শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০২১ ২০:২৭
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২১ ২০:৩৭
প্রিন্ট করুন printer

প্রিয়জনহীন প্রবাসের ঈদ...

রনি মোহাম্মদ

প্রিয়জনহীন প্রবাসের ঈদ...
Google News

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কোটি প্রবাসী, যাদের রেমিট্যান্সের টাকায় আমাদের দেশের অর্থনীতি রয়েছে সচল। পৃথিবীর অনেক দেশের প্রবাসীরা ঈদের দিনেও কাজ করে থাকেন এটাই বাস্তবতা। বিশেষ করে ইউরোপের অনেক দেশেই ঈদের দিন ছুটি বলতে কিছু নেই।

একজন প্রবাসী হিসেবেই নিজের কথাই বলছি, ভিন দেশে পরিবারের, এমনকি শিশুদের ঈদের দিনে নতুন পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া, নামাজ শেষে তাদের ছোটাছুটি আর দেখার সুযোগ হয় না। হয়ে ওঠে না পরিবারের বড়দের সাথে বাজারে গিয়ে কোরবানির গরু কেনার আনন্দময় সেই সময়।

আসলে আমাদের মতো ‘হতভাগা’ প্রবাসীদের ঈদ বলতে কিছু নেই। তারপরেও দেশের মানুষ পরিবার-পরিজনদের একটু খুশি দেখতে এই ত্যাগ আমাদের। মঙ্গলবার প্রবাসের মাঝে আরেকটি ঈদ করলাম বুকে চরম ব্যথা নিয়ে, যে ব্যথা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকার ব্যথা। নিজের অজান্তেই কেন জানি চোখ থেকে পানি বের হয়ে গেছে আজ।

কারণ, এখানে যে আমি একা, কেউ নেই আমায় দেখার। ঈদের নামাজ শেষে আমার মতোই কিছু প্রবাসীর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা, অতঃপর কাজের উদ্দেশ্যে আবারো ছুটে চলা!!! প্রতি দিনের মতই ঈদের দিনও ছিল সেই কাজের ব্যস্ততা। দেশের কথা ভাবলেই শুরু হয় অজানা ব্যথা, যা বলা কিংবা প্রকাশ করা যায় না।

কর্ম ব্যস্ততায় ডুবে থাকতে হবে প্রবাসের ঈদের দিনটিতে। তবে ডিজিটাল যুগে মোবাইলে ভিডিও কলে ক্ষণিকের জন্য মা, বাবা, ভাই ও বোনসহ পরিবার-পরিজনদের সাথে কিছুক্ষণের জন্য ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মাঝে শেষ হয় আমার মতো প্রবাসীদের ঈদের আনুষ্ঠানিকতা।

আমরা যারা প্রবাসী, সকলেরই হৃদয়ে যতদিন স্পন্দন থাকবে ততদিন পর্যন্ত পরিবারের একটু সুখের জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত অবিরাম যন্ত্র মানবের মতই প্রবাসে কাজ করে যেতে হবে এটাই বাস্তবতা। কথাগুলো একান্তই আমার, কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন।

লেখখ : পর্তুগাল প্রবাসী ও ফ্রিল্যান্সার লেখক। 

এই বিভাগের আরও খবর