শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ মার্চ, ২০২১ ১৩:১১
প্রিন্ট করুন printer

‘শাহীন রেজা নূরের প্রয়াণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আগামী প্রজন্ম’

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

‘শাহীন রেজা নূরের প্রয়াণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আগামী প্রজন্ম’

অসাধারণ প্রতিভাবান এবং নির্ভীক দেশপ্রেমিক সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর চলে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আগামী প্রজন্ম। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান, প্রজন্ম ৭১ এর সাবেক সভাপতি, সাংবাদিক শাহিন রেজা নূর-এর মৃত্যুতে ২৮ফেব্রুয়ারি ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বিশিষ্টজনেরা এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু  পরিষদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের উদ্যোগে এ শোক সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের ছোট ভাই ফাহিম রেজা নূর।

সভায় অংশ নিয়েছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ডা. সাদিয়া ফয়জুননেসা, কানাডার টরেন্টোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল নাইম উদ্দীন আহমেদ, শাহীন রেজা নূরের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামীম রেজা নূর, ছোট ভাই সেলিম রেজা নূর ও তৌহিদ রেজা নূর প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ডঃ নুরুন নবী বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে শাহীন রেজা নূরের অবদান অপরিসীম। তিনি তার কথা আর লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত করার চেষ্টা করে গেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং দেশপ্রেম আমাকে অভিভূত করেছে।

নিউইয়কের কনসাল জেনারেল ডা. সাদিয়া বলেন, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর অকালেই চলে গেলেন, একাত্তরের ঘাতকদের বিরুদ্ধে আমি তার যে দৃপ্ত পদক্ষেপ দেখেছি, সেই পদক্ষেপকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। উনি প্রজন্ম '৭১ এর সভাপতি থাকাকালীন পোস্টারে ছাপিয়েছিলেন "তোমাদের যা বলার ছিল, বলছে কি তা বাংলাদেশ ?" যা স্বাধীনতার পক্ষের সকলের বুকে ছুরির মত বিদ্ধ হয়েছিল, সবাইকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা  স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শাহীন রেজা নূরের প্রত্যয় ছিল বাংলাদেশ যেন ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক বা রাজাকারদের দেশে পরিণত না হয়।

কনসাল জেনারেল নাইম উদ্দীন আহমেদ বলেন, শাহীন রেজা নূর আমাদের মাঝে আর নেই, কিন্তু আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমর্থন করি, আমরা যদি দেশকে বঙ্গবন্ধুকন্যা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা সমর্থন করি, তাহলেই শাহীন রেজা নূরের আত্মার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হবে।

শোক সভায় বক্তব্য রাখেন মরহুমের ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামীম রেজা নূর, ফাহিম রেজা নূর, সেলিম রেজা নূর ও তৌহিদ রেজা নূর। তারা বলেন, আমাদের ভাই শাহীন রেজা নূর স্বেচ্ছায় আমাদের বাবা শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের সাংবাদিকতার পথ বেঁচে নিয়েছিলেন দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করার জন্য এবং তার মেধা, তার স্পৃহা এবং তার সুপরিকল্পনায় আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে জীবন আমাদেরকে যেভাবে প্রতারিত করেছিল, আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে জীবন আমাদেরকে আবার প্রতারিত করল। শাহীন ভাই চলে যাওয়াতে আমাদের পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হবার নয়। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শাহীন ভাইকে দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য।

শোকসভায় অন্যান্যদের মাঝে আরো বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফ, অস্টে্িরলয়া থেকে কামরুল হাসান, কানাডা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদ রহমান ও তাজুল মোহাম্মদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স থেকে ড. মুস্তফা সারোয়ার, বস্টন থেকে ড. বামন দাস বসু, জর্জিয়া থেকে সাংবাদিক রুমি কবির, ফ্লোরিডা থেকে সাংবাদিক শামীম আল আমিন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাহমিনা শহীদ, কামাল হোসেন মিঠু, আলমগীর ভুঁইয়া প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর