। অন্যদিকে জন এফ কেনেডির পর দ্বিতীয় ক্যাথলিক প্রেসিডেন্ট হবেন জো বাইডেন। অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিবাদন গ্রহণ করবেন বর্ণাঢ্য প্যারেডের। সশস্ত্র বাহিনীর সব বিভাগের সম্মিলিত প্যারেড তাঁদের নিয়ে যাবে হোয়াইট হাউসে। 

প্রেসিডেনশিয়াল প্যারেড হবে অপরাহ্ণ আড়াইটায় পেনসিলভেনিয়া এভিনিউতে তৃতীয় এবং ১৭ স্ট্রিটের মাঝে। অভিষেকে ব্যয় হবে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলার। ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন স্ত্রী জিল বাইডেনকে নিয়ে ওঠবেন হোয়াইট হাউসে। অভিষেকের আগেই জো বাইডেন চূড়ান্ত করেছেন তাঁর ক্যাবিনেটের সদস্যদের নিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জো বাইডেনের স্বাগত ভাষণ শুনতে। ২১ জানুয়ারির ঊষালগ্নে শুরু হবে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনকাল। 

স্মরণকালের ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা ও অস্থিরতার মধ্যে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিশ্ববাসী। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের আগে শপথ গ্রহণ সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ১৭৮৯-এর ৩০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন জর্জ ওয়াশিংটন। 

এরপর থেকে প্রথা অনুযায়ী চলে আসছে অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা। প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভ্যানবুরা থেকে জিমি কার্টার পর্যন্ত অভিষেক অনুষ্ঠিত হয় ক্যাপিটল হিলের পূর্বাঙ্গনে। ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন ক্যাপিটল হিলের পশ্চিম চত্বরে।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর