২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২০:০৯

বন্যায় নিউইয়র্ক সিটিতে নিহত ৮, নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

বন্যায় নিউইয়র্ক সিটিতে নিহত ৮, নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা

শক্তিশালী হারিকেন আইডার আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপূর্ব উপকূলীয় অ নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া ও কানেকটিকাটে আচমকা বন্যা ও টর্নেডো দেখা দেয়। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার ২ সেপ্টেম্বর হারিকেন আইডার আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত লুইজিয়ানা রাজ্য সফর করবেন বলে হোয়াইট হাউস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এর আগে আইডা নিয়ে নিজ প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

অপরদিকে, সর্বশেষ খবর পর্যন্ত শক্তিশালী এ ঝড় ও আচমকা বন্যায় নিউইয়র্ক সিটি ও নিউজার্সিতে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানির খবর দিয়েছে সিটি প্রশাসন। সেইসঙ্গে হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় নিউইয়র্ক সিটির পাতাল রেলপথ পানিতে তলিয়ে ছিল বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে দু’লাখের অধিক বাড়ি-অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বহু বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায়।

উল্লেখ্য, হারিকেন আইডা লুইজিয়ানা রাজ্যে আছড়ে পড়ে রবিবার। এতে সেখানকার অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ। হারিকেনের প্রভাবে সৃষ্ট টর্নেডোয় নিউজার্সির গ্লুচেষ্টার কাউন্টিতে বহু বাড়িঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের প্যাসেইক সিটির মেয়র হেক্টর লরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সেখানে আকস্মিক বন্যার তোড়ে ভেসে নিয়ে অন্তত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সত্তরোর্ধ্ব ওই ব্যক্তিকে বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া তার গাড়ির ভেতর থেকে আরও দুই ব্যক্তিসহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে অন্তত এক মাস লেগে যেতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। 

হারিকেন পরবর্তী প্রতিকূল আবহাওয়ায় আটলান্টিক সিটি রেল লাইন সার্ভিস ছাড়া নিউজার্সিতে সব ধরনের ট্রানজিট রেল সার্ভিস সেবা স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্যটিতে বুধবার রাতে হারিকেনের প্রভাবে বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এনওয়াই ট্রানজিট সার্ভিস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক পোস্টে একথা জানিয়েছে।

এদিকে, হারিকেন আইডার প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে অন্তত ১৭৩ মিলিমিটার (৬.৮ ইঞ্চি পরিমাণ) বৃষ্টিপাত হয়েছে। আচমকা এ বন্যায় সাধারণ গাড়ি চলাচলের রাস্তাঘাট ছাড়াও তলিয়ে যায় পাতাল রেলপথগুলো। অনেক রেলস্টেশনে মানুষজন আটকা পড়েছিলেন। দমকল বিভাগের কর্মীদের পাতাল স্টেশনগুলোর ভেতর ও প্রবেশপথ থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে দেখা যায়। 

কুইন্স কাউন্টিতে একটি ভবনের পার্শ্ব দেয়াল আংশিক ধসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন করোনায় ৮৬ বছর বয়সী এক মহিলার লাশ উদ্ধার করেছে দমকল কর্মীরা। অনেক প্রবাসীর বাসার বেসমেন্টে পানি উঠে। ইউনিভার্সিটির আবাসিক এলাকার অনেক বেসমেন্ট সয়লাব হয়ে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সরিয়ে অডিটরিয়ামে অবস্থানের নির্দেশ দেয়া হয়। 

উল্লেখ্য, বুধবার দিনভর বৃষ্টি ঝরবে বলে আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিলেও বাস্তবে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটান, কুইন্স এবং ব্রুকলীনে সন্ধ্যার আগে তেমন কিছু না ঘটায় সকলেই ভেবেছিলেন যে, আবহাওয়ার বৈরিভাবে হয়তো কেটে গেছে। কিন্তু সন্ধ্যা ৬ টার পরই চেহারা পাল্টে যায় এই সিটির। প্রবল বর্ষণে লোকজন জিম্মি হয়ে পড়লেও প্রথমে সকলেই তা স্বাভাবিক বর্ষণ হিসেবে মনে করেন। কিন্তু রাত ৯টার পর তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। অর্থাৎ সড়ক-মহাসড়কে হাঁটু পানি জমে যায়। গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের লেনের গাড়িতে ধাক্কা খায়। এভাবে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ একদিকে অবিশ্বাস্য বৃষ্টি, অপরদিকে মহাসড়ক থমকে দাঁড়ানো-যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলেছে এ তাণ্ডব। হতাহতদের মধ্যে কোন বাংলাদেশী নেই বলে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ পাওয়া সংবাদে জানা গেছে। সকলেই আগের রাতের ভয়ংকর পরিস্থিতিকে দু:স্বপ্ন মনে করছেন। তা ভেবেই নবউদ্যমে জীবন-যাপনে ফিরতে চাচ্ছেন। পাতাল ট্রেনগুলোও সচল হয়েছে। গণ-পরিবহণ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরেছে বৃহস্প্রতিবার দুপুরের মধ্যে। তবে নিউয়ার্ক এয়ারপোর্ট পানিতে সয়লাব হওয়ায় শতশত ফ্লাইট বাতিল করার জট খুলতে বেশ কদিন সময় লাগবে বলে জানান স্থানীয় কর্মকর্তারা। 

উল্লেখ্য, করোনার মহামারিতে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় পড়া নিউইয়র্ক সিটি ঘুরে দাঁড়ানোর সময়েই আচমকা এই বন্যায় থমকে দাঁড়ানোর পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল। 

এই বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপনের জন্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো। কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ক্ষতির পরিমাণ চূড়ান্ত করতে। তবে যাদের বেসমেন্ট ডুবে গিয়েছিল সে সব প্রবাসীকেও ক্ষতির সইতে হবে বড় অংকের। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন
 

এই বিভাগের আরও খবর